জি বাংলার ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’-এর (Kamala Nibas) গল্পে এই মুহূর্তে যেখানে নতুন জীবনে পা রেখেছে ঝিনুক, অন্যদিকে পল্লবীকে মন দিয়ে ঠকে যাওয়ায় ভেঙে পড়েছে আদিত্য। ধারাবাহিকের আজকের পর্বে শুরুতেই দেখা যায়, ঝিনুকের বিদায় হতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন কমলা। থেকে থেকেই তিনি মেয়ের কথা ভেবে দুশ্চিন্তায় কেঁদে ফেলেন ছেলের বউ থেকে শুরু করে নিজের মেয়েরা পর্যন্ত তাকে বোঝানোর চেষ্টা করে যে ঝিনুক ঠিক পারবে। একার সংসার হলেও, ঝিনুকের সেই বুদ্ধি এবং শিক্ষা আছে সবটা সামনে চলার।
তবুও এত অল্প বয়সে মেয়ের বিয়ে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করতে থাকেন কমলা। ছেলের বউ তাকে বোঝান যে সম্রাট খুব ভালো ছেলে, ঝিনুককে রানীর মতো করে রাখবে। মায়ের মন ভালো করতে পল্লবী ফোন করতে চায় ঝিনুককে, কিন্তু কমলা বারণ করেন কারণ মেয়ের গলার আওয়াজ শুনলে আবার কান্নায় ভেঙে পড়বেন তিনি। তাছাড়াও সবে নতুন বাড়িতে গেছে, ঝিনুককে একটু একা ছেড়ে দেওয়া উচিত। এদিকে কথা বলতে না পারলেও রাজুর কষ্ট সবার থেকে বেশি। ঝিনুকের একটি প্রাইজ জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদতে থাকে সে।
অন্যদিকে বাড়ির সামনে এসে গাড়ি থামায় সম্রাট, গাড়ির ভেতর থেকেই রাজপ্রাসাদের মতো বাড়ি দেখতে পেয়ে চক্ষু ছানাবড়া হয়ে যায় ঝিনুকের। সে বারবার জিজ্ঞেস করতে থাকে এটাই কি এবার থেকে তার বাড়ি? এরপর সম্রাট কোলে করে দরজার সামনে এনে দাঁড় করায় ঝিনুককে। তারপর বাড়িতে কেউ না থাকায় নিজেই নববধূকে বরণ করার সমস্ত আয়োজন করে। এমনকি ক্যামেরা পর্যন্ত রাখে যাতে এই বিশেষ মুহূর্ত আজীবনের মতো স্মৃতি হিসেবে থাকে। এত ভালোবাসা আর আদর যত্ন দেখে ঝিনুক বাপের বাড়ির দুঃখ কিছুটা হলেও ভুলে যায়।
এরপর ঠাকুর ঘরে নিয়ে যায় ঝিনুককে সম্রাট। সেখানে একটি মাত্র কালো রঙের গণেশ মূর্তি। ঝিনুক প্রশ্ন করে একটাই ঠাকুর কেন তার ঠাকুর ঘরে? সম্রাট জানায় যত বেশি ঠাকুর থাকবে তত বেশি পরিষ্কার করতে তার সময় লাগবে। এরপর পাশে রাখা একটা কাপড় নিয়ে গণেশ মূর্তি পরিষ্কার করতে শুরু করে সে। ঝিনুক বলে সবকিছু তো পরিষ্কারই আছে তাহলে আবার কি পরিষ্কার করছে সে? সম্রাট জানাই তোকে না দেখা গেল পরিষ্কার নেই সেটা! এরপরে প্রদীপ জ্বালতে বলে ঝিনুককে সে। ঝিনুক প্রদীপ জেলে দেশলাইতা সেখানেই রেখে দেয়।
আরও পড়ুনঃ আগেই হারিয়েছেন শ্রবণশক্তি! এবার হারানোর পথে হাঁটার ক্ষমতাও? চার দশক বলিউড কাঁপানো গায়িকা অলকা ইয়াগ্নিকের শারীরিক অবস্থা দেখে চোখে জল নেটপাড়ার
পরে সম্রাট দেখতে পেয়ে অস্বাভাবিক আচরণ করে সেটি ফেলে দেয়। ঝিনুক ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বেশ আশঙ্কার মধ্যেই পড়ে যায়, স্বামীর এমন ব্যবহার দেখে। নিজেকেই নিজে বলে এবার থেকে সতর্ক থাকতে হবে। ওদিকে আদিত্য বিয়ের পর থেকেই নিজের ঘর থেকেও বেরোচ্ছে না, খাবারও খাচ্ছে না। বারবার সেই একই দৃশ্য তার চোখের সামনে ভেসে উঠছে, যেখানে পল্লবীকে মিঠি মা বলে ডাকছে। সকালবেলা খাবার টেবিলে সবাই আদিত্যকে ডাকলে সে এসে বসে, কিন্তু কি হয়েছে জানতে চাইলে আবার সেই সব মনে পড়ায় বিরক্ত হয়ে চলে যায় কিছু না খেয়ে। একদিকে আদিত্য জীবনে ঝড়, অন্যদিকে ঝিনুকের জীবনে ছড়িয়ে পড়ছে অন্ধকার। কি হতে চলেছে পরবর্তী পর্বে?
