রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুর পর কেটে গিয়েছে আড়াই মাসেরও বেশি সময়। কিন্তু সেই শোক এখনও কাটিয়ে ওঠা সহজ নয় তাঁর পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের কাছে। অভিনেতার মৃত্যুর পর বৃদ্ধা মা, দাদা, স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার এবং ছেলে সহজকে নিয়েই আলোচনা চলেছে বিভিন্ন মহলে। এর মধ্যেই ধীরে ধীরে কাজের জগতে ফিরেছেন প্রিয়াঙ্কা। সম্প্রতি পরপর দুটি ওয়েব সিরিজে দেখা গিয়েছে তাঁকে। হইচইয়ের ‘কুহেলি’-তে পুলিশ অফিসারের চরিত্রে অভিনয়ের পর এবার জি ফাইভের নতুন সিরিজ ‘তারকাটা’-র প্রচারে ব্যস্ত অভিনেত্রী। সেখানেই জীবনের কঠিন সময় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি। ব্যক্তিগত লড়াইয়ের মধ্যেও কীভাবে নিজেকে সামলে রাখছেন, সেই অভিজ্ঞতাই ভাগ করে নেন প্রিয়াঙ্কা।
নিজের মানসিক অবস্থার প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, “নিজেকে ভালো রাখার দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে, অন্য কারওর উপর দায়িত্ব দেওয়া যাবে না। এক্সপেকটেশনস রাখা যাবে না। এটা আমার ফার্স্ট রিয়ালাইজেশন।” তিনি জানান, কাজের মধ্যে নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করছেন। নতুন প্রজেক্ট, সহকর্মীদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং দর্শকদের ভালোবাসাই তাঁকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করছে। প্রিয়াঙ্কার কথায়, “আমি কাজের মধ্যে আছি। তোমদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারছি। তোমরা আমাকে এনগেজড রাখছ। আমাকে উৎসাহ দিচ্ছ। তোমাদের থেকে ভালোবাসার রসদ খুঁজে পাচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, এই সমর্থন শুধু সংবাদমাধ্যমের বন্ধুদের কাছ থেকেই নয়, পর্দার ওপারে থাকা দর্শকদের কাছ থেকেও পাচ্ছেন। সেই ভালোবাসাই তাঁকে শক্তি জোগাচ্ছে।
রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার সম্পর্কের শুরু হয়েছিল ২০০৮ সালে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবির সেটে। তখন সদ্য কলেজে পা রাখা প্রিয়াঙ্কা এবং তরুণ অভিনেতা রাহুলের মধ্যে বন্ধুত্ব থেকে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। দীর্ঘদিন প্রেম এবং একসঙ্গে থাকার পর ২০১০ সালে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। যদিও সেই সময় প্রিয়াঙ্কার পরিবারের একাংশ এই সম্পর্কের পক্ষে ছিল না। তবুও পরিবারের অমত উপেক্ষা করেই সাত পাকে বাঁধা পড়েন দুজনে। পরবর্তীতে তাঁদের সংসারে আসে ছেলে সহজ। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁরা বাংলা বিনোদন জগতের অন্যতম জনপ্রিয় দম্পতি হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
তবে তাঁদের দাম্পত্য জীবন সবসময় মসৃণ ছিল না। বিভিন্ন মতপার্থক্য এবং ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে ২০১৭ সালে আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নেন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা। সেই সময় তাঁদের সম্পর্ক ভাঙনের মুখে পৌঁছে যায় এবং বিচ্ছেদের দিকেও এগোয়। কিন্তু ছেলে সহজের কথা ভেবে ধীরে ধীরে আবার কাছাকাছি আসেন তাঁরা। দীর্ঘ দূরত্ব কাটিয়ে ২০২৩ সালে ফের একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন এই তারকা জুটি। নতুন করে সংসার শুরু করার সেই অধ্যায় অনেকের কাছেই ছিল আশার খবর। কিন্তু সেই দ্বিতীয় ইনিংস দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আগেই নেমে আসে বড় বিপর্যয়।
২০২৬ সালের ২৯ মার্চ ওড়িশার তালসারি সমুদ্র সৈকতে একটি ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন দুর্ঘটনার শিকার হন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিংয়ের সময় তিনি সমুদ্রে তলিয়ে যান। উদ্ধার করার পর জীবিত অবস্থাতেই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা পরে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে কলকাতা এবং তালসারি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শুটিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতিও নেওয়া হয়নি। ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। তবে আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও বিচার না মেলায় ক্ষোভ রয়েছে পরিবারের একাংশ এবং শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে।
