জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

ব্রিটিশ আমলে যেমন নাটকের স্ক্রিপ্ট আগে জমা দিতে হতো, বিজেপি সরকারও কি সেই পথেই হাঁটছে? অ্যাকাডেমি বিতর্কের মাঝেই মঞ্চের স্বাধীনতা নিয়ে বি*স্ফোরক মন্তব্য চন্দন সেনের! ভবিষ্যতের আশঙ্কা নিয়ে কী বললেন অভিনেতা?

অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্ক এখনও থামেনি। প্রতিষ্ঠানের একাংশ রাতারাতি গেরুয়া রঙে রাঙানো, গেটের সামনে ভারতমাতার ছবি টাঙানো এবং তা নিয়ে সাংস্কৃতিক মহলের তীব্র আপত্তি নতুন করে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনার পর একাধিক বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানান। শমীক তাঁদের বক্তব্য শুনে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস দেন এবং জানান, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই। কিন্তু এই ঘটনার পর থেকেই মঞ্চের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এই আবহেই সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এক অভিনেতার কাছে জানতে চাওয়া হয়, আগামী দিনে কি থিয়েটারের স্বাধীনতা আরও সীমিত হয়ে পড়বে? বর্তমান পরিস্থিতিতে নাট্যচর্চার ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর কী মত? সেই প্রশ্নের উত্তরে অভিনেতা স্পষ্ট ভাষায় নিজের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে এমন কিছু ঘটনা ঘটছে, যা নাট্যকর্মীদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা তৈরি করছে। তিনি মনে করেন, শিল্পের স্বাধীনতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।

প্রশ্নের উত্তরে অভিনেতা বলেন, “আজকাল যারা অঘোষিত থিয়েটার করছে… ব্রিটিশ আমলে একটা নিয়ম প্রচলিত ছিল না, যে নাটক করতে হলে আগে স্ক্রীপ্ট জমা দিতে হবে। বিজেপি সরকারও এটাই করছে! আপনি নিজেকে একবার নাট্য কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে দেখুন না…” তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, তিনি বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে অতীতের একটি ব্যবস্থার তুলনা টেনে মঞ্চের স্বাধীনতা নিয়ে নিজের আশঙ্কার কথাই তুলে ধরেছেন।

অন্যদিকে অ্যাকাডেমি-কাণ্ডের পর বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, নাট্যজগতের প্রতিনিধিরা তাঁর সঙ্গে দেখা করে সরকারি প্রেক্ষাগৃহ বণ্টন, সাংস্কৃতিক সংগঠন পরিচালনা এবং অ্যাকাডেমির ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, অভিযোগগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, অ্যাকাডেমিতে গেরুয়া রং করার ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁরা আগে অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং এমন কাজকে বিজেপি সমর্থন করে না।

অভিনেতার এই মন্তব্য এবং অ্যাকাডেমিকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ মিলিয়ে আবারও বাংলা নাট্যজগতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে নাট্যকর্মীদের একাংশ স্বাধীন সাংস্কৃতিক পরিসর বজায় রাখার দাবি তুলছেন, অন্যদিকে রাজনৈতিক মহল নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে আগামী দিনে আরও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page