জি বাংলার ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’-এ (Kamala Nibas) গল্প যত এগোচ্ছে, ততই একের পর এক সম্পর্কের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সত্য সামনে আসার ইঙ্গিত মিলছে। সাম্প্রতিক পর্বে ঝিনুক ও সম্রাটের অষ্টমঙ্গলা ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন উত্তেজনা। অজকের পর্বের শুরুতেই দেখা যায়, শ্রীনিবাস ও কমলা মেয়ে আর জামাইকে বাড়িতে আমন্ত্রণ জানাতেই সম্রাটের মনে ভয় বাসা বাঁধে। তার আশঙ্কা, ঝিনুক যদি বাপের বাড়িতে গিয়ে শ্বশুরবাড়ির সমস্ত সত্যি কথা বলে দেয়, তাহলে সবাই তার বিরুদ্ধেই যাবে। সেই কারণেই বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকেই সম্রাটকে অস্বাভাবিকভাবে অস্থির এবং চিন্তিত দেখা যায়।
রাতে ঝিনুক যখন বাবা-মায়ের সঙ্গে গল্পে মেতে ওঠে, তখন স্বাভাবিকভাবেই শ্রীনিবাস ও কমলা জানতে চান, মেয়ের নতুন সংসারে সবকিছু ঠিকঠাক চলছে কি না, সম্রাট তার যত্ন নিচ্ছে কি না। কিন্তু ঘরের ভেতরের এই সাধারণ কথোপকথনও সম্রাটকে ভীষণ অস্বস্তিতে ফেলে। সে চুপিসারে জানালার বাইরে দাঁড়িয়ে আড়ি পেতে সব কথা শোনার চেষ্টা করে। ঝিনুক ঠিক কী বলবে, সেই আতঙ্কে তার মুখে স্পষ্ট উদ্বেগ ফুটে ওঠে। নিজের সম্পর্কে কোনও নেতিবাচক কথা বাইরে বেরিয়ে পড়ুক, সেটা কোনওভাবেই চাইছে না সে।
এরপরই উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। ঝিনুক সম্রাটকে জানায়, সেদিন রাতে সে নিজের দিদির সঙ্গে ঘুমাবে, আর সম্রাটকে থাকতে হবে বাড়ির অন্য সদস্যের সঙ্গে। এই কথা শুনেই সম্রাটের চিন্তা আরও গভীর হয়। তার মনে হতে থাকে, রাতে দিদির সঙ্গে একান্তে কথা বলতে গিয়ে ঝিনুক যদি বলে ফেলে যে সম্রাট সারাদিন তাকে ঘরের দরজা বন্ধ করে আটকে রাখে, তাহলে এতদিন ধরে লুকিয়ে রাখা সত্য মুহূর্তের মধ্যে সকলের সামনে চলে আসবে। সেই ভয়েই তাকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে দেখা যায়।
এদিকে গল্পের অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে উঠে আসে পল্লবী ও আদিত্যের রহস্যময় কথাবার্তা। আদিত্য আচমকাই জানিয়ে দেয়, পুরো ঘটনাটার আসল রহস্য সে বুঝে ফেলেছে এবং এর নেপথ্যে পল্লবীর পরিকল্পনাই কাজ করেছে। এমনকি সে কমলাকে ডাকার কথাও বলতে শুরু করে। কিন্তু আদিত্যর মুখ থেকে সত্যিটা বেরিয়ে আসার আগেই পল্লবী তড়িঘড়ি তার মুখ চেপে ধরে, যাতে আর কোনও কথা সে বলতে না পারে। এই ঘটনাই স্পষ্ট করে দেয়, দু’জনের মধ্যে এমন কিছু গোপন বিষয় রয়েছে যা তারা কাউকে জানতে দিতে চাইছে না।
ঠিক এই সময়ই দূর থেকে পল্লবী ও আদিত্যর এই আচরণ দেখে ফেলে ঝিনুক। দু’জনকে ওই অবস্থায় দেখে তার মনে একের পর এক প্রশ্ন তৈরি হয়। কী এমন কথা হচ্ছিল, কেন আদিত্যকে থামিয়ে দিল পল্লবী, আর ঠিক কোন সত্যিটা লুকিয়ে রাখা হচ্ছে, এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই ঝিনুকের সন্দেহ আরও গভীর হতে শুরু করে। অন্যদিকে সম্রাট নিজের গোপন আচরণ প্রকাশ পাওয়ার ভয়ে দিন কাটাচ্ছে। ফলে একদিকে সম্রাটের আতঙ্ক, অন্যদিকে পল্লবী-আদিত্যের রহস্য, দুই ভিন্ন ঘটনার জেরে ‘কমলা নিবাস’-এর আগামী পর্ব আরও জমজমাট হতে চলেছে।
