জি বাংলার ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas) ধারাবাহিকে সমরকে ঘিরে দর্শকদের ক্ষোভ যেন দিন দিন আরও বাড়ছে। শ্রীনিবাস বাবুর গ্রেফতারের নেপথ্যে সমরের ভূমিকা সামনে আসতেই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে তার চরিত্র নিয়ে। পরিবারের অন্যরা যখন শ্রীনিবাস বাবুকে নির্দোষ প্রমাণ করার চেষ্টা করছে, তখন নিজের স্বার্থের জন্য সমর উল্টো সেই প্রমাণই নষ্ট করে দেওয়ার পথে হাঁটছে। ফলে দর্শকদের একাংশের কাছে সমর এখন শুধু স্বার্থপর ছেলে নয়, বরং নিজের বাবার বিপদকেও টাকা উপার্জনের সুযোগ হিসেবে দেখছে এমন একটি চরিত্র হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক পর্বের ঘটনায় দেখা যায়, শঙ্করের ছেলে জানতে পারে শ্রীনিবাস বাবু নির্দোষ, আর সেই দাবির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রমাণও রয়েছে। সেই প্রমাণ যাতে আর পুলিশের হাতে না পৌঁছয়, তার জন্য সমরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। টাকার প্রলোভন দেখানো হতেই সমর নিজের বাবার নির্দোষ প্রমাণ নিজের হাতেই তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অর্থাৎ বাবাকে বিপদে ফেলতে যে তথ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সেটাকেই টাকার বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দিতে পিছপা হয় না সে। এখানেই সমরের লোভ এবং নিজের স্বার্থকে পরিবারের উপরে রাখার মানসিকতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন দর্শকরা।
আরও অবাক করার মতো বিষয় হল, সেই টাকার সাহায্যেই আবার শ্রীনিবাস বাবুর জামিন করানোর কথা ভাবছে সমর। অর্থাৎ একদিকে টাকা পাওয়ার জন্য বাবার নির্দোষ প্রমাণ গোপন করার ব্যবস্থা করছে, অন্যদিকে সেই টাকাতেই বাবাকে জেল থেকে বের করার চেষ্টা করছে। এই দ্বিচারিতা দেখেই দর্শকদের একাংশের প্রশ্ন, সত্যিই কি বাবার ভাল চায় সমর, নাকি পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্যই এমন করছে? এর আগে হাসপাতালের ঘটনাতেও সমরের আচরণ নিয়ে দর্শকদের কম ক্ষোভ ছিল না। বাবা তখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন, অথচ সমর সেই সময় বাবার পাশে থাকার বদলে নিজের কাজ এবং টাকাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল বলে দর্শকরা মনে করেছিলেন।
সেই ঘটনায় বীণার সঙ্গে সমরের কথাবার্তাও দর্শকদের মনে রয়েছে। বাবার অবস্থা খুব একটা খারাপ নয়, এমন যুক্তি দেখিয়ে হাসপাতালে থেকে বাবার পাশে থাকার প্রয়োজনীয়তাকেও সে গুরুত্ব দেয়নি। বীণা তখন তাকে বুঝিয়েছিল, একদিন তার নিজের ছেলে বিট্টুও যদি তার সঙ্গে একই আচরণ করে, তখন সে বুঝবে নিজের সন্তানের কাছ থেকে এমন অবহেলা পাওয়ার কষ্ট কতটা। সেই ঘটনার পরও সমরের মধ্যে বিশেষ পরিবর্তন দেখা যায়নি বলেই এবার নতুন কাণ্ডে দর্শকদের ক্ষোভ আরও বেড়েছে। তাঁদের চোখে, নিজের বাবার অসুস্থতার সময় দায়িত্ব না নেওয়া এবং এখন বাবাকে বাঁচানোর প্রমাণ টাকার বিনিময়ে তুলে দেওয়া একই মানসিকতার পরিচয়।
আরও পড়ুনঃ ‘বিয়ের আগেই যদি অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে থাকেন, তাহলে বিয়েটা কেন করেছিলেন?’ শ্যামৌপ্তিকে ঘিরে নতুন দাবি সামনে আসতেই ঘুরল বিচ্ছেদ বিতর্কের মোড়! এবার রণজয় নয়, অভিনেত্রীর বিরুদ্ধেই সরব নেটপাড়া!
এই কারণেই সমাজ মাধ্যমে দর্শকদের একাংশ সমরকে নিয়ে তীব্র মন্তব্য করছেন। একজনের কথায়, “সমর কী ধরনের মানুষ! টাকার জন্য নিজের বাবাকেই বিক্রি করে দিল।” আরেকজনের মতে, এমন সন্তান কারও ভাগ্যে যেন না আসে। দর্শকদের প্রশ্ন, সমর যদি সত্যিই বাবার ভাল চায়, তাহলে কেন বারবার টাকার কাছে সম্পর্ককে ছোট করছে? তবে এখানেই গল্পের নতুন প্রশ্নও তৈরি হয়েছে। আদি ইতিমধ্যেই শ্রীনিবাস বাবুকে মুক্ত করে বাড়িতে ফিরিয়ে এনেছে, ফলে সমরের পরিকল্পনা কতটা সফল হবে, সেটাই এখন দেখার। এবার কি সমরের আসল চেহারা পরিবারের সামনে প্রকাশ পাবে, নাকি ফের কোনও নতুন চাল দিয়ে পরিস্থিতি নিজের দিকে ঘুরিয়ে দেবে সে?
