জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

দাদাগিরি, দিদি নাম্বার ওয়ান থেকে রান্নাঘর…বদলেছে মুখ, এমনকি ফরম্যাটও! বছরের পর বছর এক মুখের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতি কি মুছে যাবে এত সহজে? আপনাদের কী মনে হয়, নতুন মুখের হাত ধরে কি বাড়বে জনপ্রিয়তা, নাকি হারাবে সেই চেনা ম্যাজিক?

বাংলা টেলিভিশনের ইতিহাসে এমন কিছু অনুষ্ঠান রয়েছে, যেগুলি শুধুমাত্র বিনোদনের মাধ্যম হয়ে থাকেনি, বরং ধীরে ধীরে দর্শকদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। বছরের পর বছর ধরে একই সময়ে, একই মুখকে দেখে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন দর্শকরা। সেই কারণেই কোনও জনপ্রিয় অনুষ্ঠানের ফরম্যাট বা সঞ্চালক বদল হলে তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা শুরু হয়। সম্প্রতি জি বাংলার একাধিক জনপ্রিয় অনুষ্ঠানকে ঘিরে এমনই বড় পরিবর্তনের খবর সামনে এসেছে। আর সেই পরিবর্তন নিয়েই এখন দর্শকমহলে জোর চর্চা চলছে।

সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে ‘দিদি নাম্বার ওয়ান’কে ঘিরে। দীর্ঘদিন ধরে রচনা ব্যানার্জির উপস্থিতি এই অনুষ্ঠানের পরিচয়ের সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়ে গিয়েছে যে, অনেক দর্শকের কাছে ‘দিদি নাম্বার ওয়ান’ এবং রচনা ব্যানার্জি যেন একই মুদ্রার দুই পিঠ। অসংখ্য প্রতিযোগীর জীবনের গল্প, হাসি-কান্না এবং অনুপ্রেরণার মুহূর্তের সাক্ষী থেকেছেন তিনি। এবার সেই জায়গায় আসছেন স্বস্তিকা মুখার্জি। অভিনয় জগতে নিজের দক্ষতার প্রমাণ তিনি বহুবার দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু এত বছরের তৈরি হওয়া আবেগ এবং দর্শকদের সঙ্গে গড়ে ওঠা সেই বিশেষ সম্পর্ক নতুনভাবে তৈরি করতে সময় লাগবে বলেই মনে করছেন অনেকেই।

একইভাবে ‘দাদাগিরি’ নাম শুনলেই দর্শকদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে সৌরভ গাঙ্গুলীর মুখ। তাঁর সহজ কথাবার্তা, মজার মন্তব্য এবং প্রতিযোগীদের সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্ত সম্পর্ক অনুষ্ঠানটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। সেই জায়গায় এবার দেখা যাবে অভিনেতা দেবকে। বাংলা সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় তারকা হিসেবে দেবের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। তবে ‘দাদাগিরি’র সঙ্গে সৌরভ গাঙ্গুলীর যে দীর্ঘদিনের যোগ তৈরি হয়েছে, তা এত সহজে ভোলা সম্ভব কি না, সেই প্রশ্ন তুলছেন অনেক দর্শক। ফলে নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার আগেই তুলনা শুরু হয়ে গিয়েছে দুই প্রজন্মের দুই জনপ্রিয় মুখকে নিয়ে।

পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে রান্নার অনুষ্ঠানেও। একসময় ‘রান্নাঘর’ মানেই ছিল সুদীপা চট্টোপাধ্যায়ের পরিচিত উপস্থিতি। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি এই অনুষ্ঠানের মুখ হয়ে ছিলেন। পরে কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায় দায়িত্ব নেওয়ার পর ধীরে ধীরে নিজের মতো করে দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে সক্ষম হন। কিন্তু এবার শুধু সঞ্চালক নয়, পুরো অনুষ্ঠানটির ধরণই বদলে দেওয়া হচ্ছে। নতুন নামে ‘শাশুড়ি বৌমার রান্নাঘর’ হিসেবে আসছে এই শো, যেখানে রান্নার পাশাপাশি সম্পর্কের নানা দিকও তুলে ধরা হবে। ফলে দর্শকদের সামনে সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে চ্যানেল।

টেলিভিশনের জগতে পরিবর্তন নতুন কিছু নয়। সময়ের সঙ্গে অনুষ্ঠান, ফরম্যাট এবং মুখ বদলায়। কিন্তু কিছু কিছু অনুষ্ঠান এমনভাবে দর্শকদের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে যায়, যেখানে শুধু নতুন মুখ নিয়ে আসলেই পুরনো অনুভূতিকে প্রতিস্থাপন করা যায় না। ‘দিদি নাম্বার ওয়ান’ মানেই রচনা ব্যানার্জি, ‘দাদাগিরি’ মানেই সৌরভ গাঙ্গুলী, আর ‘রান্নাঘর’ বললেই এখনও অনেকের মনে প্রথমেই ভেসে ওঠে সুদীপা চট্টোপাধ্যায়ের নাম। এখন দেখার, জি বাংলার এই নতুন উদ্যোগ দর্শকদের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হয় এবং নতুন মুখগুলো নিজেদের আলাদা পরিচয় তৈরি করতে কতটা সফল হয়।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page