সাম্প্রতিক একটি ছবিকে কেন্দ্র করে আবারও চর্চার কেন্দ্রে উঠে এলেন অভিনেত্রী নবনীতা দাস। নিজের সমাজমাধ্যমে একটি নতুন ছবি পোস্ট করার পর থেকেই শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। ছবিতে দেখা যায়, খোলা চুলে বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে রয়েছেন তিনি। তাঁর পিঠ সম্পূর্ণ খোলা, আর গায়ে রয়েছে শুধু একটি সাদা চাদর। ছবির ক্যাপশনে আলাদা করে কোনও বক্তব্য না লিখে চিত্রগ্রাহক হিসেবেও নিজের নাম উল্লেখ করেন অভিনেত্রী। তবে ছবি প্রকাশ্যে আসার পর মুহূর্তের মধ্যেই নেটদুনিয়ায় ভিড় জমায় নানা মন্তব্য। কেউ প্রশংসা করলেও অনেকেই সমালোচনার সুর তুলেছেন। সেই ছবিকে ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
ছবিটি দেখার পর একাংশ নেটাগরিক নবনীতার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও মন্তব্য করতে শুরু করেন। কেউ তাঁর প্রাক্তন স্বামী অভিনেতা জিতু কমলের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। আবার কেউ দাবি করেন, নবনীতাকে এখনও তাঁরা জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘মহাপীঠ তারাপীঠ’-এর ‘মা তারা’ চরিত্র হিসেবেই দেখতে অভ্যস্ত। তাঁদের মতে, সেই ভাবমূর্তির সঙ্গে এই ধরনের সাহসী ছবি মানানসই নয়। অনেকেই সরাসরি আপত্তি জানিয়ে মন্তব্য করেন। কেউ কেউ আবার লিখেছেন, অভিনেত্রীর এই নতুন রূপ দেখে তাঁরা বিস্মিত। ফলে ছবির চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে আসে তাঁর চরিত্রের পুরনো পরিচিতি এবং ব্যক্তিগত জীবন।
এদিকে সমালোচনার মধ্যেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন নবনীতা। তিনি জানান, সম্প্রতি কাজের সূত্রে মুম্বইয়ে গিয়েছিলেন। সেখানকার একটি হোটেল কক্ষে একাই নিজের এই ছবিগুলি তুলেছেন তিনি। যদিও সেই ব্যাখ্যার পরেও সমালোচনা থামেনি। কেউ অভিযোগ করেন, টলিপাড়ার অন্য এক অভিনেত্রীর স্টাইল অনুসরণ করেই তিনি এমন ছবি তুলেছেন। আবার কেউ ব্যক্তিগত জীবনকে সামনে এনে নানা মন্তব্য করেছেন। এমনকি কয়েকজন অনুরাগী প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, তাঁরা আর নিজেদের সমাজমাধ্যমে অভিনেত্রীকে অনুসরণ করবেন না। তবে এসব মন্তব্যকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ নবনীতা।
নিজের জনপ্রিয় চরিত্র নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘‘আমি একটা স্বাভাবিক মেয়ে। ২০২২ সালে এই ধারাবাহিকটা করেছিলাম। নবনীতা আর কতদিন মা তারা হয়ে পড়ে থাকবে?’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘তবে আমি তাঁদের দোষ দিই না। তাঁদের নজরে হয়তো ওই ভাবমূর্তিটা বসে গিয়েছে। কিন্তু আমাকেও তো জীবনে এগোতে হবে। ওই একটা চরিত্রে আটকে থাকতে তো চলবে না।’’ নবনীতার মতে, একজন অভিনেতার পরিচয় কখনও একটি মাত্র চরিত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন কাজ এবং নতুন পরিচয়ের মধ্য দিয়েই এগিয়ে যেতে হয়। সেই কারণেই তিনি নিজের ব্যক্তিগত পছন্দ বা জীবনযাপন নিয়ে অযথা বিতর্কে জড়াতে চান না।
প্রাক্তন স্বামী জিতু কমলকে নিয়ে হওয়া মন্তব্য নিয়েও মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁদের সম্পর্ক অনেক আগেই শেষ হয়েছে। তাই প্রতিটি বিষয়ে জিতুর নাম টেনে আনা তাঁর কাছে বিরক্তিকর। নবনীতার কথায়, এই ধরনের মন্তব্যের কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই। তিনি মনে করেন, ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বারবার একই প্রসঙ্গ টেনে আনা উচিত নয়। বর্তমানে তিনি নিজের কাজ, ব্যবসা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চান। অতীতের সম্পর্ককে সামনে এনে নতুন বিতর্ক তৈরি করার কোনও প্রয়োজন নেই বলেও তাঁর মত।
সমালোচনা, কটাক্ষ কিংবা ট্রোলিং নিয়ে বিশেষ মাথা ঘামান না বলেই জানিয়েছেন নবনীতা। তাঁর মতে, দর্শকের প্রত্যাশা এবং আবেগ তিনি বোঝেন। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা তাঁকে একটি বিশেষ চরিত্রে দেখে এসেছেন। তবে সেই কারণেই নিজের জীবন বা পেশাগত পথচলা থামিয়ে রাখা সম্ভব নয়। বেশ কয়েক বছর ধরেই তিনি ছোটপর্দা থেকে দূরে রয়েছেন এবং নিজের ব্যবসার কাজে মন দিয়েছেন। সেই সূত্রেই প্রায়ই মুম্বইয়ে যেতে হয় তাঁকে। তাই সমাজমাধ্যমের নেতিবাচক মন্তব্যে সময় নষ্ট না করে নিজের কাজ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন অভিনেত্রী।
