জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“মায়ের শেষ সম্বল ওই সোনার দুল বিক্রি করে আমাকে রবীন্দ্রভারতীতে পড়াশোনা করতে পাঠিয়েছিল, সেইদিন মাকে কথা দিয়েছিলাম…” বর্ধমান থেকে কলকাতা, চরম দারিদ্রতা থেকে কঠিন লড়াই পেরিয়ে কীভাবে ‘বাঘিনী’ হয়ে উঠলেন সম্পিতা প্রামাণিক?

বর্ধমান থেকে কলকাতায় এসে নিজের পরিচয় তৈরি করার পথটা মোটেই সহজ ছিল না সম্পিতা প্রামাণিকের। এতদিন নৃত্যশিল্পী হিসেবেই নেটদুনিয়ায় পরিচিত ছিলেন তিনি। এবার ‘বাঘিনী’ ধারাবাহিকের হাত ধরে অভিনেত্রী হিসেবেও নতুন করে পরিচিত হচ্ছেন সম্পিতা। প্রায় পাঁচ বছর আগে অনেক স্বপ্ন নিয়ে কলকাতায় এসেছিলেন তিনি। অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার আশায় একের পর এক জায়গায় ঘুরেছেন। তবে প্রথম দিকে বহুবার তাঁকে খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে। ২০২১ সালে নিজের ছবি নিয়ে ইন্দ্রপুরী স্টুডিয়োয় গিয়েও নিরাপত্তারক্ষীর বাধায় ভিতরে ঢুকতে পারেননি তিনি। একদিনে একাধিক স্টুডিয়োর সামনে ঘুরে কাজের সুযোগ খুঁজেছেন সম্পিতা।

অভিনয়ের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার পর শেষ পর্যন্ত প্রযোজক সুশান্ত দাসের ফোনই তাঁর জীবনে নতুন সুযোগ নিয়ে আসে। ‘বাঘিনী’ ধারাবাহিকে সাহসী একটি চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান সম্পিতা। এই ধারাবাহিকের মাধ্যমেই অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর নতুন যাত্রা শুরু হয়। রবীন্দ্রভারতী থেকে নৃত্য নিয়ে পড়াশোনা করেছেন সম্পিতা। তাঁর কাছে অভিনয় ছিল সম্পূর্ণ নতুন একটি অভিজ্ঞতা। তবে নাচের মধ্যেও অভিনয়ের কিছুটা অংশ থাকে বলে মনে করেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতাকেই কাজে লাগিয়ে অভিনয়ের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন সম্পিতা। পরিচালক রাজা চন্দের কাছ থেকেও অভিনয়ের নানা বিষয় শিখছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

পর্দায় যে চরিত্রটি করছেন, তার সঙ্গে নিজের জীবনের বেশ কিছু মিলও খুঁজে পান সম্পিতা। তাঁর কথায়, জীবনে কাউকে পথ দেখানোর মতো করে পাশে পাননি তিনি। নিজের জীবনের লড়াই তাঁকেই নিজের মতো করে চালিয়ে যেতে হয়েছে। কোনও ভুলকে ভুল বলার ক্ষেত্রেও আপস করতে চান না সম্পিতা। এই জায়গাতেই ‘বাঘিনী’র চরিত্রটির সঙ্গে নিজের গভীর মিল রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর জীবনে নাচের ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে তাঁর ছয়শোরও বেশি নাচের ছাত্রছাত্রী রয়েছে। নতুন পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁরাও সম্পিতাকে উৎসাহ দেন এবং নিয়মিত তাঁদের কাছে ফিরে যাওয়াকে নিজের দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি।

সম্পিতার আজকের জায়গায় পৌঁছনোর পিছনে রয়েছে পরিবারের কঠিন সময় এবং মায়ের বড় ত্যাগ। রবীন্দ্রভারতীতে পড়াশোনার জন্য কলকাতায় আসার সময় পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। মেয়েকে কলকাতায় পাঠানোর জন্য সেই সময় নিজের সোনার কানের দুল বিক্রি করেছিলেন তাঁর মা। সেই সময় মাকে একটি কথা দিয়েছিলেন সম্পিতা। সৎ পথে নিজের জীবন গড়বেন এবং একদিন মায়ের জন্য নিজের একটি বাড়ি তৈরি করবেন। এখনও সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি তিনি। কলকাতায় ভাড়ায় থাকার সময় নানা অপমানের অভিজ্ঞতারও মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। তাই এই শহরেই নিজের একটি ফ্ল্যাট তৈরি করার স্বপ্ন এখনও বয়ে চলেছেন সম্পিতা।

সম্পিতার বিশ্বাস, গত পাঁচ বছর ধরে যে স্বপ্নকে আঁকড়ে তিনি এগিয়ে চলেছেন, এখন ভয় পেয়ে পিছিয়ে যাওয়ার সময় নয়। অভিনয়ের নতুন দায়িত্বকে সামনে রেখে নিজের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে চান তিনি। ‘বাঘিনী’র চরিত্রে কাজের সুযোগকে নিজের দীর্ঘ লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবেই দেখছেন সম্পিতা। নৃত্যশিল্পী হিসেবে পরিচিতির পর এবার অভিনয়েও নিজের জায়গা তৈরি করতে চান তিনি। এর জন্য নাচ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা এবং নিজের জীবনের লড়াইকে কাজে লাগাচ্ছেন। ছাত্রছাত্রী, পরিবার এবং নিজের স্বপ্নকে সঙ্গে নিয়েই নতুন পথে এগোচ্ছেন সম্পিতা। মায়ের দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করে একদিন নিজের বাড়ি তৈরি করাই তাঁর অন্যতম বড় লক্ষ্য। তাই ভয়কে জয় করে ‘বাঘিনী’র নতুন দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চান এই অভিনেত্রী।

Rimi Datta

রিমি দত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। কপি রাইটার হিসেবে সাংবাদিকতা পেশায় চার বছরের অভিজ্ঞতা।

                 

You cannot copy content of this page