ব্রিগেডে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে শুরু থেকেই ছিল তীব্র কৌতূহল। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারের শপথকে কেন্দ্র করে জমে ওঠে রাজনৈতিক আবহ। এই বিশেষ দিনে উপস্থিত ছিলেন টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখ। সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে নজর কাড়েন সুপারস্টার জিৎ। সাদা পাঞ্জাবি ও রোদচশমা পরে নিরাপত্তা বেষ্টনীতে তাঁকে প্রবেশ করতে দেখা যায়। অনুষ্ঠানস্থলে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আলোচনা। কে কোথায় থাকবেন তা নিয়ে আগে থেকেই ছিল নানা জল্পনা। কিন্তু জিৎ-এর উপস্থিতি অনেককেই অবাক করে দেয়।
বিজেপির রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এই শপথগ্রহণকে ঘিরে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। এর আগেই বঙ্গের নতুন রাজনৈতিক পরিবর্তনকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্ট করেছিলেন জিৎ। তাই তাঁর ব্রিগেডে উপস্থিতি নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে। অনুষ্ঠানে টলিউডের আরও কিছু পরিচিত মুখের উপস্থিতি দেখা যায়। রাজনৈতিক পরিবর্তনের এই সময়ে শিল্পীদের ভূমিকা নিয়েও চলছে আলোচনা। অনেকেই মনে করছেন, টলিউডের একাংশ ধীরে ধীরে নতুন অবস্থান নিচ্ছে। শপথগ্রহণের দিনটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আবহ আরও স্পষ্ট হয়। সব মিলিয়ে এই অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে বহু আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
টলিউডে দীর্ঘদিন ধরেই জিৎকে রাজনীতি থেকে দূরে থাকা একজন তারকা হিসেবে দেখা হয়। তিনি সাধারণত ইন্ডাস্ট্রির সংগঠন বা রাজনৈতিক বিতর্ক থেকে নিজেকে দূরে রাখেন। ফেডারেশন বা ইন্ডাস্ট্রির বৈঠকে তাঁকে খুব কমই দেখা যায়। একাধিক অভ্যন্তরীণ বিতর্ক চললেও তিনি প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি। তাঁর এই নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েই এতদিন আলোচনা চলেছে। অন্যদিকে দেবের মতো অভিনেতারা রাজনৈতিক ভূমিকায় সক্রিয় থেকেছেন। এই প্রেক্ষিতে জিৎ-এর ব্রিগেড উপস্থিতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে তাঁর অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
টলিউডের ইতিহাসে বহু অভিনেতা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তালিকায় রয়েছেন দেব, সোহম, রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, লকেট চট্টোপাধ্যায় সহ আরও অনেকে। অনেকেই সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতেও অংশ নিয়েছেন। কেউ আবার দলীয় প্রচারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এই পরিস্থিতিতে জিৎ-এর উপস্থিতি নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মত অনেকের। তবে তিনি এখনও কোনো রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেননি। তাই বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল আরও বাড়ছে। শিল্পী থেকে রাজনীতির যাত্রা টলিউডে নতুন নয়, সেটাই আবার সামনে এসেছে।
আরও পড়ুনঃ “বিজেপি ও নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা” ভোটের ময়দানে তৃণমূলের হয়ে জোরদার প্রচার, আর সরকার বদলাতেই শুভেন্দু বন্দনায় মমতা পন্থী সৌমিতৃষা কুন্ডু! ক্ষমতা পাল্টাতেই কি বদলে গেল অভিনেত্রীর রাজনৈতিক রং? ‘ভোলবদলে’র তোপ নেটপাড়া জুড়ে!
শপথগ্রহণের পর থেকেই টলিউড ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তুঙ্গে। জিৎ-এর উপস্থিতি কি শুধুই সামাজিক নাকি এর পেছনে অন্য কোনো বার্তা রয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে এখনো পর্যন্ত তাঁর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য আসেনি। অনুষ্ঠান শেষে তাঁকে দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। তবু এই ঘটনা ঘিরে টলিউডে নতুন আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি ভবিষ্যতের কোনো বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে। আবার কেউ কেউ এটিকে শুধুই সৌজন্য উপস্থিতি বলেও মনে করছেন। সব মিলিয়ে বিষয়টি এখনো জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে।
