জি বাংলার ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’-এ (Kamala Nibas) এবার একসঙ্গে একাধিক ঘটনার জেরে জমে উঠল গল্প। একদিকে যেমন মিঠিকে ঘিরে গুহ বাড়িতে নতুন অশান্তির সূত্রপাত হয়েছে, অন্যদিকে আদিত্য ও পল্লবীর অপ্রত্যাশিত সাক্ষাৎ ভবিষ্যতের নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়ে গেল। সাম্প্রতিক পর্বে পরিবারের টানাপোড়েন, সম্পর্কের উষ্ণতা এবং নতুন সম্ভাবনা, সবকিছুরই মিশেল দেখতে পাবেন দর্শকরা। আজকের পর্বের শুরুতেই দেখা যায়, কমলা, পল্লবী এবং পল্লবীর দাদা একসঙ্গে সাগরদের বাড়িতে যান সুপর্ণার সঙ্গে কথা বলতে।
সেখানে গিয়েই তাঁদের মুখোমুখি হতে হয় সুপর্ণার অহংকারী আচরণের। নিজের সামাজিক অবস্থান এবং সম্পদ নিয়ে গর্ব করতে গিয়ে সুপর্ণা বারবার কমলাদের ছোট করার চেষ্টা করে। তবে কমলা অত্যন্ত শান্ত ও সংযতভাবে তার জবাব দেয়। সে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, অর্থসম্পদই মানুষের একমাত্র পরিচয় নয়। গরিব হওয়া আর অশিক্ষিত হওয়া এক বিষয় নয়, আর মানুষের আসল পরিচয় তার মন ও মূল্যবোধে। কমলার এই দৃঢ় অবস্থান সুপর্ণাকে কার্যত চুপ করিয়ে দেয়। সেই সময়ই পল্লবী নিজের মনের কথা জানিয়ে মিঠিকে নিজেদের কাছেই রাখার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করে।
শেষ পর্যন্ত সানি এবং সুপর্ণা সেই প্রস্তাবে সম্মতি জানায়। তবে মিঠিকে গুহ বাড়িতে নিয়ে আসার পরই পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেয়। পরিবারের সদস্য সংখ্যা বাড়ায় সংসারের খরচ কীভাবে সামলানো হবে, তা নিয়ে আপত্তি তোলে কমলার বড় ছেলে। সে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, বাড়িতে উপার্জনকারী মানুষের সংখ্যা খুবই কম, অথচ খরচের দায়িত্ব ক্রমশ বাড়ছে। এই বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে শ্রীনিবাসের উত্তপ্ত তর্ক বাধে। বাড়ির পরিবেশ যখন ক্রমশ অশান্ত হয়ে উঠছে, তখনই শ্রীনিবাস দৃঢ়ভাবে কমলার পাশে দাঁড়ায়। সে জানিয়ে দেয়, মিঠিকে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্তে সে সম্পূর্ণ সহমত এবং ভবিষ্যতেও কমলার পাশে থাকবে।
স্বামীর এই সমর্থন পেয়ে কমলাও অনেকটাই আশ্বস্ত হয়। এদিকে দেখা যায়, কমলার সঙ্গে আচমকাই আদিত্যের দেখা হয়ে যায়। কথাবার্তার মাঝেই কমলা তাকে ঝিনুকের বিয়ের নিমন্ত্রণপত্র দেয় এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানায়। আদিত্যও সৌজন্য বজায় রেখে সেই নিমন্ত্রণ গ্রহণ করে। ঘটনাটা সেখানেই শেষ হয়ে যেতে পারত, কিন্তু তার পরেই ঘটে এক মজার মুহূর্ত। কমলার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে যাওয়ার সময় আদিত্যের নজরে পড়ে পল্লবী। তাকে দেখে কিছুক্ষণ থমকে যায় সে, আর সেই আচরণে বিরক্ত হয়ে পল্লবী সরাসরি আপত্তি জানায়।
আরও পড়ুনঃ ধাপাধাপ উন্নতি হবে! “শুধু বাংলা নয়, ভারতও বাঁচল…” বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের পর এতটা আশাবাদী কেন কুমার শানু? তিনিও কি তৃণমূলী অ’ত্যাচারের শি’কার? মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে কী মন্তব্য করলেন গায়ক?
এমনকি মজার ছলেই তাকে পুলিশ কেসে জড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেয়। ঠিক সেই সময় কমলা পিছন থেকে পল্লবীকে ডাক দিলে আদিত্য প্রথমবার তার নাম জানতে পারে। নাম শোনার পর তার মুখের অভিব্যক্তি বদলে যায় এবং সে স্পষ্টতই অবাক হয়ে পড়ে। এই ছোট্ট কৌতূহল বাড়িয়ে দিয়েছে। আদিত্য ও পল্লবীর এই নতুন পরিচয় ভবিষ্যতে কোন দিকে এগোবে, তা জানার অপেক্ষায় রয়েছেন অনুরাগীরা। অন্যদিকে মিঠিকে ঘিরে গুহ বাড়ির অশান্তি এবং কমলার পাশে শ্রীনিবাসের দৃঢ় অবস্থানও আগামী পর্বগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে।
