জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘জোয়ার ভাঁটা’ (Jowar Bhanta) নিয়ে সমাজ মাধ্যমে প্রায়ই নানান আলোচনা দেখা যায়। কখনও গল্পের মোড়, কখনও চরিত্রদের সিদ্ধান্ত, আবার কখনও সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে মতামত দেন দর্শকরা। সম্প্রতি এমনই এক দর্শক-প্রতিক্রিয়া ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, ধারাবাহিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়ার কথা ছিল যে সম্পর্কটির, সেটাই বরং সবচেয়ে কম আলোচিত। সেই সম্পর্ক হলো জিৎ এবং উজি মিত্রর মধ্যে গড়ে ওঠা বিশ্বাস, সম্মান ও নির্ভরতার বন্ধন। দর্শকদের একাংশের দাবি, এই সম্পর্কটিকে অনেকেই যথেষ্ট গুরুত্ব দেন না, অথচ গল্পের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে বারবার এর প্রভাব দেখা গেছে।
একজন দর্শক সমাজ মাধ্যমে লিখেছেন, “জোয়ার ভাটার সবচেয়ে অবমূল্যায়িত যদি কোনও সম্পর্ক থেকে থাকে তাহলে সেটা জিৎ স্যারের সাথে উজি মিত্রর।” তাঁর মতে, বর্তমান সময়ে ধারাবাহিকে প্রায়শই প্রেমের ত্রিভুজ, পারিবারিক জটিলতা বা সম্পর্কের সংঘাতকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেখানে একজন শিক্ষকসুলভ অভিভাবক এবং এক ছাত্রীর মধ্যে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও আন্তরিক সম্পর্ক দেখানো সত্যিই ব্যতিক্রমী। দর্শকের কথায়, যে যুগে দাঁড়িয়ে আমরা দুই বোনের এক পুরুষকে নিয়ে টানাটানি, দুই ভাইয়ের এক মহিলাকে নিয়ে টানাটানি, জামাইবাবুর শালীর দিকে চোখ বোনের জামাইবাবুর দিকে নজর দেখে অভ্যস্ত সেই যুগে দাঁড়িয়ে একজন বস বা স্যারের সাথে একজন ছাত্রীর এমন গুরু শিষ্য-সুলভ ‘নিখাদ পবিত্র’ সম্পর্ক সত্যিই ভালো লাগছে।
সর্বোপরি স্বাভাবিক লাগছে। দর্শকদের মতে, ধারাবাহিকের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় জিৎকে উজির পাশে দেখা গিয়েছে। উজি যখন পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে চাইছিল এবং পরিবারের অনেকেই তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ছিলেন, তখন জিৎ তাকে উৎসাহ দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা করা থেকে শুরু করে পরীক্ষার দিন পাশে থাকা, এমনকি কর্মক্ষেত্রেও তাকে সহযোগিতা করার বিষয়টি দর্শকদের নজর কেড়েছে। আবার জ্যোতি-বিভার ঘটনা হোক বা সায়ন্তনকে নিয়ে সন্দেহের বিষয়, উজির বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে শোনা এবং পরিস্থিতি বিচার করার ক্ষেত্রেও জিৎকে ইতিবাচক ভূমিকায় দেখা গিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
আরও একাধিক ঘটনার উল্লেখ করেছেন দর্শকরা। তাঁদের বক্তব্য, ভানুর আক্রমণে উজি আহত হওয়ার পর কিংবা অপহরণের মতো বিপজ্জনক পরিস্থিতিতেও জিৎকে দ্রুত উদ্যোগ নিতে দেখা গেছে। এমনকি সাম্প্রতিক পর্বে যখন উজি ব্যক্তিগতভাবে ভেঙে পড়েছে, তখনও তাকে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতির মোকাবিলা করার পরামর্শ দিতে দেখা যায় জিৎকে। একজন দর্শক লিখেছেন, “সত্যিই মাঝেমধ্যে মনে হয় জিৎ যেন উজির ‘অভিভাবক’ বা ‘বড়ো দাদা’র মতো।” তাঁর মতে, এই সম্পর্কের মধ্যে কোনও বাড়তি নাটকীয়তা নেই, বরং রয়েছে নিঃস্বার্থ সমর্থন, যা বর্তমানে ধারাবাহিকে খুব একটা দেখা যায় না।
আরও পড়ুনঃ “শিক্ষনীয় গল্প এখনও বানানো যায়, এটা তার প্রমাণ!” আজকালকার সিরিয়ালে শুধু অশান্তি, পর’কীয়া ও ষড়’যন্ত্র, সেখানে মানুষ হওয়ার পাঠও দিচ্ছে ‘কমলা নিবাস’! ঝরঝরে ইংরেজি কমলার সাহসী জবাবকে কুর্নিশ দর্শকরা বলছেন, ‘টিআরপি নয়, মানবিকতা আর মূল্যবোধই এই গল্পের আসল শক্তি!’
এই প্রসঙ্গে শিল্পীদেরও প্রশংসা করেছেন দর্শকরা। তাঁদের মতে, আরাত্রিকা এবং ফাহিম দু’জনেই এই সম্পর্কের আবেগ ও আন্তরিকতাকে পর্দায় বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরেছেন। একজন দর্শক মন্তব্য করেছেন, “আরাত্রিকা আর ফাহিমদাও খুব ভালোভাবে এই অভিভাবক সুলভ স্নেহের সম্পর্কটাকে ফুটিয়ে তুলেছেন।” একইসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “কাউকে ঠোকা মেরে বলছিনা কিন্তু জানিনা ‘কিছু’ উজি ফ্যান এর পরেও কি করে জিৎকে অপছন্দ করতে পারে?” অনেকের মতে, নিশা ও ঋষির পর উজির বিপদে যিনি নিঃস্বার্থভাবে সবার আগে পাশে দাঁড়ান, তিনি জিৎ। সেই কারণেই ‘জোয়ার ভাঁটা’র দর্শকদের একাংশ এখন এই সম্পর্ককেই ধারাবাহিকের অন্যতম শক্তিশালী সমীকরণ বলে মনে করছেন।
