জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

‘বিয়ের আগেই যদি অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে থাকেন, তাহলে বিয়েটা কেন করেছিলেন?’ শ্যামৌপ্তিকে ঘিরে নতুন দাবি সামনে আসতেই ঘুরল বিচ্ছেদ বিতর্কের মোড়! এবার রণজয় নয়, অভিনেত্রীর বিরুদ্ধেই সরব নেটপাড়া!

রণজয় বিষ্ণু এবং শ্যামৌপ্তি মুদলির দাম্পত্য ভাঙনের জল্পনা গত কয়েকদিন ধরে টলিপাড়ার অন্যতম আলোচিত বিষয়। প্রথমদিকে সমাজমাধ্যমের বড় একটি অংশ এই বিচ্ছেদের জন্য রণজয়কেই দায়ী করছিল। বিশেষ করে সহ-অভিনেত্রী অভীকা মালাকারের সঙ্গে অভিনেতার সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। যদিও রণজয় প্রকাশ্যে সেই দাবি অস্বীকার করে জানান, সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে যা রটানো হচ্ছে, তার কোনও সত্যতা নেই এবং এই ধরনের প্রচারকে তিনি ধারাবাহিকের প্রচারের অংশ বলেই মনে করেন। এর মধ্যেই আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেওয়া তাঁর সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে ব্যক্তিগত জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে, যা এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সাক্ষাৎকারে রণজয় জানান, তিনি দাম্পত্য সম্পর্ককে সময় দিতে আপত্তি করেননি। বরং দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে অশান্তির কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, অতীতেও সম্পর্ক ভাঙার ক্ষেত্রে বারবার তাঁকেই দায়ী করা হয়েছে, কিন্তু এবার সেই অভিযোগ তিনি মানতে রাজি নন। এদিকে অভিনেতার কাছের মানুষের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিয়ের বেশ কিছুদিন আগে থেকেই কলকাতার এক পরিচিত রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীর সঙ্গে শ্যামৌপ্তির ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল এবং সেই সম্পর্ক এখনও বজায় রয়েছে। পরিবারের দাবি, এই বিষয়টিই নাকি তাঁদের দাম্পত্যে অশান্তির অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে। যদিও এই দাবি নিয়ে শ্যামৌপ্তি মুদলি এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি।

এই তথ্য সামনে আসতেই সমাজমাধ্যমে বিতর্কের মোড় ঘুরে যায়। এতদিন যারা অভীকা মালাকার ও রণজয়কে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধেই এবার প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন বহু নেটিজেন। অনেকেই লিখছেন, “বিয়ের আগে থেকেই যদি অন্য কারও সঙ্গে এত ঘনিষ্ঠতা ছিল, তবে বিয়েটা করার দরকার কী ছিল?” আবার কারও প্রশ্ন, “যখন বিয়ে করেই ফেলেছিলেন, তখন সংসারটা টিকিয়ে রাখতে সমস্যা কোথায় ছিল?” আরও অনেকে মন্তব্য করছেন, “নিজের স্বামীর চেয়ে অন্য কেউ বেশি অর্থবিত্তের মালিক বলেই কি এত বছরের সম্পর্ক ভেঙে গেল?” যদিও এই সমস্ত মন্তব্যই সমাজমাধ্যমে ঘুরে বেড়ানো নেটিজেনদের ব্যক্তিগত মতামত, যার স্বাধীনভাবে কোনও প্রমাণ সামনে আসেনি।

এতেই থামেননি নেটিজেনদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, এখন নিজের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে গিয়ে অকারণেই রণজয় এবং তাঁর সহ-অভিনেত্রী অভীকা মালাকারকে বিতর্কের মধ্যে টেনে আনা হচ্ছে। কেউ লিখেছেন, “গত দু’দিন ধরে মিডিয়ার সামনে একপ্রকার নাটকই চলছে।” আবার কেউ কটাক্ষ করে বলেছেন, “ডিভোর্স নিয়ে একের পর এক পোস্টে ট্যাগ করা হচ্ছে, অথচ তিনি বলছেন তাঁর ফিডে কিছুই আসে না!” আরও অনেকে দাবি করছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃত সত্য সামনে আসবেই এবং তখন কে ঠিক, কে ভুল, তা সবাই জানতে পারবেন। এই সমস্ত মন্তব্য দ্রুত ভাইরাল হয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

তবে গোটা ঘটনায় এখনও পর্যন্ত একাধিক বিষয় নিয়ে পরস্পরবিরোধী দাবি সামনে এসেছে। একদিকে রয়েছে রণজয় বিষ্ণু ও তাঁর পরিবারের বক্তব্য, অন্যদিকে শ্যামৌপ্তি মুদলির পক্ষ থেকে এই নতুন অভিযোগগুলির বিষয়ে এখনও কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে সমাজমাধ্যমে নানা মত ও পাল্টা মতের লড়াই চললেও অভিযোগগুলির সত্যতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। আপাতত এই দাম্পত্য বিতর্ক ঘিরে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতে দুই পক্ষের তরফে নতুন কোনও বক্তব্য সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।

Rimi Datta

রিমি দত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। কপি রাইটার হিসেবে সাংবাদিকতা পেশায় চার বছরের অভিজ্ঞতা।

                 

You cannot copy content of this page