জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

‘কুসুম’-এর খ’লনায়িকার চরিত্রে দা’পট, কিন্তু বাস্তবে কেমন মানুষ পামেলা কাঞ্জিলাল? কেন তাঁকে নিয়েই সবসময় আত’ঙ্কে থাকেন তাঁর শাশুড়ি? বৈবাহিক জীবনের কোন অজানা গল্প প্রকাশ্যে আনলেন অভিনেত্রী?

বাংলা টেলিভিশনের ধারাবাহিকগুলোতে খলচরিত্র মানেই আলাদা উত্তেজনা, আলাদা টান। বিশেষ করে ‘ধূসর’ বা গ্রে শেডের চরিত্রগুলো দর্শকদের মনে একদিকে যেমন তীব্র রাগ তৈরি করে, অন্যদিকে গল্পের মোড় ঘোরানোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এমনই এক চরিত্র ‘দেবলীনা’, যিনি জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘কুসুম’-এ দর্শকদের চোখে একদিকে আতঙ্ক, আবার অন্যদিকে কাহিনির অন্যতম চালিকাশক্তি। পর্দায় তার কঠোর আচরণ, শাসন এবং চতুর পরিকল্পনা অনেক সময়ই দর্শকদের বিরক্তির কারণ হলেও, সেই চরিত্রই গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যায় নাটকীয় মোড়ে।

এই চরিত্রে অভিনয় করে যিনি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি অভিনেত্রী পামেলা কাঞ্জিলাল। ধারাবাহিকের দর্শকদের কাছে তিনি এখন এক পরিচিত মুখ। খলনায়িকার চরিত্রে অভিনয় করলেও বাস্তব জীবনে তিনি একেবারেই আলাদা স্বভাবের মানুষ। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে খোলামেলা আড্ডায় তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবন, অভিনয় জগতে আসার গল্প এবং পারিবারিক অভিজ্ঞতা নিয়ে নানা অজানা কথা শেয়ার করেছেন। অভিনেত্রীর কথায়, পর্দায় তাকে দেখে যতই মানুষ রেগে যান না কেন, বাস্তবে তিনি অত্যন্ত শান্ত, কম কথা বলা এবং অনেকটাই অন্তর্মুখী স্বভাবের মানুষ।

অভিনেত্রী জানান, অভিনয় জগতে আসাটা তার জীবনের প্রথম থেকে কোনো পরিকল্পনার অংশ ছিল না। তিনি কখনোই ভাবেননি যে তিনি ক্যামেরার সামনে আসবেন বা অভিনয় করবেন। শুরুতে তিনি ফ্যাশন ডিজাইনিং নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন এবং সেটাকেই ভবিষ্যৎ হিসেবে ভেবেছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার মনে হয়, এই ক্ষেত্রটি হয়তো তার জন্য সঠিক নয়। এরপর পরিবারই তাকে নতুন দিশা দেখায়। তার মা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা তাকে বিনোদন জগতে আসার জন্য উৎসাহ দেন। সেই থেকেই শুরু হয় অডিশন দেওয়া এবং ধীরে ধীরে অভিনয় জগতে তার যাত্রা।

ব্যক্তিগত জীবনের কথাও সাক্ষাৎকারে উঠে আসে। সম্প্রতি বিয়ে হয়েছে অভিনেত্রীর। নতুন শ্বশুরবাড়ির অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি জানান, তার শাশুড়ি আগে নিয়মিত তার ধারাবাহিক দেখতেন। তবে চরিত্রের ভয়ঙ্কর রূপ দেখে একসময় তিনি সিরিয়াল দেখা কমিয়ে দেন। পরে অভিনেত্রী নিজেই তাকে জিজ্ঞাসা করলে শাশুড়ি মজার ছলে জানান, পর্দায় পামেলার চরিত্রকে দেখে তার ভয় হয় কখন কী ঘটে যায়। এই ঘটনাই প্রমাণ করে, তিনি যে চরিত্রে অভিনয় করছেন তা কতটা বাস্তবসম্মতভাবে পর্দায় ফুটে উঠছে, যা দর্শকদের পাশাপাশি পরিবারের মধ্যেও প্রভাব ফেলছে।

অভিনেত্রী আরও জানান, বাস্তবে তার স্বামী তার সবচেয়ে বড় সাপোর্ট সিস্টেম। অভিনয় জীবনের প্রতিটি ধাপে তিনি পাশে থাকেন এবং মানসিকভাবে তাকে শক্তি দেন। কঠিন শুটিং শিডিউল হোক বা চরিত্র নিয়ে মানসিক চাপ সবকিছুতেই স্বামীর সমর্থন তাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। অভিনেত্রীর মতে, পরিবার এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের এই সমর্থন ছাড়া ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকা অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়ে।

সব মিলিয়ে পামেলা কাঞ্জিলালের জীবন যেমন পর্দার বাইরে শান্ত ও সাধারণ, তেমনই পর্দায় তিনি হয়ে উঠেছেন এক তীব্র প্রভাবশালী খলনায়িকা। শাশুড়ির ভয় পাওয়ার ঘটনাই আবারও প্রমাণ করে, ধারাবাহিকের ‘বৌমা আতঙ্ক’ বা খল চরিত্রগুলো কতটা বাস্তবের অনুভূতি তৈরি করতে পারে দর্শকদের মনে। অভিনেত্রীর এই যাত্রা এখন দর্শকদের কাছে আরও কৌতূহল তৈরি করছে আগামী দিনে ‘দেবলীনা’ চরিত্রটি কোন দিকে মোড় নেবে, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page