“জীবনে কিছু হোক না হোক, ভালো মানুষ হয়েছি…” ‘আপনি ভালো মানুষ, শুনলেও হাসি পায়!’ ‘এটা যদি ভালো মানুষ হওয়া হয়, আপনার মেয়েরা যেন খারাপ মানুষ হয়!’ আবেগঘন মন্তব্য করতেই উল্টে প্রশ্নের মুখে যিশু! মাঝ বয়সে সংসার ভাঙা থেকে অবৈ’ধ সম্পর্কের প্রসঙ্গে টেনে ক্ষো’ভ উগরে দিলেন নেটিজেনরা!

এক সময় টলিপাড়ার অন্যতম চর্চিত দম্পতি ছিলেন ‘যিশু সেনগুপ্ত’ (Jisshu Sengupta) এবং নীলাঞ্জনা শর্মা। বহু বছর একসঙ্গে পথ চলার পর তাঁদের সম্পর্ক ভাঙার খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিস্মিত হয়েছিলেন অনুরাগীদের বড় অংশ। বর্তমানে দুজনের ব্যক্তিগত জীবন আলাদা পথে এগোলেও, তাঁদের দুই মেয়ে সারা ও জারাকে ঘিরে কৌতূহল এখনও রয়েছে। কিছুদিন আগেই যিশু জানিয়েছিলেন, মেয়েদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে এবং তাঁদের সাফল্য নিয়ে তিনি ভীষণ গর্বিত। বড় মেয়ে সারা নিজের পেশাগত জীবনে ভালো কাজ করছে, আর ছোট মেয়ে জারা পড়াশোনায় ব্যস্ত বলেও তিনি উল্লেখ করেছিলেন।

সেই মন্তব্যের পর এবার আরও এক সাক্ষাৎকারে বাবা হিসেবে নিজের অনুভূতি নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেতা। আসন্ন ছবি উপলক্ষে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যিশুকে প্রশ্ন করা হয়, বাবা হিসেবে মেয়েদের উপর কোনও অভিমান রয়েছে কি না। সেই প্রশ্নের উত্তরে অভিনেতা বলেন, “সন্তানের উপর কি মা-বাবা কোনদিনও মান-অভিমান করতে পারে? আর আমার সন্তানদের ক্ষেত্রে সেভাবে আমার কোনও কৃতিত্বই নেই। আগেও কাজে ব্যস্ত থাকতাম এখনও থাকি, নীলাঞ্জনাই ওদের নিজের সবটুকু দিয়ে বড় করেছে। আমার থেকে ওদের মায়ের কৃতিত্ব অনেক বেশি। খুব সুন্দর মানুষ হয়েছে ওরা দুজনেই, বলতে কোনও দ্বিধা নেই আমার।”

একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, সন্তানদের মানুষ করে তোলার ক্ষেত্রে নীলাঞ্জনার অবদানই সবচেয়ে বেশি বলে তিনি মনে করেন। কথা বলতে গিয়ে নিজের বাবা-মায়ের শিক্ষার প্রসঙ্গও তুলে আনেন যিশু। অভিনেতার কথায়, “এটা আমার মা-বাবাও সব সময় আমায় শিখিয়েছে যে আর কিছু হও বা না হও, জীবনে ভালো মানুষ হওয়াটাই সবার আগে দরকার। আমিও সেটাই করেছি আর যখন দেখি আমার মেয়েরাও তেমনটাই হচ্ছে, তখন তো খারাপ লাগার কোনও জায়গা থাকে না।” তিনি আরও বলেন, “যদি দেখি ওরা খারাপ আছে, তখন আমার খারাপ লাগতে পারে।

বা হয়তো অভিমান হতে পারে কিন্তু তার আগে নয়।” তাঁর বক্তব্যে আবেগ স্পষ্টভাবে ধরা পড়লেও, মুহূর্তে সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। ভিডিওটি সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক নেটিজেন অভিনেতার বক্তব্যের নির্দিষ্ট একটি অংশ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। বিশেষ করে তিনি নিজের বাবা-মায়ের শিক্ষা এবং “ভালো মানুষ হয়েছি” উল্লেখ করা নিয়েই সমালোচনার ঝড় ওঠে। একজন মন্তব্য করেন, “এত ভালো মানুষ হয়েছেন যে বউ স্ট্রাগেল পিরিয়ডে আপনার পাশে ছিল, কোনও চিন্তা মাথায় না নিয়ে স্বাধীন ভাবে কাজ করতে দিয়েছে, আর নিজে সন্তানদের মানুষ করতেই কাটিয়ে দিয়েছেন।

তাকে পাশ কাটিয়েই আপনি অন্য সম্পর্কে জড়িয়েছেন, হয়তো সংসারও পেতেছেন!” আরেকজন লেখেন, “আপনি ভালো মানুষ হলে কি একটা পরিবার ভেঙে যেতে পারতেন? আপনার মনে হয় না যে আপনারা দুজন আলাদা থাকলেই আপনার সন্তান খারাপ থাকবে? যতদূর জানি আলাদা থাকার ডিসিশন আপনি নিয়েছেন। যা বয়স এইটুকু ত্যাগ করতেই পারতেন।” শুধু তাই নয়, আরও কিছু মন্তব্যে সমালোচনার সুর ছিল আরও তীব্র। এক নেটিজেন লেখেন, “হয়তো বলা উচিত নয়, কিন্তু আপনার মা-বাবা ভালো মানুষ করতে পারেননি আপনাকে! আপনিও ভালো মানুষ অবশ্যই হতে পারেননি।

আপনার সন্তানরা কী দেখলো, এতো বছর একসাথে থাকার পরে বাবা অন্য মহিলার সাথে অবৈধ সম্পর্কে জোড়ালো। আপনার মতো যেন আপনার সন্তানরা না হয়। আপনার এটা যদি ভালো মানুষ হওয়া হয়, ওরা যেন খারাপ মানুষ হয়!” যদিও যিশু সেনগুপ্ত নিজে এই সমালোচনার কোনও জবাব দেননি। তবে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা স্পষ্ট। একদিকে যেখানে অনেকে তাঁর বক্তব্যে একজন বাবার আবেগ খুঁজে পেয়েছেন, অন্যদিকে অনেকেই আবার তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সেই বক্তব্য মিলিয়ে দেখতে গিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

Rimi Datta

রিমি দত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। কপি রাইটার হিসেবে সাংবাদিকতা পেশায় চার বছরের অভিজ্ঞতা।

                 

You cannot copy content of this page