লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশনের দুনিয়া থেকেই নিজের কর্মজীবন শুরু করেছিলেন অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়। বড় পর্দায় জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর ২০২১ সালে তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যোগ দেন এবং বিজেপির সদস্য হন। এরপর ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে শ্যামপুর কেন্দ্র থেকে দলের প্রার্থী হিসেবে লড়াই করেন। ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বীদের বড় ব্যবধানে হারিয়ে তিনি বিধায়ক নির্বাচিত হন। এবার আবার একটি নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে শিরোনামে উঠে এলেন হিরণ। তবে এই নতুন শুরু অভিনয় বা অন্য কোনও পেশাকে ঘিরে নয়, বরং নিজের বিধানসভা এলাকার উন্নয়নকে কেন্দ্র করেই তিনি বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছেন। সেই কথাই তিনি সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করা একটি ভিডিওর মাধ্যমে সকলের সামনে তুলে ধরেছেন।
ভিডিও বার্তায় হিরণ শ্যামপুরের বাসিন্দাদের উদ্দেশে বলেন, “সকল শ্যামপুরবাসীকে একটা ছোট্ট অনুরোধ করব। আমাদের এখানে এমন বহু মানুষ আছেন, যাঁরা এখন হয়তো অবসর নিয়েছেন, বা এমন একটা স্টেজে এসেছেন যখন তাঁরা কিছু করতে চান আমাদের সমাজের জন্য। আমি সেই সমস্ত মানুষদের উদ্দেশ্যে বলছি, যাঁরা শ্যামপুরের মানুষদের সার্বিক উন্নয়ন চান, সমস্ত দিক থেকেই, সেটা শিক্ষা, স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট যা কিছু হতে পারে। যাঁরা যাঁরা আপনার আগ্রহী, যাঁরা চান আমার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে আপনাদের উপদেশ বা অভিজ্ঞতা আমাদের সঙ্গে ভাগ করবেন, তাহলে করতে পারেন। আমরা তবে সার্বিক ভাবে শ্যামপুরের উন্নয়ন করতে পারব। অনেকটা সুবিধা হবে।” তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি অভিজ্ঞ এবং সমাজের জন্য কাজ করতে আগ্রহী মানুষদের একসঙ্গে নিয়ে উন্নয়নের কাজে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
কীভাবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে, সেটিও বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন হিরণ। তিনি বলেন, “ধরা যাক, কেউ বিডিও অফিসে কাজ করতেন, এখন আর করেন না। তিনি যদি কিছু বলতে চান, কীভাবে মানুষের আরও কাছে আমর পৌঁছতে পারি, সেটা বলতে পারেন।” তাঁর মতে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা থাকা মানুষদের পরামর্শ প্রশাসনিক কাজকে আরও কার্যকর করতে সাহায্য করবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক বিষয়ে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো গেলে সাধারণ মানুষের উপকার হবে। তাই শুধুমাত্র সরকারি উদ্যোগের উপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষের মতামত ও অভিজ্ঞতাকেও তিনি গুরুত্ব দিতে চান।
এই উদ্যোগে অংশ নিতে ইচ্ছুকদের জন্য যোগাযোগের ব্যবস্থাও জানিয়ে দিয়েছেন বিধায়ক। তিনি বলেন, “আমার একটা ফোন নম্বর ফেসবুকে দেওয়া আছে, ৭৪৭৮১৬১৪৭১, সেখানে হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেজ, বা ফোন করতে পারেন। ফোন করলে হয়তো একটু অসুবিধা হয়। এছাড়া শ্যামপুরে অফিস আছে, ওখানেও আসতে পারেন, যোগাযোগ করতে পারেন। চাইব, যাঁরা শ্যামপুরের সার্বিক উন্নয়ন করতে চান তাঁরা এগিয়ে আসবেন। আমি আপনাদের পাশে আছি, এবং আপনাদের সঙ্গে নিয়ে উন্নয়ন করতে চাই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও সুদৃঢ়, সুন্দর করে তুলুন। তারা যেন কাজ পায়, চাকরি পায় আমরা যেন সেই দিশা তাঁদের দেখাতে পারি।” তিনি স্পষ্ট জানান, এলাকার মানুষ চাইলে সরাসরি অফিসেও এসে নিজেদের মতামত জানাতে পারবেন।
আরও পড়ুনঃ কি এমন কাজ যে ৫০ হাজার টাকার চাকরি? পল্লবীর সুখবর শুনেই কটা’ক্ষ সমরের, আজও সমাজে মেয়েরা উচ্চ বেতনের চাকরি পেলে কটা’ক্ষ কেন শুনতে হয়? বাস্তব দেখাচ্ছে কমলা নিবাস?
হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর সমাজমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই এলাকার উন্নয়নের জন্য সাধারণ মানুষকে যুক্ত করার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বিধায়কের প্রশংসা করেছেন। আবার অনেকে সেই পোস্টের মন্তব্যে নিজেদের এলাকার সমস্যা, রাস্তা, পরিষেবা, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেছেন। ফলে নতুন এই উদ্যোগকে ঘিরে শ্যামপুরের মানুষের মধ্যে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন এই পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই নজর থাকছে সকলের।
