জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“দুই নারীর রেষারেষি আজকের যুগে শুধুই মিথ, অন্যকে দেখে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে…” নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে প্রচলিত ধারণা ভাঙলেন জয়া আহসান ও চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়! দুই নারী সমাজের যে সম্পর্কেই বাঁধা থাক, কখনও কি একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠতে পারে? কী বললেন অভিনেত্রীরা?

দুই নারী এক জায়গায় মানেই রেষারেষি, আর সেটা যদি নায়িকা হন তো কোনও কথাই নেই! এই বহু পুরনো ধারণাকে একেবারেই মানতে নারাজ চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় ও জয়া আহসান । সম্প্রতি তাঁদের মুক্তি পাওয়া ছবি ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’-র প্রচারে একসঙ্গে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বাস্তব জীবনে তাঁদের সম্পর্ক প্রতিযোগিতার নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং বন্ধুত্বের। ছবিতে দু’জনের চরিত্রের মধ্যে জটিল সম্পর্ক থাকলেও, ক্যামেরার বাইরে সেই সমীকরণ সম্পূর্ণ আলাদা। তাঁদের মতে, আজকের দিনে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কাজ চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা, একে অপরকে হারানোর লড়াই করা নয়।

জয়া আহসান জানান, চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে সবসময়ই ইতিবাচক। তিনি বলেন, দুই নারীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা হিংসা নিয়ে যে প্রচলিত ধারণা রয়েছে, সেটি এখন আর বাস্তবের সঙ্গে মেলে না। তাঁর কথায়, এখন কোনও ছবিকে শুধু নারী বা পুরুষকেন্দ্রিক বলে বিচার করা যায় না। গল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিটি চরিত্রই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই একই ছবিতে একাধিক শক্তিশালী চরিত্র থাকলেও তাতে কোনও সমস্যা তৈরি হয় না। বরং একে অপরের ভালো অভিনয় পুরো ছবিকেই আরও সমৃদ্ধ করে তোলে বলেই তাঁর বিশ্বাস।

জয়ার বক্তব্যের সঙ্গে একমত চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, একজন অভিনেতার দায়িত্ব নিজের চরিত্রকে সঠিকভাবে তুলে ধরা। সেখানে অন্য অভিনেতাকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ভাবার কোনও জায়গা নেই। ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’র উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, গল্পেই যদি এমন থাকে যে এক চরিত্র অন্যজনের তুলনায় বেশি সুন্দরী, তাহলে সেটাই তো স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে হবে। সেই বিষয় নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে অস্বস্তি তৈরি করলে চরিত্র বা গল্প কোনওটাই ঠিকভাবে ফুটে উঠবে না। তাঁর মতে, অভিনয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অহংকারের চেয়ে চরিত্রের প্রয়োজন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

চূর্ণী ও জয়ার পরিচয় অবশ্য এই ছবির অনেক আগের। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘বিসর্জন’ ছবির সময় থেকেই তাঁদের বন্ধুত্বের শুরু। সেই ছবিতে জয়ার ‘পদ্মা’ চরিত্রের লুক তৈরির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন চূর্ণী। কী ধরনের শাড়ি, কেমন সাজ, কোন রঙের টিপ বা মেকআপ চরিত্রের সঙ্গে মানাবে, সেই সব বিষয় নিয়েও তিনি নিজের মতামত দিয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার কথা মনে করে চূর্ণী বলেন, একটি চরিত্রকে তৈরি করার মধ্যে আলাদা আনন্দ থাকে। তাঁর কাছে পুরো বিষয়টি যেন শিল্পীর হাতে ধীরে ধীরে একটি প্রতিমা গড়ে ওঠার মতোই ছিল। সেই সময় থেকেই জয়ার প্রতি তাঁর আন্তরিকতা ও স্নেহ আরও গভীর হয়েছে।

দু’জনেই মনে করেন, সম্পর্ক নিয়ে সমাজ অনেক সময় এমন কিছু ধারণা তৈরি করে দেয়, যা বাস্তবের সঙ্গে মেলে না। যেমন প্রাক্তন স্ত্রী ও বর্তমান স্ত্রীর মধ্যে সবসময় শত্রুতা থাকবে, এমন কোনও নিয়ম নেই। ‘অর্ধাঙ্গিনী’ এবং তার পরবর্তী ছবি ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’-তেও সেই ভিন্ন সমীকরণই তুলে ধরা হয়েছে। দর্শকদের এক বড় অংশও সেই সম্পর্ককে স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করেছেন বলে তাঁদের দাবি। জয়ার মতে, একজন মানুষের জীবনে থাকা অন্য কোনও নারীকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখার অভ্যাস সমাজই তৈরি করেছে। আর চূর্ণীর বিশ্বাস, মানুষের সম্পর্ক আরও পরিণত এবং মানবিক হতে পারে। সেই কারণেই তাঁদের এই ছবির গল্পও অনেক দর্শকের কাছে নতুন ভাবনার জায়গা তৈরি করেছে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page