জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

কি এমন কাজ যে ৫০ হাজার টাকার চাকরি? পল্লবীর সুখবর শুনেই কটা’ক্ষ সমরের, আজও সমাজে মেয়েরা উচ্চ বেতনের চাকরি পেলে কটা’ক্ষ কেন শুনতে হয়? বাস্তব দেখাচ্ছে কমলা নিবাস?

জি বাংলার ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’-এর গল্পে এবার একসঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মোড় এসেছে। সাম্প্রতিক পর্বে পল্লবী বুঝতে পারে, নিজের আপন মানুষ বলে যাদের এতদিন ভরসা করেছে, প্রয়োজনে তারাই সবচেয়ে কঠিন কথা বলতে পারে। দাদাদের স্বার্থপর আচরণ এবং অপমানজনক মন্তব্য তাকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দেয়। সেই আঘাত থেকেই পল্লবী সিদ্ধান্ত নেয়, আর কারও ওপর নির্ভর করে নয়, নিজের যোগ্যতায় দাঁড়াতেই হবে। নিজের আত্মসম্মান বজায় রাখতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটি চাকরি খুঁজে নেওয়ার লক্ষ্য স্থির করে সে। অন্যদিকে, গল্পে একেবারে ভিন্ন আবহ তৈরি হয় আদিত্য ও পল্লবীর মুহূর্তে। দু’জনে একসঙ্গে বাইকে ঘুরতে বেরোয়, আর সেই সময় আদিত্য ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে পল্লবীর জন্য কাঁচের চুড়ি কিনে নিজের হাতে পরিয়ে দেয়।

তাঁদের সম্পর্ক যে ধীরে ধীরে আরও গভীর হচ্ছে, সেই ইঙ্গিতও স্পষ্টভাবে উঠে আসে এই দৃশ্যে। অন্যদিকে, সম্রাট এবং ঝিনুকের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়তে শুরু করেছে। ঝিনুকের এক বন্ধুকে নিয়ে সম্রাটের মধ্যে প্রবল অধিকারবোধ কাজ করতে দেখা যায়। রাগের মাথায় সে জানিয়ে দেয়, ঝিনুকের জীবনে অন্য কারও জন্য অপেক্ষা করে থাকার মানুষ সে নয়, কারণ সে নিজেকে ঝিনুকের স্বামী এবং তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ বলেই মনে করে। নিজের রাগ সামলাতে না পেরে হাতের কাঁচের গ্লাস ভেঙে ফেলে সম্রাট। কিন্তু আগামী পর্বে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, যখন ঝিনুক সরাসরি সম্রাটকে প্রশ্ন করে, সে কি ইচ্ছে করেই দরজায় তালা লাগিয়ে রেখে যায়?

কারণ বহু চেষ্টা করেও সে দরজা খুলতে পারছে না। এই প্রশ্ন শুনে সম্রাট স্পষ্টভাবে অস্বস্তিতে পড়ে যায়। তার মুখের ভাবই বুঝিয়ে দেয়, বিষয়টি নিয়ে সে কিছু লুকোতে চাইছে। এখন দেখার, ঝিনুক কি ধীরে ধীরে সম্রাটের গোপন পরিকল্পনার হদিস পেয়ে যাবে, নাকি সম্রাট আবারও সত্যিটা আড়াল করতে সফল হবে। এদিকে, নিজের সিদ্ধান্তে অটল থেকে অবশেষে চাকরি জোগাড় করে ফেলে পল্লবী। নতুন কাজ পাওয়ার আনন্দে সে বাড়ির সকলকে মিষ্টি খাইয়ে সুখবর জানায়। পরিবারের সদস্যরাও পল্লবীর এই সাফল্যে খুশি হন। কিন্তু সেই আনন্দের মধ্যেই সমর আবারও কটাক্ষ করতে ছাড়ে না। সে প্রশ্ন তোলে, এমন কী চাকরি যেখানে একটি মেয়ের মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন হতে পারে!

তার এই মন্তব্যে কিছুক্ষণের জন্য পরিবেশ অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। তবে এবার কেউ চুপ করে থাকেনি। শ্রীনিবাস শান্তভাবে কিন্তু দৃঢ়তার সঙ্গে সমরকে বুঝিয়ে দেয়, অন্যের সাফল্যে খুশি হওয়ার পরিবর্তে এভাবে বিদ্রুপ করা খুবই ছোট মানসিকতার পরিচয়। পল্লবীর পরিশ্রমে অর্জিত এই সাফল্য নিয়ে পরিবারের গর্বিত হওয়াই উচিত বলে জানিয়ে সমরের সমস্ত মন্তব্যের জবাব দিয়ে দেয় সে। একদিকে যেমন পল্লবীর আত্মনির্ভর হওয়ার লড়াই যেমন নতুন দিশা দেখাচ্ছে, তেমনই আদিত্যর সঙ্গে তার সম্পর্কেও ধীরে ধীরে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, সম্রাটের আচরণ ক্রমশ সন্দেহজনক হয়ে উঠছে।

ঝিনুকও এবার প্রশ্ন করতে শুরু করেছে। ফলে একদিকে যেমন পরিবারে পল্লবীর নতুন পথচলা নিয়ে ইতিবাচক আবহ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সম্রাটকে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে। আগামী পর্বে এই দুই ভিন্ন ধারার গল্প কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দর্শকদের কাছে সবচেয়ে বড় আকর্ষণের বিষয়। সব মিলিয়ে ‘কমলা নিবাস’-এর সাম্প্রতিক এবং আগামী পর্বে একসঙ্গে উঠে এসেছে আত্মসম্মানের লড়াই, সম্পর্কের নতুন সূচনা, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং রহস্যের ইঙ্গিত। পল্লবীর চাকরি পাওয়া, সমরের কটাক্ষের জবাব, আদিত্যর সঙ্গে তার বাড়তে থাকা ঘনিষ্ঠতা এবং ঝিনুকের প্রশ্নে সম্রাটের অস্বস্তি, এই সবকটি ঘটনাই গল্পকে নতুন দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

Rimi Datta

রিমি দত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। কপি রাইটার হিসেবে সাংবাদিকতা পেশায় চার বছরের অভিজ্ঞতা।

                 

You cannot copy content of this page