জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“কাজ করতে আসার আগে এতোটুকু রিসার্চ করে আসে না, এমন অশিক্ষিত যে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে চেনে না! নাম ধরে ডাকে” বাংলা ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষো’ভ দেবনাথ চট্টোপাধ্যায়ের! কাদের বিরুদ্ধে ক্ষো’ভ তাঁর?

বাংলা ছোটপর্দার পরিচিত অভিনেতা দেবনাথ চট্টোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিক এবং চলচ্চিত্রে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন। চরিত্রাভিনেতা হিসেবে তাঁর অভিনয় বরাবরই প্রশংসিত হয়েছে। বহু অভিজ্ঞ শিল্পীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগও পেয়েছেন তিনি। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে নিজের অভিনয় জীবন, বাংলা বিনোদন জগতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং কিংবদন্তি অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কাছ থেকে শেখা জীবনের মূল্যবান অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন দেবনাথ। তাঁর বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে দেবনাথ চট্টোপাধ্যায় আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমান বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে শিক্ষিত মানুষের তুলনায় অশিক্ষিত মানসিকতার মানুষের সংখ্যাই যেন বেশি হয়ে উঠেছে। তাঁর অভিযোগ, একটি কাজের সঙ্গে যুক্ত অনেক টেকনিশিয়ান বা অন্যান্য কর্মী অনেক সময় জানতেই চান না কোন শিল্পীর সঙ্গে তাঁরা কাজ করছেন। শিল্পীদের কাজ, অবদান বা পরিচয় সম্পর্কে সামান্য ব্যাকগ্রাউন্ড স্টাডিও করেন না। শুধু নিজের নির্দিষ্ট কাজ শেষ করাই যেন তাঁদের লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে অনেক সময় প্রবীণ ও অভিজ্ঞ শিল্পীদেরও অবহেলা, অসম্মান এবং অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় বলে জানান অভিনেতা।

এই প্রসঙ্গেই দেবনাথ স্মরণ করেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে। তাঁর কথায়, একবার একটি শুটিংয়ের সময় গ্রীনরুমে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং অন্য শিল্পীরা অপেক্ষা করছিলেন। সেই সময় একজন কর্মী এসে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে জানতে চান, “সৌমিত্রবাবু কে আছেন?” অভিনেতার মতে, বাংলা অভিনয় জগতের এমন একজন কিংবদন্তিকে না চেনার থেকে বড় অসম্মান আর কিছু হতে পারে না। কিন্তু সেই মুহূর্তেও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় কোনও রাগ বা বিরক্তি প্রকাশ করেননি। বরং অত্যন্ত শান্তভাবে বিষয়টি সামলে নিয়েছিলেন। এই ঘটনাই দেবনাথ চট্টোপাধ্যায়ের মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল।

দেবনাথ জানান, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে তিনি নিজের ভগবানের আসনে বসিয়ে দেখেন। তাঁর বিশ্বাস, জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা তিনি সেই মহান অভিনেতার কাছ থেকেই পেয়েছেন। অভিনেতার কথায়, “আমি ওঁর নখের যোগ্য হতে পারলেও নিজেকে ধন্য মনে করব।” তিনি আরও বলেন, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে একসঙ্গে অভিনয় করার সুযোগ পাওয়াটাই তাঁর জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি। অনেকেই বাইরে থেকে দেখেছেন, প্রয়োজনে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় তাঁকে বকাঝকা করছেন। কিন্তু সেই একই মানুষ যে নিজের থালা থেকে খাবার তুলে স্নেহ করে খাইয়ে দিয়েছেন, সেই দৃশ্য আর কেউ দেখেননি বলেও আবেগের সঙ্গে জানান দেবনাথ।

বাঘের চোখে চোখ রেখে লড়াই, সুন্দরবনের জীবনসংগ্রাম এবার পর্দায়! প্রোমো শুটিং শেষ, জি বাংলার নতুন ধারাবাহিক ‘বাঘিনী’তে দিয়ে ছোটপর্দায় অভিষেক হচ্ছে সম্পিতা প্রামাণিকের! নবাগতা অভিনেত্রী তথা নৃত্য শিল্পীর বিপরীতে নায়ক হচ্ছেন কোন জনপ্রিয় অভিনেতা? জানলে চমকাবেন!

সাক্ষাৎকারের শেষে বর্তমান প্রজন্মের উদ্দেশে দেবনাথ চট্টোপাধ্যায় সম্মান, শেখার আগ্রহ এবং কাজের প্রতি দায়িত্ববোধের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, একজন শিল্পীর পরিচয় ও কাজ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করাও পেশাদারিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শুধু নিজের দায়িত্ব পালন করলেই হয় না, যাঁদের সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে তাঁদের প্রতি সম্মান দেখানোও সমান জরুরি। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের আচরণ এবং ব্যক্তিত্ব থেকে পাওয়া সেই শিক্ষা আজও নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ বলেই মনে করেন অভিনেতা।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page