জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“সব শেষ, বিশ্বাসঘা*তকেরা পিছন থেকে ছু’রি মে’রেছে” রণজয়ের পোস্ট ঘিরে তোলপাড়, বিয়ের আড়াই মাসেই কী ঘটল অভিনেতার জীবনে?

বিয়ের মাত্র আড়াই মাসের মধ্যেই অভিনেতা রণজয় বিষ্ণুর একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসেই ধুমধাম করে বিয়ে করেছিলেন রণজয় ও অভিনেত্রী শ্যামৌপ্তি। টলিউডের এই জনপ্রিয় জুটিকে নিয়ে অনুরাগীদের আগ্রহ বরাবরই বেশি। কিন্তু আচমকাই গতরাতে রণজয়ের একটি ইন্সটাগ্রাম স্টোরি দেখে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে নেটমাধ্যমে। অভিনেতা সেখানে লেখেন, “সব শেষ, এত তাড়াতাড়ি সবটা শেষ হবে ভাবতে পারিনি। বিশ্বাসঘাতকেরা এভাবেই পিছন থেকে ছু*রি মেরেছে চিরকাল।” এই কয়েকটি লাইন প্রকাশ্যে আসতেই অনেকেই মনে করতে শুরু করেন, ব্যক্তিগত জীবনে কোনও বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে অভিনেতার। বিশেষ করে সদ্য বিয়ের পর এমন পোস্ট দেখে শঙ্কা আরও বেড়ে যায়।

রণজয়ের পোস্টে আরও লেখা ছিল, “শুধু নিজেদের স্বার্থ পূরণের জন্য মানুষ খুন করতেও হাত কাঁপে না এদের।” অভিনেতার এই মন্তব্য ঘিরে মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় নানা জল্পনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলতে থাকেন, তবে কি বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই রণজয় ও শ্যামৌপ্তির সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছে? কেউ কেউ আবার ধরে নেন, অভিনেতার ব্যক্তিগত জীবনে বড় কোনও আঘাত এসেছে বলেই তিনি এতটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন। ‘বিশ্বাসঘাতকতা’, ‘খুন’ কিংবা ‘সব শেষ’ শব্দগুলো ঘিরে রাতারাতি নানা আলোচনা শুরু হয়। অনুরাগীদের একাংশ তো রীতিমতো চিন্তায় পড়ে যান। কারণ এর আগে প্রকাশ্যে কখনও এমন হতাশ বা ক্ষুব্ধ পোস্ট করতে দেখা যায়নি অভিনেতাকে।

তবে পরে জানা যায়, রণজয়ের এই পোস্টের সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য জীবনের কোনও সম্পর্ক নেই। শ্যামৌপ্তির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বা সংসারে কোনও সমস্যা হয়নি বলেই ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর। আসলে একটি রাজনৈতিক ঘটনার জেরেই এতটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন অভিনেতা। সম্প্রতি বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী রাজনৈতিক হিংসার ঘটনায় প্রাণ হারান। সেই খবর সামনে আসার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন রণজয়। প্রিয়জনকে হারানোর যন্ত্রণা এবং ঘটনার নৃশংসতা তাঁকে নাড়িয়ে দেয় বলেই মনে করা হচ্ছে। সেই আবেগ থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক ভাষায় প্রতিবাদ জানান অভিনেতা। ফলে যে পোস্ট ঘিরে ব্যক্তিগত জীবনের জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তার আসল কারণ ছিল সম্পূর্ণ অন্য।

ঘটনার পর থেকেই রণজয়ের অনুরাগীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। কারণ অনেকেই ভেবেছিলেন, বিয়ের এত কম সময়ের মধ্যেই হয়তো সম্পর্ক নিয়ে কোনও অশান্তি শুরু হয়েছে। টলিউডের এই জুটি বিয়ের পর থেকেই প্রায়শই চর্চায় থেকেছেন। ভালোবাসা দিবসে তাঁদের বিয়ে নিয়েও ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। তাই রণজয়ের হঠাৎ এমন পোস্ট দেখে উদ্বেগ বাড়াটা স্বাভাবিক ছিল। তবে পরে স্পষ্ট হয়ে যায়, শ্যামৌপ্তির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আগের মতোই স্বাভাবিক রয়েছে। অভিনেতার ক্ষোভ ছিল শুধুমাত্র একটি মর্মান্তিক ঘটনার বিরুদ্ধে। অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতেই তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কড়া ভাষা ব্যবহার করেছিলেন।

বর্তমানে রণজয়ের সেই ইন্সটাগ্রাম স্টোরি ঘিরে আলোচনা থামেনি। যদিও অনেকেই অভিনেতার অবস্থানকে সমর্থন করেছেন এবং রাজনৈতিক হিংসার বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিবাদকে গুরুত্ব দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, পোস্টের ভাষা অত্যন্ত আবেগঘন হওয়াতেই ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল। তবে সব বিতর্কের মাঝেও পরিষ্কার, রণজয় ও শ্যামৌপ্তির ব্যক্তিগত জীবনে কোনও ভাঙন ধরেনি। তাঁদের দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিকভাবেই এগোচ্ছে। অভিনেতার এই পোস্ট ছিল সমাজে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ ঘটনার বিরুদ্ধে তাঁর ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও শোকের বহিঃপ্রকাশ। আর সেই কারণেই রাতারাতি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি এতটা আলোচনায় উঠে আসে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page