সৌমিতৃষা কুন্ডু বাংলা টেলিভিশনের অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ। বিশেষ করে ‘মিঠাই’ ধারাবাহিকে তাঁর অভিনয় তাঁকে পৌঁছে দিয়েছিল বাংলার ঘরে ঘরে। হাসিখুশি স্বভাব, সাধারণ মেয়ের ইমেজ এবং দর্শকদের সঙ্গে সহজ যোগাযোগের কারণেই অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন অভিনেত্রী। তবে অভিনয়ের বাইরেও গত কয়েক বছরে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও কম চর্চা হয়নি। সরাসরি রাজনীতিতে যোগ না দিলেও, একাধিক সময়ে তাঁকে তৃণমূল কংগ্রেস-এর বিভিন্ন প্রচারে সক্রিয়ভাবে দেখা গিয়েছে। আর এবার সরকার বদলের পর তাঁর সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
রাজনৈতিকভাবে সৌমিতৃষাকে বরাবরই তৃণমূল ঘনিষ্ঠ বলেই মনে করতেন অনেকেই। ২০২১ সালের পুরভোট থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত, জোড়া ফুলের সমর্থনে তাঁকে সরব হতে দেখা গিয়েছে বহুবার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের প্রশংসাও করেছেন প্রকাশ্যে। দলের প্রচারে অংশ নিয়ে গ্রামে-গঞ্জে ঘুরেছেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন, এমনকি তৃণমূলের বিভিন্ন প্রচারমূলক কর্মসূচিতেও অংশ নিতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। রাজনৈতিক মঞ্চে সরাসরি না উঠলেও, তাঁর অবস্থান যে তৃণমূলের দিকেই ঝুঁকে ছিল, তা নিয়ে খুব একটা সন্দেহ ছিল না রাজনৈতিক মহলের।
বিশেষ করে নির্বাচনী প্রচারের সময় সৌমিতৃষার সক্রিয় উপস্থিতি নজর কেড়েছিল। সাধারণ মানুষের ভালোবাসা পেয়ে আবেগপ্রবণ হয়েছেন বলেও একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন তিনি। গ্রামীণ বাংলার মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে প্রচার চালাতে দেখা গিয়েছিল অভিনেত্রীকে। অনেকেই বলতেন, তিনি শুধু একজন অভিনেত্রী নন, বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর আদর্শে বিশ্বাসী একজন সাংস্কৃতিক মুখ। তাই দীর্ঘদিন ধরে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে দর্শকদের মধ্যেও একটি স্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের একাংশ তাঁকে তৃণমূলপন্থী সেলিব্রিটি হিসেবেই চিনতেন। শুধু তাই নয় ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে তাকে প্রচার করতে দেখা গিয়েছিল।
কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিপুল জয়ের পর ভারতীয় জনতা পার্টি সরকার গঠন করতেই আচমকাই বদলে যায় ছবিটা। নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেওয়ার পর সৌমিতৃষার একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। সেখানে তিনি বিজেপি সরকার এবং শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখেন, নতুন সরকারের হাত ধরে পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়ন, শান্তি ও ইতিবাচক পরিবর্তনের নতুন অধ্যায় শুরু হোক। তাঁর এই বার্তা সামনে আসতেই সমাজমাধ্যমের একাংশ তীব্র কটাক্ষ শুরু করে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, যিনি কিছুদিন আগেও তৃণমূলের প্রচারে এতটা সক্রিয় ছিলেন, তিনিই হঠাৎ করে সরকার বদলাতেই নতুন শাসকদলের প্রশংসায় কেন সরব হলেন?
আরও পড়ুনঃ “দিদিকে বলব, আমি তোকে বুঝে নিচ্ছি”, দিদির নাম ভাঙিয়ে দিগন্তর বিরুদ্ধে হু’মকি দেওয়ার বি’স্ফোরক অভিযোগ পারমিতার! নতুন বিতর্কে সরগরম টলিপাড়া
সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই এই ঘটনাকে “ভোলবদল” বলেই ব্যাখ্যা করছেন। কারও দাবি, ক্ষমতা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অবস্থান বদলে ফেলা এখন অনেক তারকার অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার কেউ কেউ লিখেছেন, রাজনীতির ময়দানে নিরপেক্ষ থাকার বদলে সুবিধামতো অবস্থান নেওয়ার প্রবণতাই নাকি প্রকাশ পেয়েছে অভিনেত্রীর আচরণে। যদিও সৌমিতৃষা নিজে এখনও এই সমালোচনার সরাসরি কোনও জবাব দেননি। তবে তাঁর এই পোস্ট ঘিরে যে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে এখন সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া থেকে টলিপাড়া দুই মহলই। জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ যেমন মানুষের নজরে থাকে, তেমনই রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও যে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও প্রশ্ন থাকে, সেটাও আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল এই ঘটনায়।
