টলিপাড়ায় ফের নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন অভিনেত্রী রূপালী ভট্টাচার্য। সম্প্রতি নিজের সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে তিনি নাম না করেই এক অভিনেত্রীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর সেই পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। যদিও কোথাও কোনও ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি রূপালী, তবুও তাঁর মন্তব্যের সূত্র ধরে অনেকেই অনুমান করার চেষ্টা করছেন তিনি কাকে উদ্দেশ্য করে এই কথা বলেছেন। পোস্টটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে। টলিপাড়ার একাংশের সমর্থনও পেয়েছেন অভিনেত্রী। ফলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে বিনোদন মহলে।
নিজের পোস্টে রূপালী লিখেছেন, “উনি অতীব কুৎসিত অভিনয় করেন। তারপরেও একের পর এক ছবিতে, ধারাবাহিকে ওঁকে কাস্ট করে তেল মেরে যাওয়া হয়েছে। আর পেশাদার যোগ্য শিল্পীদের পেটে লাথি মারা হয়েছে। কারণ ওঁর বিশেষ বন্ধুদের সবাই একটু বেশি ‘বিশ্বাস’ করেছিল।” এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। বিশেষ করে ‘বিশ্বাস’ শব্দটির ব্যবহার অনেকের নজর কেড়েছে। অনেকে মনে করছেন, এই শব্দের মধ্যেই কোনও বিশেষ ইঙ্গিত লুকিয়ে রয়েছে। যদিও রূপালী নিজে এ বিষয়ে আর কোনও ব্যাখ্যা দেননি। ফলে জল্পনা আরও বেড়েছে।
রূপালীর পোস্টের নীচে বিভিন্ন মন্তব্যও সামনে এসেছে। সেখানে এক নেটিজেন সরাসরি প্রশ্ন করেন, “আপনি কি অরূপ বিশ্বাস বা স্বরূপ বিশ্বাস ঘনিষ্ঠ কোনও অভিনেত্রীর কথা বলছেন?” তবে এই প্রশ্নেরও কোনও স্পষ্ট উত্তর দেননি অভিনেত্রী। তিনি কারও নাম প্রকাশ্যে আনতে চাননি বলেই মনে করা হচ্ছে। কিন্তু তাঁর পোস্টকে সমর্থন করে টলিপাড়ার কিছু পরিচিত মুখ যে ধরনের মন্তব্য করেছেন, তা দেখে অনেক দর্শকই নিজেদের মতো করে বিষয়টি ব্যাখ্যা করছেন। ফলে নাম না বলেও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে একাধিক সম্ভাব্য নাম। সমাজমাধ্যমে এ নিয়ে এখনও জোর চর্চা চলছে।
রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর টলিপাড়ায় একাধিক শিল্পী ও কলাকুশলী প্রকাশ্যে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা বলতে শুরু করেছেন। অভিনেতা, অভিনেত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিভাগের কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, অতীতে কাজের ক্ষেত্রে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁদের। কেউ কেউ দাবি করেছেন, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কারণে অনেক সময় কাজের সুযোগ সীমিত হয়ে যেত। এমনকি ভয় দেখানো বা চাপ সৃষ্টি করার মতো অভিযোগও সামনে এসেছে। সম্প্রতি এক মেকআপ শিল্পী প্রশাসনের কাছে স্বরূপ বিশ্বাস সম্পর্কেও অভিযোগ জানিয়েছেন বলে খবর প্রকাশ্যে এসেছে। সেই আবহেই রূপালীর এই পোস্ট নতুন মাত্রা যোগ করেছে বিতর্কে।
আরও পড়ুনঃ ‘দিদি নাম্বার ওয়ান’-এর মঞ্চ হোক বা জামাইষষ্ঠীর বিশেষ অনুষ্ঠান, জি বাংলায় জুটি মানেই শ্বেতা-রুবেল? কেন বাকিরা কী নেই? কিসের জোরে অন্য সব তারকা জুটিকে ছাপিয়ে বারবার এই দু’জনের উপরই ভরসা করছে চ্যানেল, নাকি নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও অজানা সমীকরণ? প্রশ্ন তুলছে নেট পাড়া
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টলিপাড়ার এক অভিনেত্রী টিভি নাইন বাংলাকে জানিয়েছেন, “এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই, আগের সরকারের মন্ত্রী বা নামী মুখদের ঘনিষ্ঠ কাউকে-কাউকে অভিনয়ের দুনিয়ায় দেখা গিয়েছে। একজন অভিনেত্রী একের পর এক ছবি পেয়েছেন। আর একজন অভিনেত্রী, ছবি প্রযোজনা করার পাশাপাশি নিজে সেই ছবিতে অভিনয় করেছেন। ছবির প্রচারে তৃণমূল কংগ্রেসের এক বিধায়ক জড়িয়ে ছিলেন। তবে এমন ধরনের ঘটনা এবার কমবে, তা আঁচ করা যায়।” তাঁর এই মন্তব্যও বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ফলে রূপালীর পোস্ট ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন টলিপাড়ার অন্যতম চর্চিত বিষয় হয়ে উঠেছে।
