ফের চলচ্চিত্র জগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দীর্ঘ অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই শেষে প্রয়াত হলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত জনপ্রিয় অভিনেতা সেলিম কুমার। শনিবার সকালে আচমকা তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাঁকে তড়িঘড়ি কোচির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে চিকিৎসা শুরু করেন। কিন্তু সমস্ত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত আর তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর। তাঁর প্রয়াণের খবরে দক্ষিণী চলচ্চিত্র মহল থেকে শুরু করে অনুরাগীদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোকের আবহ।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই অভিনেতার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করেই পরবর্তী চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে সময়ের সঙ্গে অবস্থার আরও অবনতি হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত শনিবারই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে শোকবার্তার ঢল নামে। সহকর্মী, অনুরাগী এবং চলচ্চিত্রপ্রেমীরা তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শুরু করেন। বহু মানুষ তাঁর অভিনয়জীবনের নানা স্মরণীয় মুহূর্তও তুলে ধরেছেন।
জানা গিয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে গুরুতর লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন সেলিম কুমার। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তাঁর লিভার সিরোসিস ধরা পড়েছিল। এই অসুস্থতা নিয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যেও কথা বলেছেন। পরে তাঁর লিভার প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচারও হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা এবং শারীরিক সমস্যার কারণে তিনি ধীরে ধীরে কাজের পরিমাণ কমিয়ে দেন। যদিও পুরোপুরি অভিনয় থেকে দূরে সরে যাননি। ভালো চিত্রনাট্য এবং পছন্দের চরিত্র পেলে তিনি এখনও সিনেমায় অভিনয় করতেন। সেই কারণেই তাঁর অনুরাগীরা আশা করেছিলেন তিনি আবারও সুস্থ হয়ে ফিরবেন।
অভিনয়জগতে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার আগে সেলিম কুমার মিমিক্রি শিল্পী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করে। ১৯৯৭ সালে ‘ইষ্টমানু নূরু ভাট্টম’ ছবির মাধ্যমে বড়পর্দায় তাঁর যাত্রা শুরু হয়। এরপর একের পর এক ছবিতে অভিনয় করে তিনি নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন। তবে তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে ‘অচানুরাঙ্গথা ভিডু’ ছবির মাধ্যমে। সেই ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি কেরালা রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতার সম্মান পান। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।
আরও পড়ুনঃ “ভয় তো ছিলই… কেউ কেউ অনেক সুবিধা পেলেও বহু শিল্পী ভয়ে টুঁ শব্দটিও করতে পারেননি” স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেফ’তারের পর মুখ খুলে টলিউডের অন্দরের কী তথ্য সামনে আনলেন অভিনেত্রী মল্লিকা ব্যানার্জি? সুবিধা পেতেন কারা?

২০১০ সালে ‘আদামিন্তে মকান আবু’ ছবিতে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য সেলিম কুমার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতার সম্মান অর্জন করেন। এই ছবির অভিনয় আজও তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়। জাতীয় পুরস্কারের পাশাপাশি একাধিকবার কেরালা রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কারেও সম্মানিত হয়েছেন তিনি। দীর্ঘ কয়েক দশকের অভিনয়জীবনে তিনি দর্শকদের কাছে যেমন জনপ্রিয় ছিলেন, তেমনই সহকর্মীদের কাছেও ছিলেন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর প্রয়াণে মালয়ালম চলচ্চিত্র জগতের এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান ঘটল বলে মনে করছেন অনেকে। অনুরাগীদের হৃদয়ে তাঁর স্মৃতি এবং কাজ চিরকাল বেঁচে থাকবে।
