রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত এক সমাজকর্মীর স্বপ্ন আজও বেঁচে আছে তাঁর সন্তানের পথচলায়। অভিনেতা ‘বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়’ (Bishwarup Bandyopadhyay) শুধু পর্দার চরিত্রে নয়, বাস্তব জীবনেও মানবতার গল্প লিখে চলেছেন। পুরুলিয়ার শিক্ষা বিস্তার, কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো এবং স্বল্প খরচে মানুষের চিকিৎসার সুযোগ করে দেওয়ার মতো নানান উদ্যোগে তিনি এগিয়ে চলেছেন বাবার রেখে যাওয়া আদর্শকে সঙ্গে নিয়েই। দর্শকরা তাঁকে মূলত অভিনয়ের মাধ্যমে চেনেন। কিন্তু ক্যামেরার বাইরের মানুষটিকে খুব কম মানুষই কাছ থেকে জানেন। সম্প্রতি ‘দাদাগিরি’র মঞ্চে নিজের জীবন ও সমাজের জন্য কাজ করার ইচ্ছার কথা জানিয়ে তিনি বহু মানুষের মন ছুঁয়ে গিয়েছেন। একজন শিল্পীর পরিচয় যে শুধু অভিনয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তাঁর কাজেই সেটাই আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে।
এই মুহূর্তে জি বাংলার নতুন ধারাবাহিক ‘তারে ধরি ধরি মনে করি’-তে ‘গোরা’ চরিত্রে অভিনয় করছেন বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়। আধ্যাত্মিক আবহে তৈরি এই গল্পে তাঁর অভিনয় ইতিমধ্যেই দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে পর্দায় সংসারী, আবেগপ্রবণ এক চরিত্রে দেখা গেলেও বাস্তব জীবনে তিনি অনেকটাই সংযত এবং সমাজমুখী। অভিনয়ের ব্যস্ততার মাঝেও নিয়মিত সময় বের করে বিভিন্ন সামাজিক কাজের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখেন। তাঁর বিশ্বাস, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব শুধু সমাজকর্মীদের নয়, প্রত্যেক সচেতন মানুষেরই রয়েছে। সেই ভাবনা থেকেই নিজের কাজকে অভিনয়ের বাইরেও বিস্তৃত করেছেন তিনি।
বিশ্বরূপের এই মানসিকতার পিছনে রয়েছে তাঁর পারিবারিক শিক্ষা। সমাজসেবাকে তিনি কখনও আলাদা কোনও দায়িত্ব বলে মনে করেন না, বরং জীবনযাপনেরই একটি অংশ হিসেবে দেখেন। সেই কারণেই দীর্ঘদিন ধরে পুরুলিয়া এবং শিলিগুড়ির বিভিন্ন এলাকায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া, স্থানীয় মানুষদের কর্মসংস্থানের পথ খুঁজে দেওয়া এবং কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর কাজে তিনি যুক্ত রয়েছেন। প্রথমদিকে এসব কাজ নিয়ে তিনি প্রচার করতে চাননি। কিন্তু পরে বুঝতে পারেন, আরও মানুষের সহযোগিতা পেলে এই উদ্যোগ আরও বড় পরিসরে পৌঁছতে পারে। তাই এখন প্রয়োজনের তাগিদেই মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান।
শুধু শিক্ষা বা কর্মসংস্থান নয়, সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়েও তিনি ভাবনা-চিন্তা করেছেন। স্বল্প খরচে চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেছেন বিশ্বরূপ। তাঁর মতে, সমাজের উন্নয়ন তখনই সম্ভব যখন শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং জীবিকার মতো মৌলিক বিষয়গুলিকে একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়া হবে। অভিনয়ের জনপ্রিয়তা তিনি কখনও ব্যক্তিগত প্রচারের জন্য ব্যবহার করেননি। বরং সেই পরিচিতিকেই মানুষের উপকারে লাগানোর চেষ্টা করেছেন। এই কারণেই বহু মানুষ তাঁকে শুধুমাত্র একজন অভিনেতা হিসেবে নয়, একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবেও দেখেন।
আরও পড়ুনঃ ডাক্তারেরও রেহাই নেই! ঝিনুককে স্প’র্শ করতেই নিয়ন্ত্রণ হারাল সম্রাট, বিকৃ’ত অধিকারবোধ দেখে আতঙ্কিত দর্শকরা বলছেন, “ভবিষ্যতে নিজের সন্তানকেও মেরে ফেলতে পারে এই লোক!” ফের ‘কমলা নিবাস’-এর পর্ব নিয়ে নেটপাড়ায় চর্চা, আপনাদের কী মতামত?
উল্লেখ্য, নাটকের মঞ্চ থেকে ছোট পর্দায় যাত্রা শুরু করে ‘শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু’, ‘গৌরী এল’-এর ডক্টর ঈশান কিংবা বর্তমানে ‘তারে ধরি ধরি মনে করি’-র গোরা, প্রতিটি চরিত্রেই তিনি নিজের ছাপ রেখেছেন। কিন্তু তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়তো ক্যামেরার বাইরের সেই মানুষটি, যিনি সমাজের জন্য কিছু করে যাওয়ার বিশ্বাসে আজও অবিচল। পর্দার আলো ঝলমলে দুনিয়ার বাইরেও যে একজন শিল্পী মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের অংশ হতে পারেন, বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবন সেই কথাই মনে করিয়ে দেয়। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগ এবং জীবনদর্শন আজ বহু মানুষের কাছেই অনুপ্রেরণার হয়ে উঠেছে।
