জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

বড় মঞ্চে গান গাওয়ার স্বপ্ন এখনও অধরা, তবু খালি গলায় গান গেয়ে কয়েক লক্ষেরও বেশি মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে গেলেন তানিয়া চৌধুরী! বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে এগিয়ে চলা এই তরুণীর গল্প সত্যিই অনুপ্রেরণার!

কখনও কখনও নিজের প্রতিভা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বড় কোনও মঞ্চের দরকার হয় না। প্রয়োজন হয় নিজের কণ্ঠের উপর বিশ্বাস এবং স্বপ্নকে ধরে রাখার ইচ্ছা। তানিয়া চৌধুরীর সঙ্গীতযাত্রা যেন সেই কথাই আরও একবার মনে করিয়ে দেয়। এখনও পেশাদার বড় মঞ্চে গান গাওয়ার সুযোগ পাননি তিনি। তবুও সেই আক্ষেপকে নিজের গানের পথে বাধা হতে দেননি। কোনও বাদ্যযন্ত্রের সাহায্য ছাড়াই খালি গলায় একটি গান গেয়ে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করেছিলেন তানিয়া। আর সেই গানই ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে বহু মানুষের কাছে। ইতিমধ্যেই তাঁর সেই গান এক লক্ষেরও বেশি ভিউ পেরিয়ে গিয়েছে।

তানিয়ার সঙ্গে সঙ্গীতের সম্পর্ক অবশ্য আজকের নয়। মাত্র ছয় বছর বয়স থেকেই গানের জগতে তাঁর পথচলা শুরু হয়। ছোটবেলায় তাঁর বাবা-মাই ছিলেন সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহ তৈরি করার প্রথম মানুষ। তাঁরাই তানিয়াকে গানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন এবং নিয়মিত উৎসাহ দিতে থাকেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলা গানের একাধিক শিল্পীর গানও তাঁকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। বিশেষ করে শ্রেয়া ঘোষাল এবং জয়তী চক্রবর্তীর গান তাঁর মনে আলাদা প্রভাব ফেলেছে। তাঁদের গান শুনতে শুনতেই নিজের কণ্ঠের আলাদা পরিচয় তৈরি করার ইচ্ছা আরও জোরালো হয়। সঙ্গীতকে তাই ধীরে ধীরে নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে তুলেছেন তানিয়া।

তানিয়ার এই পথচলায় পরিবারের ভূমিকা এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাবা-মা নিয়মিত তাঁর গান নিয়ে উৎসাহ দেন এবং স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে সাহস জোগান। পাশাপাশি তাঁর বড় ভাইও তাঁকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন। পরিবারের এই সমর্থন তানিয়ার কাছে শুধু উৎসাহ নয়, নিজের উপর বিশ্বাস রাখার বড় কারণ। তাঁর গানের প্রতি পরিবারের মানুষের আস্থা তাঁকে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা দেয়। তবে ইনস্টাগ্রামে নিজের গান এক লক্ষের বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে, তা তিনি নিজেও ভাবেননি। তাই এই সাফল্য তাঁর কাছে শুধুমাত্র একটি সংখ্যার হিসাব নয়। যাঁরা তাঁর গান শুনেছেন এবং ভালোবাসা ও উৎসাহ দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতিই কৃতজ্ঞ তানিয়া।

এক লক্ষের বেশি ভিউ পাওয়ার খবর তানিয়ার সঙ্গীতজীবনে নিঃসন্দেহে একটি বিশেষ মুহূর্ত। কারণ এখনও পর্যন্ত কোনও বড় পেশাদার মঞ্চে নিজের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ তাঁর আসেনি। তবুও সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে তাঁর কণ্ঠ পৌঁছে গিয়েছে বহু শ্রোতার কাছে। একটি সাধারণ খালি গলায় গাওয়া গান যে এত মানুষের ভালো লাগবে, তা তাঁর কাছেও ছিল অপ্রত্যাশিত। এই সাড়া তাঁকে আগামী দিনে আরও বেশি গান করার সাহস দিচ্ছে। শ্রোতাদের ভালোবাসাকে নিজের পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই দেখছেন তিনি। তাঁর কাছে প্রতিটি ভিউ এবং প্রতিটি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া নতুন করে অনুপ্রেরণা জোগায়। আর সেই কারণেই এই মুহূর্তটি তাঁর কাছে আবেগেরও।

তবে এই সাফল্যেই থেমে যেতে চান না তানিয়া। সঙ্গীতকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে নিয়েই ভবিষ্যতে এগিয়ে যেতে চান তিনি। আগামী দিনে যদি কোনও বড় সুযোগ তাঁর সামনে আসে, তাহলে নিজের প্রতিভার সেরাটা দিয়ে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চান। গান তাঁর কাছে শুধুমাত্র অবসর কাটানোর কোনও শখ নয়। বরং নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা একটি স্বপ্নের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে সঙ্গীত।সেই স্বপ্নকে বাস্তব করার জন্য নিয়মিত নিজের কণ্ঠ এবং দক্ষতাকে আরও ভালো করার চেষ্টা করছেন তিনি। পেশাদার মঞ্চে গান গাওয়ার সুযোগ পাওয়াও তাঁর ভবিষ্যতের অন্যতম বড় ইচ্ছে। তাই বর্তমানের এই ছোট সাফল্যকে তিনি আগামী দিনের পথচলার শুরু হিসেবেই দেখছেন।

তানিয়ার স্বপ্নের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাঁর বাবা-মায়ের স্বপ্নও। ছোটবেলায় যাঁরা তাঁর হাতে সঙ্গীতের প্রথম পাঠ তুলে দিয়েছিলেন, তাঁদের মুখে গর্বের হাসি দেখাই তাঁর অন্যতম বড় ইচ্ছে। নিজের স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি বাবা-মায়ের স্বপ্নও পূরণ করতে চান তিনি। বড় মঞ্চের আলো এখনও তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু সেই মঞ্চে ওঠার আগেই নিজের কণ্ঠের জোরে এক লক্ষের বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়া কম বড় সাফল্য নয়। তানিয়ার এই পথচলা দেখিয়ে দিচ্ছে, সুযোগ সবসময় শুরুতেই দরজায় কড়া নাড়ে না। তবুও প্রতিভা, পরিশ্রম এবং স্বপ্নকে থামিয়ে রাখার কোনও কারণ নেই। হয়তো একদিন এই এক লক্ষ শ্রোতার ভালোবাসাই তাঁকে নিয়ে যাবে সেই বহু প্রতীক্ষিত বড় মঞ্চে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page