দীর্ঘদিন ধরে বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ চৈতী ঘোষাল। অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মন জয়ের পর এবার তিনি পা রাখলেন পরিচালনার জগতে। তাঁর পরিচালিত প্রথম বাংলা ছবি ‘নেভার মাইন্ড’ আগামী মাসের শুরুতেই মুক্তি পেতে চলেছে। নতুন এই দায়িত্ব নিয়ে তিনি যথেষ্ট আশাবাদী। একই সঙ্গে প্রথম ছবি পরিচালনার অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত লড়াই, কাজের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। ছবি মুক্তির আগে সেই সমস্ত অভিজ্ঞতার কথাই ভাগ করে নিলেন অভিনেত্রী-পরিচালক।
প্রথম ছবি পরিচালনা করতে গিয়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল, সেই প্রশ্নের উত্তরে চৈতী জানান, শুটিং শুরুর আগেই তিনি প্রতিটি দৃশ্য নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন। কোন দৃশ্য কীভাবে তৈরি হবে, কোন চরিত্র কীভাবে পর্দায় ফুটে উঠবে, সবকিছুই আগে থেকে ঠিক করেছিলেন। শুটিং চলাকালীন প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু পরিবর্তন করতে হলেও মূল পরিকল্পনা থেকে খুব বেশি সরে যেতে হয়নি। সীমিত বাজেট এবং হাতে খুব কম সময় থাকায় প্রতিটি কাজ ভেবেচিন্তে করতে হয়েছে। তবে তাঁর মতে, এখন সবচেয়ে কঠিন সময় হল ছবি মুক্তির অপেক্ষা।
‘নেভার মাইন্ড’ ছবির অন্যতম মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাঁর ছেলে অমর্ত্য রায়। কিন্তু পরিচালক হিসেবে ছেলের জন্য কোনও আলাদা সুবিধা রাখেননি বলেই জানান চৈতী। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “অমর্ত্য এই ছবির অভিনেতা। পরিচালক হিসেবে ছেলেকে কোনও বাড়তি সুবিধা দিইনি।” তিনি আরও মনে করেন, শিল্পীদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিলে তাঁদের সেরাটা বেরিয়ে আসে। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি পুরো ইউনিটের প্রত্যেককে সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছেন এবং পেশাদার পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন।
আড্ডায় উঠে আসে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও কাজের লড়াইয়ের কথাও। চৈতী জানান, গত কয়েক বছর ধরে তাঁকে ছোট পর্দায় দেখা যায়নি। তবে সেটি তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত ছিল না। দীর্ঘদিন কোনও কাজের প্রস্তাব না আসায় তাঁকে আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও দিন কাটাতে হয়েছে। কিন্তু সেই কঠিন সময়েও নিজের নীতির সঙ্গে আপস করেননি। তাঁর কথায়, “আমার চাহিদা খুব বেশি নয়। অন্যায়ের সঙ্গে আপস করে কাজ পাওয়ার চেষ্টা কখনও করিনি। তাই কিছু সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে, কিন্তু নিজের আত্মসম্মানের সঙ্গে কোনও দিন সমঝোতা করিনি।” তাঁর মতে, একজন শিল্পীর কাছে কাজ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই নিজের মূল্যবোধ ধরে রাখাও সমান জরুরি।
ছেলে অমর্ত্যর অভিনয় জগতে আসা নিয়েও নিজের অনুভূতির কথা জানিয়েছেন চৈতী। তিনি বলেন, অমর্ত্য পড়াশোনায় খুবই ভালো ছিল এবং চাইলে অন্য কোনও নিরাপদ পেশা বেছে নিতে পারত। কিন্তু অভিনয়ই ছিল তার স্বপ্ন। একজন মা হিসেবে তাঁর মনে স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তা ছিল, কারণ এই পেশায় সাফল্যের কোনও নিশ্চয়তা নেই। শিল্পীজীবনের অনিশ্চয়তা তাঁকে ভয় পাইয়েছিল। তবুও ছেলের স্বপ্নের পথে তিনি বাধা হয়ে দাঁড়াননি। বরং নিজের ইচ্ছা পূরণ করার সুযোগ করে দিয়েছেন এবং পাশে থেকেছেন সবসময়।
আরও পড়ুনঃ লে মু’ত দিয়া তেরে অপিনিয়ন পে…. কাকে এমন নোংরা ক’টাক্ষ করলেন অভিনেতা অর্কপ্রভ? কি হয়েছে শিল্পীর? কেন কেমন শব্দ চয়ন? প্রশ্ন তুলল নেট পাড়া
নিজের প্রথম ছবি ‘নেভার মাইন্ড’ প্রসঙ্গে চৈতী জানান, এটি শুধু একটি গল্প নয়, বরং মানুষের জীবন, সম্পর্ক এবং হঠাৎ ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলা এক আধুনিক সময়ের ছবি। পার্ক স্ট্রিটের একটি বারকে কেন্দ্র করে গল্প আবর্তিত হলেও ছবির মূল শক্তি মানুষের আবেগ, সম্পর্কের টানাপড়েন এবং বাস্তব জীবনের নানা অনুভূতি। দর্শক এই গল্পের সঙ্গে নিজেদের মিল খুঁজে পাবেন বলেই তাঁর বিশ্বাস। পাশাপাশি অভিনেত্রী ও প্রযোজক ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর পেশাদারিত্ব, কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং অভিনয়ের প্রতি একাগ্রতার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। পরিচালক হিসেবে তাঁর আরও দাবি, এই ছবি বিশেষ করে কলকাতাবাসীর মনে আলাদা ছাপ ফেলবে। ভরা শীতের মধ্যে, উৎসবমুখর পার্ক স্ট্রিটে গভীর রাত পর্যন্ত শুটিং চলেছে। হাড় কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যেও গোটা টিম একটাই কথা বলেছে, “নেভার মাইন্ড”, “দ্য শো মাস্ট গো অন।”
