অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় গত দুই বছর আগে রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক ময়দানেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। তবে রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই তাঁর অবস্থানে বড় পরিবর্তন দেখা যায়। একের পর এক সাক্ষাৎকারে তিনি আগের দল এবং নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন। এমনকি তিনি দাবি করেন, তাঁকে শুধুমাত্র ব্যবহার করা হয়েছিল এবং তাঁর অবদান না থাকলে হুগলি জেলায় প্রত্যাশিত ফল আসত না। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে যেমন আলোচনা শুরু হয়, তেমনই বিভিন্ন মহল থেকেও নানা প্রতিক্রিয়া সামনে আসতে থাকে। এরপরই রচনাকে নিয়ে নতুন করে শুরু হয় বিতর্ক।
রচনার সেই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, এখন আর আগের মতো ব্যস্ততা নেই রচনার জীবনে। এমনকি মন্তব্য করেন, “এখন তো দিদি নাম্বার ওয়ানও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বাড়িতে শুধুমাত্র দুধওয়ালা আর কাগজওয়ালা ছাড়া আর কেউ আসে না ওই আরবানার ফ্ল্যাটে।” এই মন্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সমাজ মাধ্যমে। অনেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। এরপর সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলে কল্যাণের এই বক্তব্যের জবাব দেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্যও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে।
নিউজ ১৮ বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রচনা বলেন, “আমি একমাত্র পশ্চিমবাংলার অভিনেত্রী যিনি অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে কাজ করেছি। প্রায় ২০০ টির বেশি ছবি করেছি আমি। যোগ্যতা ছিল বলেই আমি আরবানার ফ্ল্যাট কিনতে পেরেছি। আমি যেটুকু করেছি সেটুকু আমার অভিনয়ের যোগ্যতায় করেছি, তৃণমূল থেকে করিনি।” শুধু এতেই থেমে থাকেননি তিনি। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে আরও প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “আপনি কি করে জানলেন আমার বাড়িতে দুধওয়ালা আর কাগজওয়ালা ছাড়া আর কেউ আসে না? আপনি কি আমার ফ্ল্যাটের তলায় বসে থাকেন? সারারাত জেগে পাহারা দেন? আপনি কি আমার বাড়ির কেয়ারটেকার?” রচনার এই মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়।
তবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে জবাব দিতে গিয়েই নতুন বিতর্কের মুখে পড়েন অভিনেত্রী। বিশেষ করে “যোগ্যতা ছিল বলেই আমি আরবানার ফ্ল্যাট কিনতে পেরেছি” এই মন্তব্য ঘিরেই সমাজ মাধ্যমে শুরু হয় তীব্র আলোচনা। টলিউডের একাংশও নাম না করেই রচনার এই বক্তব্যকে কটাক্ষ করতে শুরু করেন। অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় সমাজ মাধ্যমে লেখেন, “আরবানাতে থাকতে গেলে যোগ্যতা লাগে শুনলাম। তাহলে যারা Atmosphere বা 42 তে আছেন তারা কি বলবেন?” তাঁর এই পোস্ট ঘিরেও নেটমাধ্যমে শুরু হয় নানা প্রতিক্রিয়া।
আরও পড়ুনঃ “আমি ভীষণ…এটাকেই আমার চরিত্রের সবচেয়ে খারাপ দোষ বলে মনে করি!” নিজের চরিত্রের কোন দিক নিয়ে প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুললেন কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়? কী এমন আছে তাঁর স্বভাবে, যা নিয়ে আক্ষেপ করেন অভিনেতা?
শুধু ভাস্বরই নন, অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রও নাম না করে কটাক্ষ করেন। তিনি লেখেন, “এই আরবানাতে থাকার যোগ্যতা থাকার লিস্ট করলে কেউ পাঠাবেন। মিলিয়ে দেখব কার কার আছে।” এর পাশাপাশি টলিউডের আরও কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তিত্বও রচনার নাম উল্লেখ না করেই একই প্রসঙ্গে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করেন। ফলে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে দেওয়া রচনার জবাবই শেষ পর্যন্ত নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়। রাজনৈতিক মন্তব্য থেকে শুরু হওয়া এই ঘটনায় এখন সমাজ মাধ্যমেও চলছে জোর আলোচনা। অভিনেত্রীর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই নতুন করে সরগরম হয়ে উঠেছে টলিউড এবং রাজনৈতিক মহল।
