অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকালমৃত্যুর ঘটনায় এখনও শোকের আবহ টলিপাড়ায়। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সামাজিক মাধ্যমে একটি দীর্ঘ কবিতা পোস্ট করে ফের আলোচনায় উঠে এলেন অভিনেতা জিতু কমল। নিজের লেখায় শুধু রাহুলের মৃত্যুর বেদনার কথাই নয়, বর্তমান সমাজ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও একাধিক ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন তিনি। পোস্টটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তা নিয়ে নেটমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
জিতু লিখেছেন, ‘২৯ আসে,ঊনত্রিশ যায়/ গৌতম-পুত্রের মৃত্যু তদন্ত, তদন্তেই থেকে যায়।’ জিতু আরও লিখছেন, ‘মুখে বিরোধীর সুখ্যাতি/ দরকার ছিল কী ভাই/ জেতার আগের সেই কুখ্যাতি।’
জিতুর কবিতার শুরুতেই উঠে এসেছে এক শিল্পীর অসময়ে চলে যাওয়ার কষ্ট। তিনি লিখেছেন, একজন মানুষের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, গোটা শিল্পী সমাজের জন্যও গভীর শূন্যতা তৈরি করে। তবে সেখানেই থেমে থাকেননি অভিনেতা। কবিতার পরের অংশে সমাজে ক্রমশ বেড়ে চলা হিংসা, অসহিষ্ণুতা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, আজকের সময়ে মানুষের জীবন যেন ক্রমশ অনিশ্চয়তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
কবিতার একাধিক লাইনে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিও ইঙ্গিত করেছেন জিতু। কোথাও সরাসরি কারও নাম না নিলেও ক্ষমতাসীনদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সমাজের সুস্থ পরিবেশ নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। কবিতার ভাষা ছিল আবেগঘন, কিন্তু তার মধ্যেই সামাজিক বার্তা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি ওড়িশার তালসারিতে একটি ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই পরিবার, সহকর্মী এবং অনুরাগীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। এই পরিস্থিতিতেই জিতুর পোস্ট নতুন করে সেই ঘটনার স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে এবং শিল্পী মহলেও নানা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘ওঁর বিরুদ্ধে কিছু বলার…’ ‘তাহলে আমি, মিঠুন, তাপস কেউ ছিলাম না?’ প্রসেনজিতের সাফল্য ঘিরে প্রচলিত ধারণা নিয়ে মুখ খুলেই বিতর্ক উস্কে দিলেন চিরঞ্জিত চক্রবর্তী! ইন্ডাস্ট্রির ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’কে নিয়ে ঠিক কী বললেন বর্ষীয়ান অভিনেতা?
জিতু কমলের এই কবিতা ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ কবিতার রাজনৈতিক ইঙ্গিত নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। সব মিলিয়ে রাহুলের মৃত্যু ঘিরে আবেগ, সমাজের বর্তমান পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক বার্তা একসঙ্গে উঠে আসায় জিতুর এই পোস্ট এখন নেটিজেনদের চর্চার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।
