জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“এই ধারাবাহিকটাই জিতুর জীবনের অভি’শপ্ত অধ্যায়” নেটিজেনদের মন্তব্য সরগরম সমাজ মাধ্যম! দিতিপ্রিয়ার সঙ্গে দ্বন্দ্বের পর পায়েলের সঙ্গে প্রকাশ্য বচসা, তার মাঝেই শিরিনের ‘লাভ’ রিঅ্যাক্ট ঘিরে নতুন জল্পনা! তবে কি সত্যিই ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ হয়ে উঠছে জিতু কমলের কেরিয়ারে ধাক্কা?

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যু এখনও যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না টলিপাড়ার মানুষ। হঠাৎ ঘটে যাওয়া সেই দুর্ঘটনা বাংলা ইন্ডাস্ট্রিকে নাড়িয়ে দিয়েছে ভিতর থেকে। সহকর্মী, বন্ধু থেকে শুরু করে দর্শক সবাই এখনও শোকাহত। এই ঘটনার পর থেকেই একাধিক প্রশ্ন উঠেছে শুটিং সেটের নিরাপত্তা নিয়ে। অনেকেই সরব হয়েছেন, দাবি তুলেছেন দায়বদ্ধতার। সেই আবহেই ধীরে ধীরে সামনে আসতে শুরু করে শিল্পীদের প্রতিবাদ, ক্ষোভ এবং আবেগের বহিঃপ্রকাশ।এই প্রতিবাদের মধ্যেই আলাদা করে নজর কেড়েছিলেন জিতু কমল।

নাগরিক সমাজের ডাকা মিছিলে সরাসরি না গিয়েও তিনি নিজের মতো করে প্রতিবাদ জানান। টেকনিশিয়ান্স স্টুডিয়োতে বসে নিজের ছবিতে মালা পরিয়ে, পাশে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ছবিতেও মালা দিয়ে একটি ছবি পোস্ট করেন। তাঁর এই পদক্ষেপ অনেকের কাছে ছিল প্রতিবাদের এক অন্যরকম ভাষা কেউ সমর্থন করেছেন, কেউ আবার প্রশ্ন তুলেছেন।

জিতুর দাবি ছিল, আর্টিস্টস ফোরামের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তিনি এমনটা করেছেন, যাতে ইন্ডাস্ট্রির সমস্যাগুলো সামনে আসে।তবে এই পোস্ট থেকেই শুরু হয় বড়সড় বিতর্ক। একই ধারাবাহিকে কাজ করা পায়েল দে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তোলেন রাহুলের সেই মালা দেওয়া ছবিটি নাকি পরে স্টুডিয়োর এক কোণে পড়ে ছিল, যেটি অন্যরা যত্ন করে তুলে রাখেন।

তাঁর এই মন্তব্যে কার্যত আগুনে ঘি পড়ে। জবাবে জিতু জানান, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই ছবিটি সেখানে রেখে এসেছিলেন, যাতে বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিত দেন, তাঁকে টার্গেট করা হচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি মন্তব্যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সোশ্যাল মিডিয়াতেই শুরু হয় তীব্র বাকযুদ্ধ।এই ঘটনার পরই আবার সামনে আসে পুরনো এক অধ্যায়।

এর আগেও একই ধারাবাহিকের সেটে দিতিপ্রিয়া রায়-এর সঙ্গে জিতুর মতবিরোধের খবর প্রকাশ্যে এসেছিল। সেই সময় শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ধারাবাহিক ছেড়েছিলেন দিতিপ্রিয়া। নতুন করে পায়েলের পোস্টে দিতিপ্রিয়ার ‘লাইক’ এবং বর্তমান নায়িকা শিরিন পাল-এর ‘লাভ রিয়্যাক্ট’ অনেকের নজর কেড়েছে। ফলে অনেকেই মনে করছেন, ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে একটা অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে চলে আসছে।সব মিলিয়ে এই ধারাবাহিককে ঘিরে একের পর এক বিতর্কে এখন প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষও।

অনেকেই বলছেন, এই প্রজেক্ট যেন জিতু কমলের জীবনে এক অদ্ভুত চাপ তৈরি করেছে প্রতিবারই কোনও না কোনও সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁকে। আবার অন্য একাংশের মত, জিতু নিজের মতো করে কাজ করতে চান, নিজের অবস্থান স্পষ্ট রাখতে চান বলেই বারবার বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছেন। প্রতিবাদ জানানোর সাহসই হয়তো তাঁকে আলাদা করে চিহ্নিত করছে, কিন্তু সেই কারণেই তাঁকে বেশি সমালোচনার মুখেও পড়তে হচ্ছে। শোক, প্রতিবাদ আর ব্যক্তিগত মতবিরোধ সব মিলিয়ে এই ঘটনা যেন টলিপাড়ার অন্দরমহলের এক জটিল বাস্তবতাকেই সামনে এনে দিল।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page