জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“মিঠুনদার জন্য সেদিন আমি ম’রতে বসেছিলাম…” ‘মহারাজের’-এর জন্মদিনে তাকে ঘিরে চাঞ্চ’ল্যকর দাবি করলেন দেবশ্রী রায়! উঠে এলো এই অজানা ঘটনা?

আজ টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর জন্মদিন। এই বিশেষ দিনে তাঁকে ঘিরে পুরনো দিনের স্মৃতিতে ডুব দিলেন অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়। দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয় থেকে শুরু করে একাধিক ছবির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, মাত্র ১৩ বছর বয়সে প্রথমবার মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। তখন তিনি শিশু শিল্পী হিসেবে কাজ করতেন। অন্যদিকে মিঠুন ইতিমধ্যেই ‘মৃগয়া’ ছবির মাধ্যমে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা হয়ে উঠেছেন। সেই সময় থেকেই ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর নাম নিয়ে আলাদা উত্তেজনা ছিল বলে জানান দেবশ্রী।

তিনি আরও বলেন, পরে ‘নদী থেকে সাগরে’ ছবিতে প্রথমবার মিঠুন চক্রবর্তীর বিপরীতে কাজ করার সুযোগ পান তিনি। সেই ছবির সেটেই তাঁদের পরিচয় আরও গভীর হয়। সেই সময় তিনি নিজেও খুব নার্ভাস এবং উত্তেজিত ছিলেন বলে জানান অভিনেত্রী। কারণ তাঁর বিপরীতে ছিলেন তৎকালীন অন্যতম জনপ্রিয় এবং সুদর্শন নায়ক মিঠুন চক্রবর্তী। সেই ছবিতে দেবশ্রীর সঙ্গে ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং সন্ধ্যা রায়ের মতো বর্ষীয়ান শিল্পীরাও। অভিনেত্রীর দাবি, এই ছবিই মিঠুনের প্রথম বাংলা কাজগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল তাঁর সঙ্গে। সেট থেকেই তাঁদের সম্পর্ক ধীরে ধীরে বন্ধুত্বে পরিণত হয়।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে দেবশ্রী রায় জানান, একবার শুটিং চলাকালীন তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি মজার এবং ভয়ঙ্কর ঘটনা আজও তিনি ভুলতে পারেন না। শাড়ি পরা অবস্থায় একটি দৃশ্যের শুট চলছিল, সেই সময় আচমকা শাড়ি খুলে যায় বলে জানান তিনি। সেই মুহূর্তে মিঠুন চক্রবর্তী দৌড়ে এসে তাঁর মা-কে ডেকে বলেন, “মাসিমা, শিগগির এসো! তোমার মেয়েকে দেখো, শাড়ি খুলে দাঁড়িয়ে আছে।” এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তাঁদের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। অভিনেত্রী বলেন, সেটে মিঠুনের দুষ্টুমি এবং হাসি-ঠাট্টা সব সময় পরিবেশকে প্রাণবন্ত করে রাখত।

দেবশ্রী রায় আরও জানান, মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে কাজ করা মানেই ছিল হাসি-ঠাট্টা, রাগ-অভিমান আর এক ধরনের পারিবারিক সম্পর্ক। তাঁর কথায়, মিঠুন এতটাই মজা করতেন যে তাঁকে বারবার রাগিয়ে দিতেন। আবার সেই রাগ ভাঙাতেও দেরি হতো না। এমনকি তিনি নিজেও পাল্টা জবাব দিতেন বলে জানান অভিনেত্রী। তিনি বলেন, মিঠুনের সঙ্গে কাজ করা ছবিগুলো প্রায় সবই সফল হয়েছে। সেটে তাঁর উপস্থিতি মানেই ছিল অন্যদের চিন্তা না করে স্বাভাবিকভাবে কাজ করার সুযোগ। তাঁর মতে, মিঠুন একই সঙ্গে দুষ্টু এবং অত্যন্ত মেধাবী একজন অভিনেতা।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে দেবশ্রী রায় জানান, রামোজি ফিল্ম সিটিতে ‘এমএলএ ফাটাকেষ্ট’ ছবির শুটিং চলাকালীন একবার মিঠুন তাঁর সঙ্গে এমন একটি মজা করেন, যা তাঁকে আতঙ্কিত করে তোলে। তিনি জানান, মিঠুন একটি ভুয়ো সাপ এনে তাঁর কাঁধে রেখে দেন। সেই মুহূর্তে তিনি ভয়ে চিৎকার করে ওঠেন এবং প্রায় অজ্ঞান হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে পুরো সেট জুড়ে হৈচৈ পড়ে যায়। দেবশ্রীর কথায়, এই ধরনের দুষ্টুমি মিঠুনের স্বভাবের অংশ ছিল। তিনি একইভাবে অভিনেত্রী পদ্মিনী কোলহাপুরীকেও একবার এমন পরিস্থিতিতে ফেলেছিলেন।

শেষ অংশে দেবশ্রী রায় জানান, তাঁদের সম্পর্ক শুধুই সহ-অভিনেতার ছিল না, বরং পারিবারিক বন্ধনের মতো ছিল। মিঠুন চক্রবর্তী অনেক সময় সরাসরি তাঁর বাড়িতেও আসতেন এবং একসঙ্গে আড্ডা দিতেন বলে জানান তিনি। এমনকি তাঁরা একই গুরুর কাছ থেকে দীক্ষাও নিয়েছিলেন, সেই কারণে নিজেদের ‘গুরুভাই’ বলেও উল্লেখ করেন অভিনেত্রী। তিনি আরও জানান, মিঠুন ভালো রান্নাও করেন, যদিও বেশিরভাগ সময় মাংস রান্না করতেন। বর্তমানে বয়স হলেও মিঠুন এখনও একই রকম প্রাণবন্ত, হাসিখুশি এবং চিরযুবক বলে মন্তব্য করেন দেবশ্রী রায়।

Rimi Datta

রিমি দত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। কপি রাইটার হিসেবে সাংবাদিকতা পেশায় চার বছরের অভিজ্ঞতা।

                 

You cannot copy content of this page