জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

নায়িকা হিসেবেই শুরু, তবু কেন বারবার পার্শ্ব চরিত্রে সোমু সরকার? ‘গোধূলি আলাপ’-এর নায়িকা ‘নোলক’ থেকে ‘পর্ণা’ ও ‘রাঙামতি’তে পার্শ্বচরিত্র, এটা কি শুধুই টাইপকাস্টিং, নাকি ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলের অদৃশ্য সমীকরণের শিকার তিনি?

বিনোদন জগতে সবসময় যে শুধুমাত্র নায়ক-নায়িকারাই দর্শকের মন জয় করেন, তা কিন্তু নয়। অনেক সময় পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করা শিল্পীরাই তাঁদের অভিনয় দক্ষতা, স্বাভাবিক অভিব্যক্তি এবং বাস্তবসম্মত উপস্থাপনার মাধ্যমে দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে নেন। ছোট পর্দায় এমন বহু অভিনেতা-অভিনেত্রী রয়েছেন, যাঁরা প্রধান চরিত্রে না থেকেও জনপ্রিয়তার নিরিখে কোনও অংশে কম নন। বরং অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের অভিনয়ই গল্পকে আরও জীবন্ত করে তোলে।

এই তালিকায় সাম্প্রতিক সময়ে যাঁর নাম উঠে আসছে, তিনি হলেন অভিনেত্রী সোমু সরকার। বাংলা টেলিভিশনের দর্শকদের কাছে তিনি এখন বেশ পরিচিত মুখ। বিশেষ করে স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘গোধূলি আলাপ’-এ ‘নোলক’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর স্বাভাবিক অভিনয় এবং সংলাপ বলার ভঙ্গি খুব সহজেই দর্শকের মনে দাগ কেটে যায়। প্রথম ধারাবাহিকেই এমন সাড়া পাওয়া খুব একটা সহজ নয়, কিন্তু সোমু সেই কঠিন কাজটি খুব সহজেই করে ফেলেছিলেন।

অভিনয় জীবনের শুরুটাও বেশ উল্লেখযোগ্য। রাজ চক্রবর্তীর প্রোডাকশন হাউসের হাত ধরেই তাঁর যাত্রা শুরু। ‘গোধূলি আলাপ’-এ বর্ষীয়ান অভিনেতা কৌশিক সেনের বিপরীতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পাওয়া যে কোনও নবাগত অভিনেত্রীর কাছেই বড় প্রাপ্তি। অসমবয়সী প্রেমের গল্পে ‘নোলক’ চরিত্রটি যেমন আলাদা মাত্রা পেয়েছিল, তেমনই সোমুর অভিনয় সেই চরিত্রকে আরও বাস্তব করে তুলেছিল। ব্যক্তিগত জীবনে দক্ষিণ দিনাজপুরের মেয়ে সোমু পড়াশোনা করেছেন কলকাতার লেডি ব্রেবোর্ন কলেজে। অভিনয়ের পাশাপাশি মডেলিং এবং সোশ্যাল মিডিয়াতেও তিনি বেশ সক্রিয়।

তবে এখানেই উঠছে এক বড় প্রশ্ন। ‘গোধূলি আলাপ’-এর মতো ধারাবাহিকে নায়িকা হয়ে আত্মপ্রকাশ করার পরেও কেন বারবার পার্শ্ব চরিত্রে দেখা যাচ্ছে সোমু সরকারকে? ‘পর্ণা’ ধারাবাহিক থেকে শুরু করে ‘রাঙামতি তীরন্দাজ’ ছোট পর্দায় একের পর এক প্রজেক্টে কাজ করলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তিনি যেন ‘সবার মেয়ে’, ‘পরিবারের সদস্য’ বা সাপোর্টিং রোলেই সীমাবদ্ধ থাকছেন। দর্শকদের একাংশের মতে, তাঁর মতো দক্ষ অভিনেত্রীর আরও বেশি প্রধান চরিত্রে সুযোগ পাওয়া উচিত ছিল। কারণ তিনি ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছেন যে বড় দায়িত্ব সামলানোর ক্ষমতা তাঁর রয়েছে।

অনেকে মনে করছেন, বাংলা টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে টাইপকাস্টিং-এর একটা প্রবণতা কাজ করে। একবার কোনও নির্দিষ্ট ইমেজ তৈরি হয়ে গেলে, সেই গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। সোমুর ক্ষেত্রেও কি তাই হচ্ছে? নাকি তিনি নিজেই সচেতনভাবে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে নিজের দক্ষতাকে আরও পরিণত করতে চাইছেন? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর সময়ই দেবে। তবে এটা নিশ্চিত, তিনি যে প্রতিটি চরিত্রেই নিজের ছাপ রেখে যাচ্ছেন, তা দর্শকরা ভালোভাবেই লক্ষ্য করছেন। আর সেই কারণেই, নায়িকা হোক বা পার্শ্ব চরিত্র সোমু সরকার আজ ছোট পর্দার এক নির্ভরযোগ্য মুখ।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page