জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“গান্ধী ভারতের নয়, পাকিস্তানের জনক!” “ভারতে গান্ধী ও নেহরুর জায়গায় নেতাজি আর শ্যামাপ্রসাদকে রাখা হোক!” ফের বিতর্কিত মন্তব্য অভিজিৎ ভট্টাচার্যের! নেটপাড়া দুই ভাগে বিভক্ত, শুরু তুমুল আলোচনা! আপনারা কি গায়ককে সমর্থন করেন?

ভারতীয় সঙ্গীত জগতের পরিচিত কণ্ঠ অভিজিৎ ভট্টাচার্য। গানের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক মন্তব্যও শিরোনামে উঠে আসে। অতীতেও একাধিক বক্তব্য ঘিরে বিতর্কের মুখে পড়েছেন তিনি। ২০২৫ সালে মহাত্মা গান্ধীকে নিয়ে তাঁর একটি মন্তব্য দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছিল। সেই সময় তিনি দাবি করেছিলেন, মহাত্মা গান্ধী ভারতের নয়, বরং পাকিস্তানের জনক। সেই মন্তব্য ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের দাবিও ওঠে। এবার ফের একই প্রসঙ্গে নতুন মন্তব্য করে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন গায়ক।

সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ ভট্টাচার্য বলেন, তাঁর মতে ভারতকে স্বাধীন করেননি মহাত্মা গান্ধী ও জওহরলাল নেহরু। বরং তাঁদের সিদ্ধান্তের ফলেই পাকিস্তানের জন্ম হয়েছে। সেই কারণেই তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানেই মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি বসানো উচিত এবং তাঁকেই পাকিস্তানের জনক বলা উচিত। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, ভারতে ইতিহাসের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পরিবর্তন হওয়া দরকার। তাঁর মতে, মহাত্মা গান্ধীর পরিবর্তে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে এবং জওহরলাল নেহরুর পরিবর্তে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে সেই জায়গায় গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

সাক্ষাৎকারে নিজের বক্তব্যের পক্ষে সওয়াল করতেও দেখা যায় গায়ককে। তিনি বলেন, আগে এই ধরনের মত প্রকাশ করলে অনেকেই সমর্থন করতেন না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। তাঁর দাবি, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর মানুষ আর আগের মতো ভয় পান না। এখন অনেকেই একই ধরনের মত প্রকাশ করছেন এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষ প্রকাশ্যে এই বিষয়ে কথা বলবেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালেও মহাত্মা গান্ধীকে নিয়ে একই ধরনের মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন অভিজিৎ ভট্টাচার্য। সেই সময় সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়, তাঁর মন্তব্যের বিরুদ্ধে সমাজকর্মী মণীশ দেশপাণ্ডে অভিযোগ দায়েরের দাবি তুলেছিলেন। অভিযোগ ছিল, গান্ধীজিকে অসম্মান করে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন, যা সমাজে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও তখন পুলিশ জানিয়েছিল, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তাদের কাছে পৌঁছায়নি। তবুও বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছিল।

এবারের সাক্ষাৎকারের পরও অভিজিৎ ভট্টাচার্যের মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমাজমাধ্যমে অনেকেই তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন, আবার কেউ কেউ তাঁর মতের সঙ্গে সহমতও প্রকাশ করেছেন। তবে এই মন্তব্যগুলি ইতিমধ্যেই জনপরিসরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে এই বক্তব্য ঘিরে নতুন কোনও প্রতিক্রিয়া বা আইনি পদক্ষেপ সামনে আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page