জি বাংলার ধারাবাহিক ‘পরিণীতা’-য় (Parineeta) এখন একদিকে যেমন পারুলের মাতৃত্বকে ঘিরে আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনই বাড়ছে ষড়’যন্ত্রের জাল। সম্প্রতি দেখা গেছে, পারুলকে কেন্দ্র করে শিরিনের ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। রায়ান ও পারুলের মধ্যে সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা এবং পারুলের প্রতি রায়ানের বাড়তে থাকা যত্ন শিরিনের কাছে একেবারেই অসহনীয় হয়ে উঠেছে। সেই কারণেই সে এমন এক পরিকল্পনার পথে হাঁটতে শুরু করে, যার লক্ষ্য ছিল পারুলের অনাগত সন্তান। তবে তার এই চক্রান্ত যে এত সহজে সফল হবে না, তার ইঙ্গিতও মিলেছে সাম্প্রতিক ঘটনায়।
এদিকে টগরকে কাজে লাগিয়ে নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে শিরিন। তার নির্দেশ ছিল, বি’ষ মিশিয়ে এমনভাবে পারুলকে দুধ খাওয়ানো হোক যাতে সরাসরি তার ক্ষতি না হলেও গর্ভস্থ সন্তানের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। প্রথমে টগর বিষয়টি নিয়ে দ্বিধায় থাকলেও পরে সে রাজি হয়ে যায়। কিন্তু যখন সে দুধ নিয়ে পারুলের কাছে পৌঁছায়, তখন পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। পারুলের ব্যবহার, তার আন্তরিকতা এবং টগরের প্রতি নিঃস্বার্থ স্নেহ টগরকে ভিতর থেকে নাড়িয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত সে আর সেই দুধ পারুলকে খেতে দিতে পারেনি।
পারুলের প্রতি টগরের মনোভাব বদলে যাওয়ার পিছনে বড় কারণ ছিল পারুলের মানবিক আচরণ। সে টগরকে পরিবারের একজনের মতোই আপন করে বোঝায় এবং তার ভালোর কথাই ভাবে। বসু বাড়িতে নানান সমস্যার মধ্যেও টগরকে নিয়ে পারুলের এই ইতিবাচক মনোভাব টগরের অপরাধবোধ আরও বাড়িয়ে দেয়। ফলে শেষ মুহূর্তে সে বি’ষাক্ত দুধ নষ্ট করে দেয়। এই ঘটনার মাধ্যমে গল্পে টগরের চরিত্রেও একটি বড় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। এতদিন যে মেয়েটিকে ব্যবহার করা হচ্ছিল, এবার সে নিজের বিবেকের কথাও শুনতে শুরু করেছে।
অন্যদিকে শিরিন যখন জানতে পারে যে পরিকল্পনা সফল হয়নি, তখন সে টগরের উপর চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। কিন্তু এবার আর আগের মতো চুপ করে থাকেনি টগর। বরং সে জানিয়ে দেয়, পারুলের জন্মপরিচয় সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সত্য তার জানা হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনে সব তথ্য পারুলের সামনে প্রকাশ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেয় সে। টগরের এই অবস্থান শিরিনকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলে। কারণ এতদিন যে গোপন তথ্যকে হাতিয়ার করে সে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছিল, সেটাই এখন তার বিরুদ্ধে চলে যেতে পারে।
এর মধ্যেই ধারাবাহিকে আসতে চলেছে নতুন মোড়। সম্প্রতি প্রকাশিত প্রোমোতে দেখা গেল, বসু বাড়িতে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে আনন্দে মেতে উঠেছে সবাই। অন্যদিকে শিরিন ইতিমধ্যেই ভয়ংকর পরিকল্পনার পথে হাঁটছে, তার লক্ষ্য এবার টগর। সে বলে যেহেতু টগর তার বিরুদ্ধে গেছে, তাই এবার এক ঢিলে দুই পাখি মারাবে সে! এরপরেই দেখা যায়, সেই অনুষ্ঠানে মল্লার শরবত খেতে দেয় টগরকে। সেটা খেতেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে, সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলে যায়। পুলিশ এসে নিজের বউকে বি’ষ খাইয়ে খু’ন করার অপরাধে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় মল্লারকে!
আরও পড়ুনঃ ভেন্টিলেটরে লড়াই চলছিল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত, প্রয়া’ত জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেতা, শো’কে স্তব্ধ সিনেমাজগৎ
পারুল এবারও তৎপর হয়ে ওঠে সত্য উদঘাটনে, তবে একা নয় সঙ্গে আছে রায়ান! তবে কি এবার শিরিন পাকাপাকিভাবে জেলে যাবে? পারুল কি অবশেষে জানতে পারবে তার বাবার নাম? টগর আর মল্লারকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের সন্তানের ক্ষতি করবে না তো পারুল? এই সমস্ত প্রশ্নে এখন সরগরম দর্শকমহল, উত্তর পেতে অবশ্যই দেখতে হবে ‘পরিণীতা’র ১১ থেকে ১৩ জুনের ‘তুফানি তিনদিন’ বিশেষ পর্ব।
