জি বাংলার ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’-এর (Kamala Nibas) সাম্প্রতিক পর্বে একদিকে যেমন সম্পর্কের সূক্ষ্ম অনুভূতি ধরা পড়েছে, অন্যদিকে উঠে এসেছে মানসিক চাপে থাকা গৃহবধূর অসহায় অবস্থাও। আজকের পর্বের শুরুতেই দেখা যায়, সম্রাটের আচরণ দিন দিন আরও অস্বাভাবিক হয়ে উঠছে। এবার সে ঝিনুককে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তার জীবনে সবকিছুই নিখুঁত হওয়া দরকার, তাই ঝিনুককেও তার তৈরি নিয়ম মেনেই চলতে হবে। এরপর সে ঝিনুকের হাতে একটি কড়া রুটিন তুলে দেয়, যেখানে দিনের প্রতিটি কাজ কীভাবে করতে হবে, তার বিস্তারিত নির্দেশ লেখা।
ভয়ে কাঁপলেও ঝিনুক কোনও প্রতিবাদ করতে পারে না। সবকিছু চুপচাপ মেনে নেওয়া ছাড়া তার সামনে যেন আর কোনও পথ খোলা থাকে না। অন্যদিকে কমলাকে দেখা যায় রাজুকে নিয়ে মন্দিরে যেতে। সেখানে পুজো দিতে গিয়ে কমলা ভগবানের কাছে প্রার্থনা করে। সে চায়, পল্লবীর জীবনে একজন ভালো মানুষ আসুক এবং রাজুর ভবিষ্যৎও সুন্দরভাবে গড়ে উঠুক। কমলার এই প্রার্থনার কিছুক্ষণের মধ্যেই মন্দিরে এক তরুণীর আগমন ঘটে। পুজোর জন্য সে পুরোহিতকে ডাকতেই তার কণ্ঠস্বর আর উপস্থিতি রাজুর মন কেড়ে নেয়। প্রথম দেখাতেই রাজু যেন মেয়েটির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে।
নিঃসন্দেহে এবার রাজুর জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। এদিকে আদিত্য ঠাকুমার হাতে বানানো জিলিপি নিয়ে কমলাদের বাড়িতে আসে। সবাই মিলে আনন্দ করে জিলিপি খেতে খেতে গল্পে মেতে ওঠে। কিন্তু পল্লবী বাড়ি ফিরতে একটু দেরি করায় তার জন্য আর কোনও জিলিপি অবশিষ্ট থাকে না। পল্লবীর মন খারাপ দেখে আদিত্য নিজের ভাগে রাখা শেষ জিলিপিটাই তার হাতে তুলে দেয়। পল্লবীও হাসিমুখে সেই জিলিপিতে এক কামড় দিয়ে বাকিটা প্লেটে রেখে দেয়।
তবে এরপরই আসে পর্বের অপ্রত্যাশিত মুহূর্ত। পল্লবী ঘুরে যাওয়ার পর আদিত্য কোনও দ্বিধা না করেই সেই একই জিলিপি তুলে খেয়ে ফেলে। ঠিক সেই সময় আড়াল থেকে পুরো ঘটনাটা দেখে ফেলে পল্লবী। বারবার এমন সব ঘটনায় দু’জনের মধ্যে যে অদৃশ্য টান তৈরি হচ্ছে, তা যেন এতে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আদিত্যর এই আচরণে তার মনের অনুভূতির ইঙ্গিত যেমন মিলেছে, তেমনই পল্লবীর মুখের অভিব্যক্তিও বলে দেয়, ঘটনাটা তার মনেও আলাদা ছাপ ফেলেছে।
আরও পড়ুনঃ ‘আর্থিক কষ্ট ছিল, তবু আত্মসম্মান বিকিয়ে দিতে চাইনি’! ছেলেকে আলাদা সুবিধা দেননি কেন? এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কী ছিল কারণ? অমর্ত্য রায়ের নতুন সফরের আগে মুখ খুললেন চৈতী ঘোষাল
সব মিলিয়ে এদিনের পর্বে একসঙ্গে একাধিক গল্প এগিয়েছে। সম্রাটের নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণে ঝিনুকের জীবনে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে, আবার কমলার প্রার্থনার পর রাজুর জীবনে নতুন কারও আগমনের আভাস মিলেছে। একইসঙ্গে আদিত্য ও পল্লবীর সম্পর্কও ধীরে ধীরে অন্য এক জায়গায় পৌঁছনোর ইঙ্গিত দিয়েছে। বড় কোনও নাটকীয় মোড় না থাকলেও যেন এই ঘটনাগুলোর মাধ্যমে আগামী দিনের গল্পের ভিত্তি অনেকটাই তৈরি করে দিল এই পর্ব।
