বাংলা গানের জগতের অন্যতম জনপ্রিয় শিল্পী ইমন চক্রবর্তী (Iman Chakraborty)। একের পর এক হিট গান, মঞ্চে দাপুটে উপস্থিতি এবং নিজের সহজ-সরল ব্যক্তিত্বের জন্য দর্শকদের কাছে তিনি বরাবরই প্রিয়। ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বহুবার চর্চায় এসেছেন তিনি। কয়েক বছর আগে সঙ্গীতশিল্পী নীলাঞ্জন ঘোষকে ভালোবেসে বিয়ে করেন ইমন। সম্পর্কের শুরু থেকেই একে অপরের পাশে থাকার গল্প বহুবার উঠে এসেছে তাঁদের মুখে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আবারও স্বামীর প্রসঙ্গ তুলতেই ইমন জানালেন, নীলাঞ্জনের সঙ্গে পরিচয়ের পর তাঁর জীবন কতটা বদলে গেছে এবং কেন তিনি আজও সেই মানুষটিকে নিজের সবচেয়ে বড় ভরসা বলে মনে করেন।
সাক্ষাৎকারে ইমন জানান, প্রথমবার নীলাঞ্জনের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর তাঁরা শান্তিনিকেতন ঘুরতে গিয়েছিলেন। সেই সময় থেকেই তাঁর মনে হয়েছিল, এই মানুষটির মধ্যে যেন তিনি একজন অভিভাবককে খুঁজে পেয়েছেন। গায়িকার কথায়, “মা মারা যাওয়ার পর জীবনের একটা শূন্যতা আর বিষণ্ণতার জায়গা তৈরি হয়েছিল। নীলাঞ্জন সেই জায়গাটা অচিরেই পূর্ণ করে দিয়েছে।” ইমন জানান, সেই সময় মানসিকভাবে নিজেকে খুব একা মনে হতো। কিন্তু ধীরে ধীরে নীলাঞ্জনের উপস্থিতি তাঁকে আবার নতুন করে জীবনকে বিশ্বাস করতে শিখিয়েছে। সেই কারণেই আজও স্বামীর প্রতি তাঁর ভরসা আগের মতোই অটুট।
শুধু মানসিক শক্তিই নয়, নীলাঞ্জনের সঙ্গে পরিচয়ের পর নিজের জীবনযাপনেও বড় পরিবর্তন এসেছে বলে জানান জাতীয় পুরস্কারজয়ী এই গায়িকা। ইমনের কথায়, আগে তিনি অনেকটাই অগোছালো ছিলেন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তেমন পরিকল্পনা করতেন না। কিন্তু নীলাঞ্জনের সঙ্গে আলাপ হওয়ার পর তিনি নিয়মিত যোগব্যায়াম শুরু করেন। এর ফলে দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যারও অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। পাশাপাশি আগে নিয়মিত রিয়াজ বা বিভিন্ন ধরনের গান শোনার অভ্যাস ছিল না, এখন সেই অভ্যাসও তৈরি হয়েছে। গায়িকার মতে, এই পরিবর্তনগুলোই আজকের সাফল্যের পথে তাঁকে আরও এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।
সংসারের দায়িত্বের কথাও খোলাখুলি জানিয়েছেন ইমন। তিনি বলেন, “আজ অব্দি সংসারের কোনও দায়িত্ব, এমনকি সকালে উঠে চা পর্যন্ত করতে হয়নি আমাকে। রাতে খাবারের জন্য ভাতও রান্না করে আমার স্বামী। এতটাই আমাকে আগলে রাখে যে কোনও রকম খারাপ কিছু আমাকে ছুঁতে পারে না।” ইমনের এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, শুধুমাত্র জীবনের সঙ্গী হিসেবেই নয়, প্রতিদিনের প্রতিটি মুহূর্তেও নীলাঞ্জন তাঁর পাশে থাকেন। গায়িকার মতে, এই সহযোগিতা তাঁকে নিজের কাজের প্রতি আরও বেশি মনোযোগী হতে সাহায্য করেছে।
আরও পড়ুনঃ ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এ ব্যাপক ঝামেলার পর ফের একবার ছোট পর্দায় ফিরছেন অভিনেত্রী দিতিপ্রিয়া রায়? জোর গুঞ্জন টলিপাড়ায়
ভবিষ্যৎ নিয়েও নীলাঞ্জনের প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন ইমন। তিনি জানান, বিয়ের আগে তিনি কী করবেন বা আগামী দিনের পরিকল্পনা কী হবে, তা নিয়ে খুব একটা পরিষ্কার ধারণা ছিল না। কিন্তু স্বামীর সঙ্গে পরিচয়ের পর পরিস্থিতি পুরো বদলে যায়। এখন তিনি আগামী দশ বছর পরে নিজেকে কোথায় দেখতে চান, সেই লক্ষ্যও স্পষ্ট। ইমনের কথায়, একজন সঠিক মানুষ জীবনে এলে শুধু সম্পর্কই বদলায় না, বদলে যায় নিজের ভাবনা, জীবনযাপন এবং ভবিষ্যৎ দেখার দৃষ্টিভঙ্গিও। সেই কারণেই নীলাঞ্জনকে তিনি শুধু স্বামী নয়, নিজের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং ভরসার জায়গা বলেই মনে করেন।
