অভিনেত্রী ও ইনফ্লুয়েন্সার সুস্মিতা রায়ের জীবনে এসেছে বহু প্রতীক্ষিত সুখবর। তিনি পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে প্রথমবার সকলের সামনে ছেলের নামও জানান তিনি। একরত্তির নাম রাখা হয়েছে ‘সিডো’। একই দিনে হাসপাতাল থেকে বাড়িও ফেরেন সুস্মিতা। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মাতৃত্বের অনুভূতি, সন্তানের জন্ম ঘিরে নীরব থাকার কারণ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের মনের কথা খোলাখুলিভাবে ভাগ করে নেন তিনি। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর মা হওয়ার এই মুহূর্তকে জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলেই উল্লেখ করেছেন অভিনেত্রী।
মাতৃত্ব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সুস্মিতা বলেন, “আমি আসলে ছেলেই চেয়েছিলাম। গতবার তো মেয়ে হয়েছিল। আমি চেয়েছিলাম আগেরবারের কোনও ট্রমা যেন আমার জীবনে আর না আসে।” সন্তান আসার খবর আগে প্রকাশ না করায় নানা সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে সেই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, “আমার বিয়ে এবং মা হওয়া দুটো একদম আলাদা বিষয়। আমি বিয়ে না করেও যদি সন্তানের জন্ম দিতাম তাহলেও আমি চেপে রাখতাম না। আমি চেয়েছিলাম আমার সন্তান যেন একটা পরিবারে বড় হয়ে ওঠে, তাই এই সিদ্ধান্ত।”
সুস্মিতা আরও জানান, ইচ্ছাকৃতভাবেই তিনি পুরো সময়টা ব্যক্তিগত রেখেছিলেন। তাঁর কথায়, “আমি চেয়েছিলাম সোশ্যাল মিডিয়া, কটাক্ষ এসবের থেকে আমার মাতৃত্ব, আমার সন্তানকে দূরে রাখতে। তাই প্রকাশ্যে আনিনি যতদিন না ওর জন্ম হয়েছে।” তিনি জানান, ছেলের নাম রেখেছেন তাঁর স্বামী শুভাশিস দে। এটাই তাঁদের সন্তানের ভালো নাম। ছেলেকে নিয়ে তাঁর সবচেয়ে বড় স্বপ্নের কথাও জানান অভিনেত্রী। তিনি বলেন, “ও যেন ভাল মানুষ হয়। আর উন্নত মস্তিষ্কের মানুষ হয়। সিডো আমার কাছে এক কথায়, যুদ্ধ জয়ের পরিণতি।” সন্তানের জন্মের খবর জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্টও করেছিলেন সুস্মিতা।
সেখানে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা তাঁর একটি ছবি দেখা যায়। স্বামী শুভাশিসের হাতের উপর তাঁর হাত, আর সেই দু’টি হাতের উপর রাখা নবজাতকের ছোট্ট হাত। সেই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “মা হলাম, ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ যে স্বপ্নটা থেমে গিয়েছিল, আজ যেন তারই নতুন করে শুরু। দীর্ঘ সাত বছরের অপেক্ষা, লড়াই, অগণিত কষ্ট আর না পাওয়ার যন্ত্রণার পর আজ আমি মাতৃত্বের স্বাদ পেলাম।” পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করেন, “এটা কোনো শারীরিক অক্ষমতার লড়াই ছিল না, ছিল সময়, পরিস্থিতি আর অনেক অদৃশ্য বাধার বিরুদ্ধে এক নিরন্তর সংগ্রাম।” প্রথম সন্তানকে হারানোর যন্ত্রণা এখনও তাঁর মনে রয়ে গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সেই কারণেই এবারের পুরো পথচলাটা নীরবে আগলে রাখতে চেয়েছিলেন বলে জানান।
আরও পড়ুনঃ অষ্টমঙ্গলায় গিয়েই সম্রাটের মুখোশ খুলে দিল ঝিনুক? বাবা-মায়ের সামনে শেষ পর্যন্ত কা’ন্নায় ভেঙে পড়ে অ’ত্যাচারের সব কথা ফাঁস করল সে? আরও অন্ধকার অতীত বেরিয়ে যাওয়ার ভয়ে কাঁপছে সম্রাট! কী এমন আছে তাঁর অতীতে যা ঝিনুকও জানে না? ‘কমলা নিবাস’-এর আজকের ধুন্ধুমার পর্ব!
পোস্টের শেষ অংশে স্বামী শুভাশিস দে-র প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন সুস্মিতা। তিনি লেখেন, “যখন অনেকেই বিশ্বাস হারিয়েছিল, অনেকেই চাইনি আমি মা হই, তখন পাহাড়ের মতো অবিচল হয়ে আমার পাশে দাঁড়িয়েছিল একজন মানুষ, আমার স্বামী শুভাশিস দে। যখন আমি ভেবেছিলাম হয়তো এই জীবনে আর কোনোদিন ‘মা’ ডাকা সোনার সৌভাগ্য আমার হবে না, তখন ও আমার স্বপ্নটাকে নিজের স্বপ্ন করে আগলে রেখেছে, ভরসা দিয়েছে, লড়াই করার শক্তি দিয়েছে।” এরপর তিনি আরও লেখেন, “তাকে ধন্যবাদ জানাব না, কারণ সে আমার নিজের মানুষ, আমার সন্তানের বাবা, আমার জীবনসঙ্গী।” একইসঙ্গে শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সুস্মিতা বলেন, “আজ আমি মা হয়েছি। আমার জীবনের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত অধ্যায় পূর্ণতা পেল। যারা সবসময় পাশে ছিলেন, শুভকামনা আর আশীর্বাদে আমাকে আগলে রেখেছেন, তাঁদের প্রতি অসীম কৃতজ্ঞতা। আমাদের জন্য আশীর্বাদ করবেন, এই ছোট্ট অলৌকিকতাকে ভালোবাসায় ভরিয়ে রাখবেন।”
