জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“২০১২ সাল থেকেই তৃণমূল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছি’ন্ন করেছি, স্বরূপ বিশ্বাস আমার সঙ্গে যে ব্যবহার করেছিলেন, তারপরই…..” স্বরূপের জন্যই কি ক্রমশ অন্ধকারে তলিয়ে গিয়েছিলেন লোকেশ ঘোষ? কেন এমন বিস্ফো’রক দাবি করলেন অভিনেতা?

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে বিনোদন জগতকে ঘিরে নানা অভিজ্ঞতা ও অন্দরমহলের গল্প বারবার সামনে এসেছে। বহু অভিনেতা, পরিচালক ও কলাকুশলী তাঁদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। কখনও অভিযোগ উঠেছে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার ভিত্তিতে সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার, আবার কখনও শিল্পীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার বা মতভেদের প্রসঙ্গও আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়া এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনকে কেন্দ্র করে অতীতে কী কী ঘটেছিল, তা নিয়ে এখনও নানা বিতর্ক রয়েছে। সম্প্রতি সেই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হল প্রবীণ অভিনেতা লোকেশ ঘোষের বক্তব্য। এক সাক্ষাৎকারে তিনি অতীতের এমন কিছু অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন, যা তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।

লোকেশ ঘোষ এক সময় বাংলা চলচ্চিত্রের অত্যন্ত পরিচিত মুখ ছিলেন। ‘লোফার’, ‘আসল-নকল’, ‘রাখী-পূর্ণিমা’ এবং ‘শ্রীমান ভূতনাথ’-এর মতো একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। রঞ্জিত মল্লিক, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-সহ টলিউডের বহু প্রথম সারির অভিনেতার সঙ্গে বড় পর্দা ভাগ করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর পারিবারিক পরিচয়ও ছিল যথেষ্ট সমৃদ্ধ। তাঁর মা ছিলেন বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী এবং বাবা ছিলেন সফল প্রযোজক। বিশেষ করে টেকনিশিয়ান স্টুডিওর সঙ্গে তাঁদের পরিবারের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সিনেমা থেকে অনেকটাই দূরে সরে গিয়েছেন লোকেশ ঘোষ এবং বর্তমানে তাঁকে বড় পর্দায় খুব একটা দেখা যায় না।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে লোকেশ ঘোষ জানান, ২০১২ সালের একটি ঘটনার পর তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর দাবি, সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা সদ্য প্রয়াত হয়েছেন। ওই সময়েরই একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে অভিনেতা বলেন, টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে তাঁর সঙ্গে স্বরূপ বিশ্বাসের বচসা হয়। তাঁর অভিযোগ, স্বরূপ বিশ্বাস তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার করেন এবং গলা উঁচু করে কথা বলেন। সেই ঘটনাই তাঁকে গভীরভাবে আঘাত করেছিল বলে জানান অভিনেতা।

লোকেশ ঘোষের কথায়, ওই মুহূর্তে তিনি স্বরূপ বিশ্বাসকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তিনি যেখানে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন, সেই টেকনিশিয়ান স্টুডিওর ছাদ তাঁর বাবার তৈরি। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি নিজের পরিবারের অবদানের কথা মনে করিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। অভিনেতার দাবি, সেই ঘটনার পরই তিনি স্থির করেন যে আর কখনও তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখবেন না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এরপর তিনি কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেননি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেননি, এমনকি কালীঘাটেও যাননি। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত ছিল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং আত্মসম্মানের জায়গা থেকে নেওয়া।

লোকেশ ঘোষের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে এসে তিনি যে অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন, তা রাজনৈতিক ও বিনোদন মহল দুই ক্ষেত্রেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও তাঁর এই বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি। ফলে ঘটনাটির অন্য দিক নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে বহু বছর পর নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে লোকেশ ঘোষ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, একটি ঘটনার প্রভাব কীভাবে একজন মানুষের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের উপর দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলতে পারে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page