জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘জোয়ার ভাঁটা’-র (Jowar Bhanta) সাম্প্রতিক পর্বে একের পর এক নাটকীয় ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন দর্শকরা। বহু টানাপোড়েনের পর নিশা নিজের অতীতের ভুল শুধরে নতুন জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। উজির কথায় বিশ্বাস করে সে লুকিয়ে রাখা সমস্ত টাকা ফিরিয়ে দেয় এবং ভালোবাসার সম্পর্কে নতুন করে ভরসা রাখে। এরপর জিৎ ও নিশার বিয়ের আয়োজনও সম্পন্ন হয়। কিন্তু সুখের সেই মুহূর্ত বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বিয়ের দিনই পুলিশ এসে নিশাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। জিতের সেই সিদ্ধান্ত এবং দায়িত্বের যুক্তি দর্শকদের মধ্যে তখন থেকেই তুমুল আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে।
গ্রেফতার হওয়ার আগে নিশা যে সংলাপ বলেছিল, সেটিই এখন আবার নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে। সে স্পষ্ট জানিয়েছিল, একদিন পুলিশ এবং আইনকেও তাকে সম্মান জানাতে হবে। সেই সময় অনেকেই এটিকে শুধুই চরিত্রের আত্মবিশ্বাস বা প্রতিশোধের ভাষা বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু ধারাবাহিকের গল্প এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, এই সংলাপের পিছনে কি আরও বড় কোনও ইঙ্গিত লুকিয়ে ছিল? সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্ট সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
এই ধারাবাহিকে নিশা মিত্রর চরিত্রে অভিনয় করছেন অভিনেত্রী শ্রুতি দাস। সম্প্রতি নিজের সামাজিক মাধ্যমের পাতায় তিনি একটি ছবি শেয়ার করেছেন, যা নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, নীল পাড় সাদা শাড়ি পরে একটি রাজনৈতিক মঞ্চের মতো জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন তিনি। ছবির পেছনে স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে, ‘ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন নিশা মিত্রকে।’ এই একটি বাক্যই দর্শকদের মধ্যে নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, ধারাবাহিকের আগামী গল্পে হয়তো একেবারে নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে।
সামাজিক মাধ্যমে ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর দর্শকদের নানা প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। কেউ লিখেছেন, “নিশা তো আগেই বলেছিল একদিন পুলিশ ডিপার্টমেন্ট মহারানীকেই স্যালুট করবে, মনে হচ্ছে সেই সময় এবার সত্যিই আসছে।” আবার কেউ মজা করে মন্তব্য করেছেন, “এবার বোধহয় নিশা সাংসদ হয়ে ফিরে আসবে।” আরও এক দর্শকের কথায়, “যদি সত্যিই এমনটা হয়, তাহলে গল্প আরও জমে যাবে।” অনেকে আবার কল্পনা করতে শুরু করেছেন, ভবিষ্যতে জিৎ বসুকেই হয়তো নিশার পিছনে পিছনে ঘুরতে দেখা যাবে।
আরও পড়ুনঃ “টিফিনে থাকত মাত্র ৫টা মেরি বিস্কুট, মায়ের ওপর খুব রাগ হত!” বাবা-মা দুজনেই ছিলেন চাকরিজীবী, দু’জনের তীব্র ব্যস্ততায় তবে কী অবহেলায় বড় হন অভিনেতা? কী নিয়ে অভিমান রয়েছে তাঁর?
যদিও ধারাবাহিকের নির্মাতাদের পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, তবুও একটি পোস্টার ঘিরেই দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে প্রবল আগ্রহ। জেলবন্দি নিশার গল্প কি এবার রাজনীতির মঞ্চে পৌঁছাবে, নাকি এটি শুধুই নতুন কোনও চমকের ইঙ্গিত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, শ্রুতি দাসের এই পোস্ট ঘিরে ‘জোয়ার ভাঁটা’-র অনুরাগীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন দর্শকদের অপেক্ষা, সত্যিই কি মহারানী নিশা মিত্র আগের থেকেও আরও শক্তিশালী রূপে ফিরে আসবে?
