পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর নতুন করে আলোচনায় উঠে এলেন গায়ক কবীর সুমন এবং লেখিকা তসলিমা নাসরিন। এক সাক্ষাৎকারে কবীর সুমন জানান, তিনি কখনও তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন না এবং নিজেকে তৃণমূলপন্থী বলেও মনে করেন না। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে অনেক অনুরোধ করে রাজনীতিতে এনেছিলেন। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় নানা আলোচনা ও সমালোচনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলতে থাকেন, এতদিন যিনি প্রকাশ্যে তৃণমূলের প্রশংসা করেছেন, তিনি এখন কেন ভিন্ন অবস্থান নিচ্ছেন। এই আবহেই সরব হন তসলিমা নাসরিন। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি কবীর সুমনের পুরনো বক্তব্য তুলে ধরে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। সেই পোস্ট ঘিরেই নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে।
তসলিমা নাসরিন তাঁর পোস্টে কবীর সুমনের বহু পুরনো মন্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, একসময় কবীর সুমন বলেছিলেন যে ভবিষ্যতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে মন্দিরও তৈরি হতে পারে। সেই বক্তব্য উল্লেখ করে তসলিমা প্রশ্ন তোলেন, এমন মন্তব্য করতেও কি তাঁকে কেউ অনুরোধ করেছিলেন? ব্যঙ্গের সুরে তিনি লেখেন, শুধুমাত্র কারও চাপে পড়ে এমন অতিরিক্ত প্রশংসা করা সম্ভব কি না তা মানুষই বিচার করবে। তাঁর এই মন্তব্য দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে আবার সেই পুরনো ভিডিও ও বক্তব্য খুঁজে শেয়ার করতে শুরু করেন। ফলে নতুন করে চর্চায় উঠে আসে কবীর সুমনের রাজনৈতিক অবস্থান ও অতীত মন্তব্য।
এখানেই থেমে থাকেননি তসলিমা। তিনি আরও বলেন, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের সময় কবীর সুমন প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে গান করেছিলেন। করোনা পরিস্থিতির সময়ও তিনি রাজ্য সরকারের কাজের প্রশংসা করেছিলেন বলে দাবি করেন লেখিকা। পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে বিশেষ রাগ তৈরি করে খেয়াল গাওয়ার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন। শুধু তাই নয়, ‘মমতার জন্য’ নামে গান লেখার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তসলিমার প্রশ্ন, এই সব কাজের ক্ষেত্রেও কি তাঁকে জোর করা হয়েছিল? তাঁর এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে আরও জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বিষয়টিকে রাজনৈতিক অবস্থান বদলের ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন।
ফেসবুক পোস্টে তসলিমা আরও কড়া ভাষায় কটাক্ষ করেন কবীর সুমনকে। তিনি লেখেন, একসময় মাথায় সাদা টুপি পরে যিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করেছিলেন, সেই অবস্থান থেকে এখন পুরোপুরি ভিন্ন কথা বলছেন তিনি। ব্যঙ্গ করে তসলিমা বলেন, যদি কেউ শুধু অনুরোধ করলেই রাজনৈতিক অবস্থান বদলে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে আবার অন্য দলে যেতেও সমস্যা কোথায়? তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবেই উঠে আসে রাজনৈতিক মত বদল নিয়ে সন্দেহ। এই মন্তব্য ঘিরে অনলাইনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। কেউ তসলিমার বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন, আবার কেউ কবীর সুমনের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষেও কথা বলেছেন। ফলে বিতর্ক আরও বেড়েছে।
আরও পড়ুনঃ “সব শেষ, বিশ্বাসঘা*তকেরা পিছন থেকে ছু’রি মে’রেছে” রণজয়ের পোস্ট ঘিরে তোলপাড়, বিয়ের আড়াই মাসেই কী ঘটল অভিনেতার জীবনে?
অন্যদিকে কবীর সুমন একই সাক্ষাৎকারে জানান, সাংসদ হিসেবে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার পরই তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেন। তিনি বলেন, আগে কখনও কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য ছিলেন না এবং এখনো নিজেকে নির্দিষ্ট কোনও দলের সঙ্গে যুক্ত মনে করেন না। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন যে এবারের নির্বাচনে তিনি তৃণমূলকে ভোট দিয়েছেন। তবে রাজ্যের কাজকর্মে তিনি পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন বলেও জানিয়েছেন। তাঁর এই বক্তব্যের পর অনেকের ধারণা, তিনি আবার বামপন্থী রাজনীতির দিকে ঝুঁকছেন। সেই কারণেই তসলিমার মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা আরও বেড়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই বিতর্ক এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
