জি বাংলার ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas) ধারাবাহিকে ঝিনুক ও সম্রাটের সম্পর্ক যত এগোচ্ছে, ততই ঝিনুকের চরিত্র নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছেন দর্শকরা। একসময় যে ঝিনুককে বুদ্ধিমতী, আত্মবিশ্বাসী এবং নিজের সিদ্ধান্তে অনড় একটি মেয়ে হিসেবে দেখানো হয়েছিল, সাম্প্রতিক পর্বগুলিতে তার সেই দিকটা অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে। বরং সম্রাটের নানা আচরণ এবং পরিকল্পনার সামনে তাকে বারবার অসহায় হয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে। ফলে দর্শকদের একাংশের প্রশ্ন, এত বুদ্ধিমান একটি মেয়ে কীভাবে এত সহজ কিছু বিষয়ও বুঝতে পারছে না? সম্রাটের আচরণের কারণে তার জীবনে একের পর এক সমস্যা তৈরি হলেও, সেখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ঝিনুক নিজে কতটা চেষ্টা করছে, সেটাই এখন আলোচনার বিষয়।
সাম্প্রতিক ঘটনাতেও সেই একই বিষয় সামনে এসেছে। দরজার তালা খুলতে না পেরে ঝিনুক সম্রাটের সঙ্গে রীতিমতো রাগারাগি করে তার কাছ থেকে গোপন নম্বর জেনে নেয়। কিন্তু দর্শকদের চোখে অবাক করার বিষয় হল, নম্বরটি আদৌ সঠিক কি না, সেটাও ঝিনুক একবার যাচাই করে দেখে না। সম্রাটের সামনেই দরজাটি খুলে দেখে নেওয়া তার পক্ষে খুব কঠিন কিছু ছিল না। অথচ সেটুকু না করেই সে বিষয়টিকে সত্যি বলে ধরে নেয়। দর্শকদের মতে, এত সাধারণ একটি বিষয়েও যদি ঝিনুক নিজের বুদ্ধি কাজে না লাগায়, তাহলে তাকে কলেজের কৃতী ছাত্রী হিসেবে দেখানোটা কতটা যুক্তিযুক্ত, সেই প্রশ্ন উঠবেই।
শুধু দরজার ঘটনাই নয়, ঘরে হঠাৎ যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টিও দর্শকদের অবাক করেছে। এত বড় শহরে শুধু তাদের বাড়িতেই কেন যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকবে, এই সাধারণ প্রশ্নটুকুও ঝিনুকের মাথায় আসছে না বলে দর্শকদের একাংশের মত। সম্রাটের আচরণ নিয়ে এর আগেও একাধিকবার অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কখনও ঝিনুকের উপর অতিরিক্ত অধিকার দেখানো, কখনও তার অন্য কারও সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ককেও ভুলভাবে দেখা, আবার কখনও ঝিনুককে নিজের ইচ্ছামতো আটকে রাখার চেষ্টা, এসব নিয়ে ধারাবাহিকপ্রেমীরা বারবার সমালোচনা করেছেন। এমনকি ঝিনুককে নিজের পরিবারের কারও সঙ্গে থাকতে দেখলেও সম্রাটের নিরাপত্তাহীনতা বাড়তে দেখা গিয়েছে। সেই জায়গায় ঝিনুক যদি নিজের বুদ্ধি দিয়ে পরিস্থিতি বুঝতে পারত, তাহলে হয়তো সম্রাটের অনেক পরিকল্পনাই আগেভাগে ধরে ফেলতে পারত বলে মনে করছেন দর্শকরা।
দর্শকদের অভিযোগ, ঝিনুকের এই দুর্বলতার সুযোগই বারবার নিচ্ছে সম্রাট। একদিকে সে আবেগের মাধ্যমে ঝিনুককে নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরিয়ে দেয়, অন্যদিকে উপহার বা বিভিন্ন জিনিস দিয়ে তাকে নিজের প্রতি আরও নির্ভরশীল করে তোলার চেষ্টা করে। এর আগেও ঝিনুক বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে চাইলে সম্রাট কান্নাকাটি করে এবং নিজেকে আঘাত করার হুমকি দিয়ে পরিস্থিতি বদলে দিয়েছিল। আবার ঝিনুকের উপর রাগ দেখানোর পর নিজেই কাঁদতে শুরু করলে ঝিনুকের রাগ-অভিমানও গলে যায়। ফলে দর্শকদের মতে, সম্রাটের এই আচরণগুলো নতুন নয়। কিন্তু ঝিনুক প্রতিবার একইভাবে তার ফাঁদে পা দেওয়ায় এখন বিরক্তি আরও বাড়ছে। তাঁদের চোখে, ঝিনুকের নিজের অবস্থাটা বোঝা এবং কাউকে খুলে বলা এখন অত্যন্ত জরুরি।
আরও পড়ুনঃ দুর্গারূপে অঙ্কিতা, পার্বতী হচ্ছে ইধিকা! জি বাংলার মহালয়ায় এবার শিবের ভূমিকায় থাকছেন ‘গোরাচাঁদ’ বিশ্বরূপ? রুবেলকে ছাপিয়ে মহাদেব হিসেবে কেমন মানাবে তাঁকে? আপনারা কাকে দেখতে চান?
সব মিলিয়ে, ধারাবাহিকের শুরুর দিকে যে ঝিনুককে দর্শকরা বুদ্ধিমান এবং নিজের সিদ্ধান্তে দৃঢ় একটি চরিত্র হিসেবে চিনেছিলেন, বর্তমান গল্পে সেই ঝিনুককে অনেকটাই বদলে যেতে দেখা যাচ্ছে। দর্শকদের একাংশের মতে, তার বুদ্ধি যেন ধীরে ধীরে সম্রাটের আবেগ এবং নিয়ন্ত্রণের আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ তাই সরাসরি প্রশ্ন তুলছেন, সত্যিই কি ঝিনুক কিছুই বুঝতে পারছে না, নাকি গল্পের প্রয়োজনে তাকে ইচ্ছাকৃতভাবেই এমনভাবে দেখানো হচ্ছে? সম্রাটের পরের চাল বুঝতে পারবে কি ঝিনুক, নাকি আবারও আবেগের কাছে হার মেনে তার কথাই বিশ্বাস করবে, এখন সেই দিকেই নজর দর্শকদের।
