অভিনেত্রী মাদলসা শর্মা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁর শ্বশুরবাড়ির অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন, যা আজকের সমাজে অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণাদায়ক। তাঁর কথায়, পরিবার পাশে থাকলে জীবন অনেক সহজ হয়ে ওঠে, আর সেই উদাহরণ তিনি নিজের জীবন থেকেই দিয়েছেন। বিয়ের পর সাধারণত অনেক নারীর ওপর নানা রকম সামাজিক চাপ তৈরি হয়, কিন্তু মদালসার ক্ষেত্রে চিত্রটা একেবারেই আলাদা। তাঁর শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা সবসময় তাঁকে বুঝেছেন এবং কখনও কোনও কিছু চাপিয়ে দেননি। এই সমর্থনই তাঁকে নিজের মতো করে বাঁচার স্বাধীনতা দিয়েছে।
বিশেষ করে তিনি তাঁর শ্বশুর মিঠুন চক্রবর্তী সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন, তা বেশ চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। মদালসার মতে, মিঠুন একজন অত্যন্ত উদারচেতা মানুষ এবং প্রকৃত অর্থেই নারীবাদী মানসিকতার অধিকারী। তিনি কখনও পুত্রবধূর উপর পোশাক, কাজ বা ব্যক্তিগত জীবনের বিষয়ে কোনও মত চাপিয়ে দেননি। এমনকি নাতি নাতনি নেওয়ার বিষয়েও কোনও চাপ দেননি, যা অনেক পরিবারের ক্ষেত্রে আজও একটি বড় সামাজিক ইস্যু। এই মানসিকতাই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।
শুধু শ্বশুরই নন, তাঁর শাশুড়ি যোগিতা বালি এর কাছ থেকেও একই রকম ভালোবাসা এবং স্বাধীনতা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন মদালসা। পরিবারের এই ইতিবাচক পরিবেশ তাঁকে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে সাহায্য করেছে। তিনি জানান, ছোটপর্দায় কাজ করার ক্ষেত্রে তাঁর পরিবারের কোনও আপত্তি নেই, বরং তাঁকে সবসময় উৎসাহিত করা হয়েছে। এই সমর্থন একজন শিল্পীর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় এবং কাজের প্রতি আরও মনোযোগী করে তোলে।
নিজের স্বামী মহাক্ষয় চক্রবর্তী ওরফে মিমোকে নিয়েও মদালসা ভীষণ প্রশংসা করেছেন। তাঁর কথায়, শুটিংয়ের ব্যস্ততা এবং দীর্ঘ সময় কাজের পরেও মিমো সবসময় তাঁকে বুঝেছেন এবং পাশে থেকেছেন। দেরিতে বাড়ি ফেরা বা কাজের চাপ নিয়ে কখনও কোনও অভিযোগ করেননি তিনি। এই পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সম্মানই তাদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে। মদালসার মতে, আজ তিনি যতটা সফল, তার পিছনে তাঁর স্বামীর অবদান অনেক বড়।
আরও পড়ুনঃ “জীবনের সেই পাতাগুলো আমি নিজেই ছিঁড়ে ফেলেছি…” শৈশব আর আক্ষেপের স্মৃতিতে ভাসলেন শ্রুতি দাস! আবেগঘন পোস্টে মন ছুঁলেন অভিনেত্রী!
ছোটপর্দায় কাজ করার গুরুত্ব নিয়েও মিঠুন চক্রবর্তী তাঁকে পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মদালসা। তাঁর মতে, টেলিভিশন খুব দ্রুত দর্শকের কাছে পৌঁছে দেয় একজন অভিনেতাকে। জনপ্রিয় ধারাবাহিক অন্নপূর্ণাতে অভিনয় করে যে খ্যাতি তিনি পেয়েছেন, তা বহু ছবির সমান বলেই মনে করেন তিনি। পাশাপাশি, তিনি জানিয়েছেন তাঁদের পরিবার খুবই সাধারণ জীবনযাপন পছন্দ করে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় লোকদেখানো ভালোবাসা প্রদর্শনে বিশ্বাসী নন। এই সরলতাই তাঁদের সম্পর্ককে আরও বাস্তব এবং গভীর করে তুলেছে।
