জি বাংলার ‘জোয়ার ভাঁটা’ (Jowar Bhanta) এখন এমন এক জায়গায় এসে পৌঁছেছে, যেখানে দর্শকদের একটা বড় অংশ খেয়াকে নিয়ে ভীষণ বিরক্ত। কারণ, যে মেয়ে একসময় উজিকেই নিজের সবচেয়ে কাছের মানুষ বলে মানত, সেই আজ সায়ন্তনের ভালোবাসায় এতটাই অন্ধ হয়ে গিয়েছে যে সত্যি-মিথ্যের ফারাকটাই যেন ভুলে বসেছে। উজি বারবার তাকে সতর্ক করার চেষ্টা করলেও খেয়া উল্টে বৌমণিকেই ভুল বুঝছে। আর এই পুরো ঘটনাটা দেখে অনেক দর্শকেরই হঠাৎ মনে পড়ছে জি বাংলারই পুরনো জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ইচ্ছে পুতুল’-এর (Icche Putul) গিনি আর রূপের সম্পর্কের কথা। কারণ সেখানেও ভালোবাসার মোহে পড়ে নিজের সবচেয়ে আপন মানুষদের থেকে দূরে সরে গিয়েছিল গিনি।
প্রসঙ্গত, ‘ইচ্ছে পুতুল’-এ শুরু থেকেই দেখানো হয়েছিল, মেঘ আর তার ননদ গিনির সম্পর্ক খুব একটা সহজ ছিল না। সেই সুযোগটাই নিয়েছিল রূপ। বাইরে থেকে ভদ্র, যত্নশীল আর প্রেমিকসুলভ আচরণ করলেও ভিতরে ভিতরে সে ছিল ভীষণ ধূর্ত ও মানসিকভাবে অসুস্থ একজন মানুষ! শুধু গিনিকেই নয়, মেঘের সঙ্গেও সীমা ছাড়ানো আচরণ করেছিল সে। মেঘ যখনই সত্যিটা গিনিকে বোঝানোর চেষ্টা করত, তখন গিনি উল্টে মেঘকেই ভুল বুঝত। কারণ রূপের প্রতি তার বিশ্বাস এতটাই বেশি ছিল যে পরিবারের কাউকেই আর গুরুত্ব দিতে চাইত না। ঠিক একইভাবে এখন ‘জোয়ার ভাঁটা’র খেয়াও মনে করছে, উজি নাকি তার সুখ সহ্য করতে পারছে না।
কিন্তু ‘ইচ্ছে পুতুল’-এর গল্পে বিয়ের পরই একে একে সামনে আসে রূপের আসল মুখ। যে মানুষটাকে এতদিন ভালোবেসে আগলে রেখেছিল গিনি, সেই মানুষই তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। অপমান, মানসিক চাপ, সন্দেহ এমনকি শারীরিক নির্যাতনও সহ্য করতে হয়েছিল তাকে। একসময় বেল্ট দিয়েও মারধর করা হয় গিনিকে। তখনই বুঝতে পারে, মেঘ যেসব কথা বলত সেগুলো মিথ্যে ছিল না। কিন্তু ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। আর সেই কারণেই এখন ‘জোয়ার ভাঁটা’র বর্তমান পর্ব দেখে দর্শকদের একটা বড় অংশের আশঙ্কা, খেয়ার জীবনেও হয়তো একই পরিণতি অপেক্ষা করছে। কারণ সায়ন্তনের আসল উদ্দেশ্য যে ভালোবাসা নয়, সেটা দর্শক অনেক আগেই বুঝে গিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ ‘গান পয়েন্টে রেখে আমায়…এরপর আর বাঁচব কিনা জানি না’ ছোটপর্দার থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্তে মুখ খুলেই বি’স্ফোরক জিতু কমল!
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, শেষ পর্যন্ত উজি খেয়ার বিয়েটা আটকাতেই পারল না। এত চেষ্টা, এত সতর্কবার্তার পরেও খেয়া সায়ন্তনের হাতই ধরেছে। আর এখানেই ‘ইচ্ছে পুতুল’-এর গিনির সঙ্গে খেয়ার মিল খুঁজে পাচ্ছেন দর্শকরা। দু’জনেই এমন একজন মানুষকে বিশ্বাস করেছে, যে তাদের দুর্বলতাকেই ব্যবহার করেছে। তাই এখন অনেকেই বলছেন, হয়তো কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি না হলে খেয়ারও ভুল ভাঙবে না। কারণ কখনও কখনও ধারাবাহিকের চরিত্ররা কাছের মানুষের কথা নয়, জীবনের আঘাত থেকেই সবচেয়ে বড় শিক্ষা পায়।
