উচ্চশিক্ষার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পড়াশোনার খরচও। কলেজের ফি, পড়ার সামগ্রী, যাতায়াত থেকে শুরু করে নিত্যদিনের নানা খরচ সামলাতে অনেক পরিবারেরই হিমশিম খেতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে অধিকাংশ পড়ুয়া শুধুই পড়াশোনায় মন দেন। কিন্তু সেই চেনা ছবির বাইরে এক অন্যরকম উদাহরণ তৈরি করেছেন তরুণী শ্রুতি উপাধ্যায়। বিকমের ছাত্রী হয়েও তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের দায়িত্ব নিজেই কাঁধে তুলে নিয়েছেন। বাবা-মায়ের উপর আর্থিক চাপ না বাড়িয়ে নিজের পরিশ্রমেই এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
প্রতিদিন দুপুর প্রায় সাড়ে তিনটে থেকে বিকেল সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত কলকাতার নিউ মার্কেট মোড়ে দাঁড়িয়ে নিজের তৈরি ক্লে জুয়েলারি বিক্রি করেন শ্রুতি। রোদ, বৃষ্টি কিংবা ঝড়, কোনও প্রতিকূল আবহাওয়াই তাঁকে থামাতে পারে না। নিয়মিত কলেজের পড়াশোনা সামলে নির্দিষ্ট সময়ে তিনি দোকান সাজিয়ে বসেন। পথচলতি মানুষের কাছে নিজের হাতে তৈরি গয়নার পরিচয় তুলে ধরেন। এই অতিরিক্ত পরিশ্রমের একটাই উদ্দেশ্য, নিজের খরচের দায়িত্ব নিজেই নেওয়া এবং পরিবারের উপর বাড়তি বোঝা না চাপানো।
শুধু বিক্রি করাই নয়, প্রতিটি ক্লে জুয়েলারি নিজের হাতেই তৈরি করেন শ্রুতি। কানের দুল, গলার হারসহ নানা ধরনের অলঙ্কার তিনি নিজের সৃজনশীলতা দিয়ে তৈরি করেন। প্রতিটি ডিজাইনের পিছনে থাকে সময়, ধৈর্য এবং যত্ন। শুধু নিউ মার্কেটে দাঁড়িয়েই নয়, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও তিনি নিজের তৈরি জুয়েলারি বিক্রি করেন। ফলে ধীরে ধীরে তাঁর কাজ আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের একটি ছোট উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এই প্রচেষ্টা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার হয়ে উঠেছে।
বর্তমান সময়ে যখন অনেক তরুণ-তরুণী বিলাসী জীবনযাত্রাকেই সাফল্যের পরিচয় বলে মনে করেন, তখন শ্রুতির এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি তুলে ধরছে। তিনি প্রমাণ করে দিচ্ছেন, কোনও কাজই ছোট নয় এবং নিজের পরিশ্রমের মাধ্যমে স্বনির্ভর হওয়াই সবচেয়ে বড় পরিচয়। পড়াশোনার সঙ্গে কাজের ভারসাম্য বজায় রেখে তিনি যে নিষ্ঠার সঙ্গে এগিয়ে চলেছেন, তা সমাজের বহু মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে। তাঁর এই উদ্যোগ অনেক পড়ুয়াকেও নতুনভাবে ভাবতে উৎসাহ দিচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ ‘এটাই আমার কাশী-বারাণসী!’ বদলে যাওয়া টলিউড নিয়ে আক্ষেপ, তবে আবারও পরিচালনায় ফিরতে চান সুজিত গুহ! অসুস্থতার সময় পাশে কারা ছিলেন তাও জানালেন বর্ষীয়ান পরিচালক?
শ্রুতি উপাধ্যায়ের এই লড়াই শুধুমাত্র অর্থ উপার্জনের গল্প নয়, বরং আত্মসম্মান, দায়িত্ববোধ এবং আত্মনির্ভরতার এক বাস্তব উদাহরণ। পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা, নিজের স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা এবং কঠোর পরিশ্রমের প্রতি বিশ্বাসই তাঁকে আলাদা পরিচয় দিয়েছে। নিউ মার্কেটের ব্যস্ত রাস্তায় দাঁড়িয়ে হাতে তৈরি ক্লে জুয়েলারি বিক্রি করা এই তরুণী দেখিয়ে দিচ্ছেন, ইচ্ছাশক্তি থাকলে পড়াশোনা ও কাজ একসঙ্গে সামলানো অসম্ভব নয়। তাঁর এই পথচলা আজ অনেকের কাছেই সাহস, অনুপ্রেরণা এবং আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
