রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও সঙ্গীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধল গায়িকা ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক অভিযোগে। তাঁর দাবি, গানের অনুষ্ঠান পাইয়ে দেওয়ার নামে শিল্পীদের কাছ থেকে নিয়মিত কাটমানি নেওয়া হত। শুধু তাই নয়, যাঁরা ইন্দ্রনীল সেনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন বা তাঁকে খুশি রাখতে পারতেন, তাঁরাই নাকি সরকারি অনুষ্ঠান কিংবা চাকরির সুযোগ পেতেন। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই সঙ্গীত জগতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। যদিও এই বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি ইন্দ্রনীল সেন।
ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, গোটা প্রক্রিয়াটি ছিল সুপরিকল্পিত। প্রথমে শিল্পীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গানের সুযোগ করে দেওয়া হত, তারপর সেই পারিশ্রমিকের একটি অংশ ফেরত দিতে বলা হত। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, যদি কোনও শিল্পী ৭ হাজার টাকা পান, তবে তাঁকে ২ হাজার টাকা ফেরত দিতে বলা হত। এমনকি একাধিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম চালু ছিল বলে তাঁর অভিযোগ। এই ধরনের লেনদেন নাকি সরাসরি জানানো হত শিল্পীদের, কোনও রাখঢাক ছাড়াই।
এই অভিযোগে আরও কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। ঋদ্ধির দাবি, ইন্দ্রনীল সেনের ঘনিষ্ঠ এক মিউজিশিয়ান ঝুনু ও প্রবীর মল্লিক এই টাকার লেনদেনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। তাঁর কথায়, এই পুরো নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কীভাবে টাকা নয়ছয় করা হত, তার বিস্তারিত তথ্য তাঁর কাছে রয়েছে। পাশাপাশি তিনি আরও দাবি করেন, এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি পরবর্তীতে বড় চাকরিও পেয়েছেন।
শুধু অনুষ্ঠান নয়, রাজ্যের সঙ্গীত মেলাগুলিতেও একই ধরনের কাটমানির অভিযোগ তুলেছেন ঋদ্ধি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই মেলাগুলিতেও শিল্পীদের পারিশ্রমিক থেকে একটি অংশ নেওয়া হত। তিনি আরও কিছু নাম উল্লেখ করে বলেন, কয়েকজন শিল্পী সরকারি চাকরিও পেয়েছেন এই যোগসূত্রের মাধ্যমে। এই অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ হাসিমুখের আড়ালে লুকিয়ে অন্ধকার! সোশ্যাল মিডিয়ায় সবটাই কী তবে ফেক? ইনফ্লুয়েন্সার সায়নী চক্রবর্তীর রহস্যমৃ’ত্যু ঘিরে প্রশ্নের ঝড় নেটপাড়ায়
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই অভিযোগ আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দল বদলের পর থেকেই বিভিন্ন নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসছে। গোষ্ঠী কোন্দল নতুন কিছু নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ে তা আরও প্রকট হয়েছে। সেই আবহেই ইন্দ্রনীল সেনকে ঘিরে এই অভিযোগ নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে। এখন দেখার, এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কোনও তদন্ত বা প্রতিক্রিয়া সামনে আসে কি না।
