জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“আমি ভীষণ…এটাকেই আমার চরিত্রের সবচেয়ে খারাপ দোষ বলে মনে করি!” নিজের চরিত্রের কোন দিক নিয়ে প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুললেন কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়? কী এমন আছে তাঁর স্বভাবে, যা নিয়ে আক্ষেপ করেন অভিনেতা?

টলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায় (Kaushik Banerjee)। কিংবদন্তি অভিনেতা হরধন বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে হলেও নিজের অভিনয় দক্ষতার জোরেই তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে একের পর এক ছবিতে নানান ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেছেন তিনি। খলনায়ক থেকে চরিত্রাভিনেতা, বাণিজ্যিক ছবি থেকে সমান্তরাল সিনেমা সব ক্ষেত্রেই নিজের স্বতন্ত্র ছাপ রেখে গিয়েছেন। সম্প্রতি তাঁর একটি সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে একাধিক অকপট মন্তব্য করে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন।

সাক্ষাৎকারে কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তিনি কখনও নিজেকে রাজনীতির জন্য উপযুক্ত মানুষ বলে মনে করেননি। তাঁর কথায়, বর্তমান সময়ে রাজনীতি করতে গেলে যে ধরনের মানসিকতা দরকার, তা তাঁর স্বভাবের সঙ্গে মেলে না। তিনি বলেন, অনর্গল মিথ্যা বলার সাহস তার নেই। একই সঙ্গে নিজেকে অত্যন্ত লাজুক এবং মুখচোরা মানুষ বলেও উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, মানুষের সঙ্গে সহজে মিশে যাওয়া কিংবা নিজেকে সামনে তুলে ধরার অভ্যাসও তাঁর খুব একটা নেই। তাই রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার কথা কোনওদিন গুরুত্ব দিয়ে ভাবেননি। নিজের এই স্বভাবকে তিনি দুর্বলতা হিসেবে নয়, বরং নিজের চরিত্রের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বলেই মনে করেন।

অভিনয় জীবন নিয়েও স্মৃতি টেনে তিনি বলেন, তখন সিনেমা হলে বাংলা ভাষায় টিকিট ছাপা হতো এবং ছবি ঘিরে দর্শকদের উন্মাদনাও ছিল অন্যরকম। সেই প্রসঙ্গেই তিনি নিজের অভিনয় জীবন সম্পর্কে এক বিরল আত্মসমালোচনাও করেন। তাঁর দাবি, তরুণ মজুমদারের জনপ্রিয় ছবি ‘দাদার কীর্তি’-তে তাপস পালের করা ‘কেদার’ চরিত্রটি যদি তাঁকে দেওয়া হতো, তাহলে ছবিটি হয়তো এতটা সফল হতো না। একজন অভিনেতা হিসেবে অন্য শিল্পীর সাফল্যকে প্রকাশ্যে এভাবে স্বীকার করে নেওয়া খুব একটা দেখা যায় না। তাঁর এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই অনেকের নজর কেড়েছে।

টলিউডের কাজের পরিবেশ নিয়েও কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য ছিল যথেষ্ট স্পষ্ট। তিনি বলেন, দীর্ঘ অভিনয় জীবনে কাজ পাওয়ার জন্য কখনও কারও বাড়িতে গিয়ে যোগাযোগ বাড়ানো বা তোষামোদ করার চেষ্টা করেননি। ইন্ডাস্ট্রিতে প্রচলিত তথাকথিত ‘লবিং’-এর পথ তিনি কোনওদিন অনুসরণ করেননি বলেই দাবি করেন অভিনেতা। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক সিনেমা এবং সমান্তরাল ধারার ছবিকে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেন তিনি। তাঁর মতে, দর্শকের ভালোবাসাই একজন অভিনেতাকে প্রকৃত তারকায় পরিণত করে। সাধারণ মানুষ সিনেমা হলে কোনও অভিনেতার প্রবেশে হাততালি বা সিটি দিলে তবেই সেই জনপ্রিয়তার প্রকৃত মূল্য বোঝা যায়।

এদিন সাক্ষাৎকারে আরও উঠে এসেছে ঋতুপর্ণ ঘোষের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা এবং প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কেরিয়ারের শুরুর লড়াই সম্পর্কেও তাঁর পর্যবেক্ষণ। কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ঋতুপর্ণ নিজের কাজের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর এবং আপসহীন ছিলেন। আবার প্রসেনজিৎকে প্রথম দিকের কঠিন সময় পেরিয়ে আজকের জায়গায় পৌঁছতে খুব কাছ থেকে দেখেছেন বলেও জানান তিনি। দীর্ঘ চার দশকের অভিনয় জীবনের অভিজ্ঞতা, নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করার সততা, রাজনীতি নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান এবং ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহল সম্পর্কে খোলামেলা মন্তব্য মিলিয়ে তাঁর এই পডকাস্টের ঝলক ইতিমধ্যেই বাংলা বিনোদন জগতে নতুন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page