১৯৯২ সালে, খুব ছোট বয়সে বাবা-মাকে হারান হিরণ চট্টোপাধ্যায়। তাঁদের মৃত্যু ছিল প্রায় বিনা চিকিৎসায়। সেই দুঃখ এখনও মনে গভীর দাগ রেখে গেছে। হিরণ মনে করেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যদি ভালো হত, তাহলে হয়তো বাবা-মা বাঁচতে পারতেন। শ্যামপুরের বিজেপি প্রার্থী হিরণ চট্টোপাধ্যায় এবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তিনি জয়ী হলে শ্যামপুরে একটি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল নির্মাণ করবেন, যাতে আর কেউ বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ না করে।
হিরণ জানান, ১৯৯২ সালে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা খুবই খারাপ ছিল। তিনি বলেন, “আমরা গরিব ছিলাম। বাবা-মাকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও কোনো চিকিৎসা পাওয়া যায়নি। আমার বাবা-মা মারা গিয়েছিল একেবারে বিনা চিকিৎসায়। সেই স্মৃতি এখনও আমাকে তাড়া করে।” তিনি আরও বলেন, “আজও একই অবস্থা। কোনো উন্নতি হয়নি।” এই কারণেই তিনি শ্যামপুরে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়ার পরিকল্পনা করছেন, যাতে এলাকার মানুষ উপকৃত হতে পারেন এবং বিনা চিকিৎসায় প্রাণ না হারায়।
হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার কিছুটা বিতর্কিতও হয়েছে। জানুয়ারি মাসে দ্বিতীয় বিয়ে করায় তিনি আইনি জটিলতায় পড়েছিলেন। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছিল। তবে এসব বিতর্ক সত্ত্বেও, বিজেপি তাকে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হাওড়া জেলার শ্যামপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে। দলের উচ্চ নেতৃত্ব হিরণের উপর আস্থা রেখেছে এবং তার প্রার্থীতালিকায় নাম ঘোষণা করেছে।
শ্যামপুরের মানুষ তার প্রার্থীত্বে ভরসা রেখেছে। হিরণ ইতিমধ্যে প্রচার শুরু করেছেন। গত শনিবার, অমিত শাহ শ্যামপুরে একটি রোড শো করেছিলেন, যেখানে হিরণের প্রচারের সমর্থনে বহু মানুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন। একদিকে, হিরণের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নদেবাসী জানা। এখন দেখার বিষয়, কে শেষ পর্যন্ত এই নির্বাচনে জয়ী হন।
আরও পড়ুনঃ “এখন অভ্যাস হয়ে গেছে, ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠেই…” ১৪ ঘণ্টা শ্যুটিং সেটে কাটিয়েও মাধ্যমিকের অসাধারণ ফলাফল! ১৫ বছর বয়সে দারুন সাফল্য অর্জন ‘কুসুম’ তনিষ্কার! বাবার কাছ থেকে পেল কী বিশেষ উপহার?
শ্যামপুরের মানুষ এখন তাকিয়ে আছে, হিরণের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়ে ওঠে কি না। তিনি বলেছেন, “বিনা চিকিৎসায় আর কোনো মানুষ মারা যাবে না।” এই ঘোষণার মাধ্যমে, হিরণ নিজের রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্ত করেছেন এবং শ্যামপুরের মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে সফল হয়েছেন।
