জি বাংলার ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’-এ (Kamala Nibas) এবার একসঙ্গে এগোচ্ছে সংসারের টানাপোড়েন, মা-মেয়ের আবেগ আর নতুন সম্পর্কের সূক্ষ্ম ইঙ্গিত। আজকের পর্বের শুরুতেই দেখা যায়, শ্বশুরবাড়িতে সারাদিন ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে থাকতে থাকতে ঝিনুকের আর ভালো লাগেনা। একঘেয়েমি কাটাতে সে ফোন করে নিজের মা কমলাকে। ফোনের ওপার থেকে মায়ের স্নেহভরা কথা শুনে ঝিনুক অনেকটাই হালকা অনুভব করে। অন্যদিকে কমলাও মেয়ের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পারেন, ঝিনুক নতুন সংসারে ভালোই আছে। সেই আশ্বাস পাওয়ার পর ঝিনুক সিদ্ধান্ত নেয়, সম্রাটের পছন্দের খাবার নিজের হাতে রান্না করে তাকে চমকে দেবে।
তাই সে সম্রাটের পছন্দ-অপছন্দ সম্পর্কে জেনে রান্নার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এদিকে ঝিনুককে নিয়ে কমলার চিন্তা কিছুটা কমলেও, বড় মেয়ে পল্লবীকে নিয়ে তাঁর দুশ্চিন্তা যেন আরও বেড়েই চলেছে। সংসারের কাজ করতে করতেই কমলা-শ্রীনিবাস, পল্লবী এবং মিঠির সামনে সন্তানদের নিয়ে নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার কথা বলেন। তাঁর মতে, সংসারে নুন আর চিনি দুটোরই যেমন আলাদা গুরুত্ব রয়েছে, ঠিক তেমনই বাবা-মায়ের কাছেও সব সন্তান সমান প্রিয়। তবে সেই ভালোবাসা যেন সঠিকভাবে প্রকাশ পায়, সেটাই সবচেয়ে জরুরি। কথার মাঝেই তিনি পল্লবীর বিয়ের প্রসঙ্গ তুলতে চান। কিন্তু সেই বিষয়টি উঠতেই পল্লবী স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তার বিয়ে নিয়ে বাড়িতে আর কোনও আলোচনা হোক, সেটা সে চায় না।
মেয়ের এই কঠিন প্রতিক্রিয়ায় কমলা ভেঙে পড়েন। চোখের জল আটকাতে না পেরে তিনি শ্রীনিবাসের সামনে অসহায়ভাবে প্রশ্ন তোলেন, তাঁদের জীবনে আর কত পরীক্ষা বাকি আছে। অন্যদিকে গল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে রয়েছে আদিত্যর মন। পল্লবীকে নিয়ে সে এতটাই ভাবছে যে, নিজের দায়িত্ব আর বাবার দেওয়া কাজের দিকেও মন দিতে পারছে না। আদিত্যর এই পরিবর্তন সবচেয়ে আগে বুঝতে পারে তার বৌদি। বাইরে থেকে বিষয়টি নিয়ে মজা করলেও, আসলে তার মাথায় অন্য পরিকল্পনা চলছে। সে পরিস্থিতি নিজের সুবিধামতো ব্যবহার করতে চাইছে বলেই ইঙ্গিত মিলেছে।
ফলে আদিত্য-পল্লবীর সম্পর্কের পাশাপাশি বৌদির গোপন উদ্দেশ্যও গল্পে নতুন কৌতূহল তৈরি করছে। এরপর দেখা যায়, পল্লবীর ফেলে যাওয়া একটি ব্রেসলেট হাতে নিয়ে বাইকের উপর শুয়ে একমনে ভাবছে আদিত্য। সেই সময় আচমকাই সেখানে এসে দাঁড়ায় পল্লবী। সে জানায়, নিজের ব্রেসলেট ফেরত নিতে এসেছে এবং আদিত্যকেই অনুরোধ করে সেটি নিজের হাতে পরিয়ে দিতে। পল্লবীর এমন কথায় আদিত্য প্রথমে অবাক হয়ে গেলেও পরে হাসিমুখে তার হাতে ব্রেসলেটটি পরিয়ে দেয়।
আরও পড়ুনঃ ‘যোগ্যতা লাগে আরবানায় থাকতে…’ নিজের ‘দাম’ বোঝাতে গিয়ে অহংকারী মন্তব্যের জেরে, ভাস্বর ও শ্রীলেখাদের সপাটে জবাবে উল্টে নিজেই ধুয়ে গেলেন রচনা বন্দোপাধ্যায়! বিতর্ক সরগরম সামাজমাধ্যম!
সব মিলিয়ে বর্তমান পর্বে একদিকে যেমন ঝিনুক ও সম্রাটের সম্পর্ক আরও আন্তরিক হওয়ার আভাস মিলেছে, তেমনই কমলা-পল্লবীর মানসিক দূরত্বও স্পষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি আদিত্যর একতরফা ভালোবাসা, বৌদির গোপন পরিকল্পনা এবং আগামী দিনের সম্ভাব্য রোম্যান্টিক মোড়, সবকিছু মিলিয়ে ধারাবাহিকটি ধীরে ধীরে নতুন নতুন স্তর তৈরি করছে। আগামী পর্বে আদিত্যর কল্পনা বাস্তবে রূপ নেয় কি না, আর পল্লবী নিজের মন খুলে কিছু বলতে পারে কি না, সেদিকেই এখন দর্শকদের নজর।
