জি বাংলার ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’-এ (Kamala Nibas) একের পর এক ঘটনায় জমে উঠছে গল্প। মিঠি নতুন স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তাকে ঘিরে পল্লবীর পরিবারে শুরু হয়েছে নানা কথা-কাটাকাটি। ভালো স্কুলে পড়াশোনার খরচ যে কম নয়, সেই বিষয়টি সামনে এনে পল্লবীর বড় দিদি মিঠির পড়াশোনা নিয়ে কটাক্ষ করে। এই খরচ শ্রীনিবাস বাবু সামলাবেন, নাকি অন্য কারও কাছ থেকে টাকা আসবে, এমন প্রশ্ন করে পল্লবীকে অপমান করে সে। কথাগুলি শুনে স্বাভাবিকভাবেই কষ্ট পায় পল্লবী। তবে মিঠির পড়াশোনা নিয়ে কোনওরকম আর্থিক সাহায্য নেওয়ার প্রয়োজন নেই, এমনটাই সে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়।
এর মধ্যেই গুহ বাড়িতে পরিস্থিতি আরও একটু অন্যদিকে মোড় নেয়। মিঠির পড়াশোনার জন্য কাউকে টাকা দিতে হবে না বলে পল্লবী নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতেই বড় মেয়ে হঠাৎ নিজের জন্য টাকা চেয়ে বসে। তার এই দাবি শুনে কমলা এবং শ্রীনিবাস দু’জনেই বেশ অবাক হয়ে যান। অর্থাৎ মিঠির পড়াশোনার খরচ নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছিল, সেটাই মুহূর্তে পরিবারের অন্য সদস্যের চাহিদাকে সামনে এনে নতুন অস্বস্তির পরিস্থিতি তৈরি করে। ফলে মিঠিকে কেন্দ্র করে গুহ বাড়ির সম্পর্কের টানাপোড়েনও আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
অন্যদিকে আদিত্য এবং কৈলাশকে ঘিরেও পুরোনো ক্ষত সামনে এসেছে। আদিত্যের বাবা কৈলাশকে নিজের পুরোনো বন্ধু হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও আদিত্য সেই কথা মেনে নেয় না। সে সকলের সামনে তাঁদের অতীতের তিক্ততা এবং পুরোনো শত্রুতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে। ফলে বহুদিনের চাপা থাকা সম্পর্কের জটিলতাও আবার প্রকাশ্যে চলে আসে। এই ঘটনায় বোঝা যাচ্ছে, ‘কমলা নিবাস’-এর গল্পে শুধু বর্তমানের সমস্যা নয়, চরিত্রগুলির অতীতের সম্পর্কও আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে।
তবে এই মুহূর্তে ধারাবাহিকের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে ঝিনুকের সিদ্ধান্ত। অনেকদিন ধরেই তার মনে হচ্ছে, এই বাড়ি এবং সম্রাটের জীবনের সঙ্গে এমন কিছু রহস্য জড়িয়ে রয়েছে যার উত্তর সে এখনও পায়নি। সেই রহস্যের সমাধান করে আর এই বাড়িতে থাকতে চায় না ঝিনুক। তাই শেষ পর্যন্ত সে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ওদিকে আবার জানলা দিয়ে কাপড় ঝুলিয়ে সেই পথেই বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে ঝিনুক। কিন্তু সম্রাটের চোখ এড়াতে পারে না তার এই পরিকল্পনা। ঝিনুককে পালাতে দেখে সম্রাট সরাসরি জানিয়ে দেয়, সে কোনওভাবেই তাকে চলে যেতে দেবে না।
আরও পড়ুনঃ জন, ওম, স্যান্ডি তিন দমদার অভিনেতা এক ছবিতে! তিন অভিনেতার নায়িকা কে? বাংলায় কি আসছে বড় ডান্স ফিল্ম?
এদিকে কমলা ও শ্রীনিবাস বাড়িতে বসে নিজেদের মতো করে আলোচনা করছিলেন। ঠিক সেই সময় অঞ্জু এসে জানায়, ঝিনুক বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছে। এই খবর শুনে কমলা এবং শ্রীনিবাস দু’জনেই চমকে ওঠেন। অন্যদিকে সম্রাট যখন ঝিনুককে আটকে দেওয়ার চেষ্টা করছে, তখন পরিস্থিতি কোন দিকে যায় সেটাই এখন দেখার। মিঠির পড়াশোনা নিয়ে পরিবারের অশান্তি, আদিত্য-কৈলাশের পুরোনো শত্রুতা এবং ঝিনুকের বাড়ি ছেড়ে পালানোর মরিয়া চেষ্টা, সব মিলিয়ে আগামী পর্বে ‘কমলা নিবাস’-এর গল্প আরও জটিল হতে চলেছে। শেষ পর্যন্ত ঝিনুক কি সম্রাটের বাধা পেরিয়ে বেরিয়ে যেতে পারবে, নাকি এই বাড়ির রহস্যের কারণেই আবার তাকে সেখানেই ফিরতে হবে, সেই উত্তরই এখন দর্শকদের অপেক্ষা।
