জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

জিতুকে আনফলো, মনোমালিন্য, সম্পর্কের গুঞ্জন! ‘চিরদিনই’-র সেটে কী ঘটেছিল, কেন শেষের দিকে তৈরি হয়েছিল দূরত্ব? “আমি বলবই, কেউ আটকাতে পারবে না” ধারাবাহিক শেষ হতেই, অবশেষে মুখ খুললেন শিরিন পাল!

বাংলা টেলিভিশনের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ধারাবাহিকগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ (Chirodini Tumi Je Amar)। শুরু থেকেই এই মেগাকে ঘিরে একের পর এক বিতর্ক সামনে এসেছে। বিশেষ করে অভিনেতা জিতু কমলকে কেন্দ্র করেই বারবার তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা। প্রথমে ধারাবাহিকের নায়িকা দিতিপ্রিয়া রায় মাঝপথে সিরিয়াল ছেড়ে দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এরপর নতুন করে চর্চা শুরু হয় শিরিনকে ঘিরে। কারণ সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যায়, তিনি জিতুকে আনফলো করে দিয়েছেন। সেই ঘটনা ঘিরে অনুরাগীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছিল নানা জল্পনা। যদিও সেই সময় প্রকাশ্যে কেউই এ নিয়ে মুখ খোলেননি।

সম্প্রতি সিটি সিনেমাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রথমবার এই প্রসঙ্গে কথা বলেন শিরিন। তিনি জানান, “বিশ্বাস করো কিছুই না, একেবারেই কিছু না। এবার কাজ করতে গেলে তো মনোমালিন্য হতেই পারে। আমরা শেষ দিনও একসঙ্গে মজা করেছি, হাসিঠাট্টা করেছি, একেবারেই কোনো সমস্যা নেই। ফোনেও কথা হয়েছে আমার আর জিতুদার। আমরা বসে আলোচনা করেছি, গল্প করেছি।” অভিনেত্রীর কথায়, কাজের জায়গায় ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে তা নিয়ে বাইরে যেভাবে আলোচনা হয়েছে, বাস্তবে পরিস্থিতি ততটা গুরুতর ছিল না বলেই দাবি তাঁর। সাক্ষাৎকারে বেশ স্বাভাবিক ভাবেই পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন তিনি।

শিরিন আরও বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়া আছে বলে মানুষের নিজের মতো করে একটা ধারণা তৈরি করে নেবে, সেটাই খুব স্বাভাবিক। কিন্তু বিশ্বাস কর, কোনো সমস্যা একেবারেই নেই। না আমি এটা নিয়ে কথা বলেছি। না জিতুদা এটা নিয়ে কথা বলেছে।” তিনি স্পষ্ট জানান, যদি সত্যিই বড় কোনও সমস্যা থাকত, তাহলে নিশ্চয়ই সেটি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতেন। অভিনেত্রীর ভাষায়, “সত্যি সমস্যা থাকলে তো আমরা বলতাম, দুজনেই বলতাম। কারণ আমি বরাবরই ভীষণ স্পষ্টবক্তা, বিশেষ করে আমি যা বলতে চাই তা নিয়ে। আমার যদি কিছু বলার থাকে আমি বলবই ভাই। আমাকে কেউ আটকাতে পারবে না।” তাঁর এই মন্তব্যের পর জিতু ও শিরিনের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে তৈরি হওয়া জল্পনায় কিছুটা হলেও ইতি পড়েছে।

এই ধারাবাহিককে ঘিরে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। সিরিয়াল শুরু হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই দিতিপ্রিয়া রায়ের একটি ফেসবুক পোস্ট ব্যাপক আলোড়ন ফেলে দেয়। সেখানে অভিনেত্রী দাবি করেছিলেন, একবার মাকে ডাক্তার দেখাতে যাওয়ার কথা বললে জিতু নাকি তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, “কেন প্রেগন্যান্ট?” পাশাপাশি এআই দিয়ে তৈরি তাঁদের চুমুর ভিডিওও তাঁকে পাঠানো হত বলে অভিযোগ করেছিলেন দিতিপ্রিয়া। অভিনেত্রীর বক্তব্য ছিল, এমন আরও কিছু আচরণে তিনি অস্বস্তি অনুভব করেছিলেন। যদিও পরে জিতুও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি দু’জনের ব্যক্তিগত চ্যাটের স্ক্রিনশট শেয়ার করে দাবি করেন, তাঁর কথায় কখনও আপত্তি জানাননি দিতিপ্রিয়া এবং সবটাই মজার ছলেই নেওয়া হয়েছিল।

এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে টলিপাড়ায় খবর ছড়ায়। এমনও শোনা যায়, জিতু ও দিতিপ্রিয়া একসঙ্গে শট দেওয়া বন্ধ করে দেন এবং ডামি ব্যবহার করে দৃশ্যের শুটিং করা হত। একই সঙ্গে জিতুকে ধারাবাহিক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টার খবরও সামনে আসে। তবে অভিনেতার অনুরাগীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ শুরু করলে শেষ পর্যন্ত নির্মাতারা সেই পথে হাঁটেননি। পরে দিতিপ্রিয়া নিজেই ধারাবাহিক থেকে সরে দাঁড়ান। এরপরই অপর্ণার চরিত্রে আসেন শিরিন। বর্তমানে তিনিই সেই চরিত্রের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। বিতর্ক চললেও ধারাবাহিককে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ এখনও একইরকম রয়েছে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page