নামী বেসরকারি স্কুলে সন্তানকে ভর্তি করানোর পর বাবা-মায়ের অন্যতম ভরসা থাকে সন্তানের নিরাপত্তা। কিন্তু সেই নিরাপত্তা নিয়েই এবার প্রশ্ন তুললেন অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। অভিনেত্রীর বোনের ছেলে মহেশতলার একটি বেসরকারি স্কুলে পড়ে। অভিযোগ, স্কুলে অন্য এক পড়ুয়ার আঘাতে তার চোখে গুরুতর চোট লাগে। ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, আহত শিশুটি প্রাক প্রাথমিক শ্রেণির পড়ুয়া। তার মা স্মিতা ঘোষ জানিয়েছেন, অন্য এক পড়ুয়ার আঘাতে সন্তানের চোখে চোট লাগে। তবে ঘটনার পর বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের জানানো হয়নি বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে তাঁরা জানতে পারেন, অভিভাবকদের কাছে ঘটনা না জানানোর জন্য শিশুটিকে অন্যভাবে বিষয়টি বলতে বলা হয়েছিল। এই অভিযোগ সত্যি হলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর বলেই মনে করছেন পরিবারের সদস্যরা।
ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর আবেদনও করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন শিশুটির মা। তাঁর অভিযোগ, কিন্তু সেই বিষয়ে স্কুলের তরফে প্রত্যাশিত সহযোগিতা এবং স্বচ্ছতা পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য, সন্তানকে স্কুলে পাঠানোর সময় অভিভাবকেরা প্রতিষ্ঠানের উপর বিশ্বাস রাখেন। কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত পরিবারকে জানানো, প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং ঘটনার তদন্তে সহযোগিতা করা স্কুল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
এই ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন শ্রাবন্তীও। তিনি স্পষ্ট ভাষায় অভিভাবকদের সতর্ক করে জানিয়েছেন, মহেশতলার ওই শাখায় সন্তানকে ভর্তি করানোর আগে তাঁরা যেন বিষয়টি ভেবে দেখেন। শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে এমন গাফিলতি মেনে নেওয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেছেন অভিনেত্রী। তাঁর পোস্টের পর ঘটনাটি আরও বেশি করে আলোচনায় এসেছে।
আরও পড়ুনঃ “এবার এই একই গল্পটা বাদ দিন, সবই কেমন একই রকম লাগছে, অস্বস্তি হচ্ছে!” ঝিনুকের জন্য একের পর এক ‘খু*ন’! সম্রাটের সন্দেহে চারজনের মৃ’ত্যু, ‘কমলা নিবাস’-এর এই গল্পে এবার বিরক্ত দর্শক? উঠল হয় গল্প পাল্টাও নয় ধারাবাহিক বন্ধ করো দাবী!
তবে পরিবারের মূল দাবি কোনও বিশেষ সুবিধা পাওয়া নয়, বরং ঘটনার সত্যিটা জানা এবং শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। শিশুটি কীভাবে আহত হল, ঘটনার পর ঠিক কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল এবং অভিভাবকদের কেন দ্রুত জানানো হয়নি, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। পুরো বিষয়টি নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা চেয়েছে পরিবার। শ্রাবন্তীর বক্তব্যেও একই সঙ্গে শিশুর নিরাপত্তা এবং অভিভাবকদের সচেতন থাকার বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে।
