জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

বাম ছাড়া নেই গতি! তৃণমূলের পতনে খুশি হলেও বিজেপির বিরুদ্ধে মতাদর্শের লড়াইয়ে সৌরভ পালোধীর ভরসা সেই বামেদের উপরেই!

বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর এক আসন ফিরে পাওয়াকেও বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন অভিনেতা ও বামপন্থী সমর্থক মহলের একাংশ। তাঁর মতে, ২০১১ সালে বাম সরকারের পতনের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। ২০১৬ সালে বামেদের ঘুরে দাঁড়ানোর কিছু আশা থাকলেও তা সফল হয়নি। ২০২১ সালে শূন্য হয়ে যাওয়ার পর এ বার একটি আসন ফিরে পাওয়া তাঁদের কাছে ইতিবাচক বার্তা। তিনি বলেন, ২০১১ সালে মানুষ পরিবর্তনের আশায় তৃণমূলকে ভোট দিয়েছিল, সেটাকে তিনি ভুল মনে করেন না। তবে সেই সময় থেকেই রাজ্যে বিজেপির উত্থানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল বলেও তাঁর দাবি। তাঁর মতে, তৃণমূলের রাজনীতির কারণেই বিজেপি বাংলায় ধীরে ধীরে জায়গা করে নিতে পেরেছে। আগে বিজেপিকে অনেকেই শুধুই দিল্লির দল বলে ভাবতেন, কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যায় সময়ের সঙ্গে।

তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিজেপি এবং তৃণমূল দুই দলেরই রাজনীতির বিরোধিতা করেন তিনি। ধর্মীয় বিভাজন, জাতপাতের রাজনীতি এবং মহিলাদের নিয়ে বিতর্কিত মনোভাবের বিরুদ্ধে তিনি সরব। তাঁর বক্তব্য, ধর্ম ব্যক্তিগত বিষয় হওয়া উচিত, সেটাকে রাজনৈতিক স্লোগানে পরিণত করা ঠিক নয়। ‘জয় শ্রীরাম’, ‘জয় মা কালী’ বা ‘আল্লা হু আকবর’কে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি জানান, তাঁর নিজের পরিবারে ধর্মীয় আচার পালিত হলেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে পুজো করেন না। কিন্তু সেই ব্যক্তিগত বিশ্বাসকে রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া বিপজ্জনক বলেই তাঁর মত। পশ্চিমবঙ্গে একসময় সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে উৎসব পালন করতেন, সেই পরিবেশ আবার ফিরিয়ে আনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মনে করেন।

বামেদের সমর্থনের কারণেই বিজেপি শক্তি পেয়েছে, এমন অভিযোগও উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষ পরিস্থিতি দেখে ভোট দেন এবং সময়ের সঙ্গে তাঁদের মত বদলাতেই পারে। কেউ হয়তো আগে বামেদের ভোট দিয়েছেন, পরে হতাশ হয়ে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন, সেটা গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে মানুষকে সঠিক রাজনৈতিক অবস্থান বোঝানোর দায়িত্ব রাজনৈতিক দলেরই বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, ২০৩১ সালে যদি বামেরা ক্ষমতায় ফেরে, সেই সাধারণ মানুষই আবার ভোট দেবেন। কিন্তু দলের নেতারা মত বদলালে সেটাই বড় সমস্যা তৈরি করে। ইতিমধ্যেই টলিউডের অনেক পরিচিত মুখের অবস্থান বদলাতে দেখা যাচ্ছে বলেও তিনি কটাক্ষ করেন। তাঁর অভিযোগ, কিছু মানুষ সব সময় ক্ষমতাসীন দলের সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং এখন বিজেপির দিকেও ঝুঁকছেন।

তৃণমূলের পতন তাঁকে আনন্দ দিয়েছে বলেও তিনি খোলাখুলি জানিয়েছেন। কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরেই প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতা করেছেন। তাঁর মতে, এখন বিজেপির সঙ্গে সরাসরি মতাদর্শের লড়াই হবে এবং সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, আগে তৃণমূলের আড়ালে বিজেপির প্রভাব ছিল, এখন তা স্পষ্টভাবে সামনে আসবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বামেরা এখনও সংগঠন হিসেবে সক্রিয় রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের সমস্যায় পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। অন্যদিকে তৃণমূলের অনেক নেতা-কর্মী ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক অবস্থান বদলাতে শুরু করেছেন বলেও তাঁর দাবি। কেউ কেউ নিজেদের বাঁচাতেই এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি কিছু দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় আলোচনা শুরু হয়েছে বলেও তিনি জানান।

বাম সরকারের বিদায়ের সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে এতটা ক্ষোভ দেখা যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, সেই সময় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য নিজের ভুল স্বীকার করে মাথা উঁচু রেখেই পদত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু এখন তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মানুষ সরব হয়ে উঠেছে বলে তাঁর দাবি। শেষ পর্যন্ত তিনি বলেন, বাংলার মানুষ এখনও সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করেন এবং সাম্প্রদায়িক রাজনীতি দীর্ঘদিন মেনে নেবেন না। তিনি নিজের কাজের মাধ্যমে সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দিতে চান বলেও জানিয়েছেন। পাশাপাশি মনে করিয়ে দেন, ধর্মীয় বিভাজনের বিরুদ্ধে একসময় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মন্তব্যে বাংলার মানুষ সমর্থন জানিয়েছিল। সেই কারণেই এখনও পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এবং তাদের গণতান্ত্রিক চেতনার উপর তাঁর ভরসা রয়েছে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page